নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : রাজ্যে ক্রমশ সুস্থতা বাড়ছে এটা ঠিক। কিন্তু এটাও ঠিক যে সংক্রমণ কিন্তু কমেনি। যে হারে রাজ্যে সুস্থতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে সেই হারে কিন্তু সংক্রমণ কমছে না। কার্যত একটি উনিশ-বিশ হলেও সংক্রমণ কিন্তু ভয়াল আকার নিতে পারে দক্ষিনবঙ্গের বুকে। একেই কলকাতা সহ দক্ষিনবঙ্গের জেলাগুলিতে পারা নামতে শুরু করে দিয়েছে। তারপর সামনেই দীপাবলি। আদালত যতই বাজি পোড়ানো বা তা বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করুক না কেন চোরাগোপ্তা তা বিক্রি ও ফাটানো যে হবেই সেটা পুলিশ প্রশাসনও মেনে নিচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবে সেই বাজির হাত ধরে কিছুটা হলেও বাড়বে দূষণ যা কোভিডে আক্রান্ত মানুষগুলির জীবন আরও বিপন্ন করে তুলবে। এর সঙ্গে এবার চালু হতে চলেছে লোকাল ট্রেন পরিষেবা। সেখানে দূরত্ববিধি না মানলে সংক্রমণ ভয়াল আকার নিতে পারে বলে এখন রীতিমত চিন্তিত চিকিৎসক থেকে বিশেষজ্ঞরা।
লোকাল ট্রেন চালু হলে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে তা রেল ও রাজ্য উভয়ই জানিয়ে দিয়েছে। কারশেডে লোকাল ট্রেনের রেকগুলি ভালো করে স্যানিটাউজড করা হবে রোজ। কিন্তু চলন্ত ট্রেনে ভিড় কতটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে আর সবাই সামাজিক দূরত্ব বা মাস্কবিধি মেনে চলবে কিনা তা নিয়েই চিন্তিত সবাই। অর্ধেক যাত্রী নিয়ে যে পরিষেবা চালুর কথা বলা হচ্ছে তাতে লোকাল ট্রেনের প্রতিটি রেকের প্রতিটি কামরায় অর্ধেক আসনে লাল কালি দিয়ে ক্রশ চিহ্ন এঁকে দেওয়া হচ্ছে যাতে সেখানে কেউ বসতে না পারেন। কিন্তু জিআরপি থেকে আরপিএফ মায় পুলিশও স্বীকার করছে ট্রেনে ভিড় মানলে আদৌ ওই সব আসন ফাঁকা থাকবে কিনা সন্দেহ। কেউ তা নিয়ে প্রতিবাদ করলেও তা কয়জন মানবে তা নিয়েও রীতিমত সন্দেহ রয়ে গিয়েছে। আবার ট্রেন চললে কাকে উঠতে দেওয়া হবে আর কাকে নয় সেই সংক্রান্ত কোনও বিধি না জারি হওয়ায় কার্যত কাউকেই ট্রেনে চড়া থেকে আটকানো যাবে না। আর তাউ ৬০০ যাত্রী নিয়ে লোকাল ট্রেন চালুর বার্তা দেওয়া হলেও ট্রেন প্রতি যে ৬০০০ যাত্রী যাতায়াত করবে না তার গ্যারেন্টি কোথায়।
এই অবস্থায় চিকিৎসকেরা সব থেকে বেশি চিন্তিত কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলা নিয়ে। কারন দেখা যাচ্ছে রাজ্যে যত সক্রিয় কোভিড কেস থাকছে আর যতজন মারা যাচ্ছেন তার অর্ধেকই কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা আর নদিয়া জেলার বাসিন্দা। এই চার জেলার মানুষই সব থেকে বেশি সংখ্যায় লোকাল ট্রেন চেপে কলকাতায় যাতায়াত করেন নিত্যদিন। আর এবারে শিয়ালদা ডিভিশনেউ সব থেকে বেশি ট্রেন চালানো হচ্ছে স্বাভাবিক ভাবেই লোকাল ট্রেন চালু হওয়ার পর এই চার জেলায় সংক্রমণ সব থেকে বেশি ছড়াবে বলেই চিকিৎসক থেকে বিশেষজ্ঞদের ধারনা। একই সঙ্গে তাঁদের চিন্তায় রাখছে হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান ও দুই মেদিনীপুরের পরিস্থিতিও। অনেকে তো আবার হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে লোকাল ট্রেন না চালানোর দাবিও করেছেন। কারন তাঁদের বক্তব্য, লোকাল ট্রেন চললে সংক্রমণ এতটাই ব্যাপক আকার নিতে পারে যা ঠেকানোর মতো পরিকাঠামো রাজ্য সরকারের নেই। ট্রেন চালু বন্ধ করা না গেলে ভুগতে হবে সেই আমজনতাকেই।
- লকআপ থেকে উধাও বন্দী - January 8, 2023
- নতুন বছরে সিদ্ধি বিনায়কে ভিকি-ক্যাটরিনা - January 6, 2023
- মেসির সংসার, হাতে বিশ্বকাপ, পাশে ১০ নম্বর জার্সিতে পরিবার - December 19, 2022

