নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : অবশেষে এসেই গেল পুজো। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো এদিন থেকেই কলকাতার মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমাতে শুরু করবেন দর্শনার্থীরা। কারন আজ তৃতীয়া। এদিন থেকেই কলকাতার বুকে সব মণ্ডপের দরজা দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার পাশাপাশি রাত জেগে ঠাকুরও দেখা যাবে। আর তাই এদিন সকাল থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুলিশের অগ্নিপরীক্ষা। একদিনে যানজট সামলানো, অন্যদিকে দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা। প্রতিবছর এই দুই দায়িত্ব পালন করতে রাস্তায় নেমে পড়ে কলকাতা পুলিশের পুরো বাহিনী। এবারে তার সঙ্গে বাড়তি দায়িত্ব কোভিডের সংক্রমণ ঠেকাতে আমজনতা থেকে পুজোকমিটিগুলি কোভিড বিধি মানছেন কিনা তা দেখা। স্বভাবতই বেশ চাপে রয়েছে অনুজ শর্মার বাহিনী।
সরকারি ভাবে এদিন থেকে কলকাতার বুকে পুজো শুরু হলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে প্রায় সব বড় বড় পুজো ইতিমধ্যেই উদ্বোধন হ্যে গিয়েছে। তার মধ্যে কিছু পুজো মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য দরজা খুলেও দিয়েছে। গত দুই দিন শনি ও রবিবার। পুজো আগে শেষ এই সপ্তাহন্তে সেই সব মণ্ডপগুলিতে কিন্তু মানুষের ভিড় জমতে দেখা গিয়েছে বিকালের পর থেকেই। মূলত আগে আগে ভিড় এড়িয়ে তাঁরা ঠাকুর দেখা শুরু করে দিয়েছেন। তবে গতকাল পর্যন্ত রাত জেগে ঠাকুর দেখার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। এদিন থেকে একাদশী পর্যন্ত সেই নিষেধাজ্ঞা কিন্তু উঠে যাচ্ছে। তাই এদিন রাত থেকেই কলকাতার বুকে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় উপচে পড়তে দেখা যাবে দর্শনার্থীদের। তবে কলকাতা পুলিশের অনুমান এবারে যেহেতু লোকাল ট্রেন চলছে না তা ভিন্ন জেলার ভিড় এবারে শহরে বেশ কমের দিকেই থাকবে। একই সঙ্গে এবারে যেহেতু সারা রাত মেট্রো রেল চলবে না তাই রাতের দিকে ভিড় নাও থাকতে পারে সেভাবে।তবে পুলিশের তরফে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। এই কোভিডকালে রাস্তায় বার হওয়া মানুষজন মুখে ঠিকমতো মাস্ক পরছেন কিনা, শারীরিক দূরত্ব মেনে চলছেন কিনা, ভিড় বা জমায়েত করছেন কিনা এসব তো তাঁরা দেখবেনই। সঙ্গে সামলাবেন রাস্তার যানজট ও ভিড়। অনেকেরই ধারনে কলকাতায় আগে পুজোর সময় যে ভিড় রাতের দিকে দেখা যেত এবারে সেই ভিড় দেখা যাবে সকালের দিকে। কারন সকাল থেকেই মিলমে মেট্রো রেলের সুবিধা। তাই অনেকেই সকাল সকাল বাড়ি থেকে বেড়িয়ে মেট্রো ধরে যতটা সম্ভব বেশি ঠাকুর দেখে নিতে পছন্দ করবেন। তবে বেসরকারি বাস পরিষেবা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। কারন এমনিতেই এখন প্রায় সব রুটেই অর্ধেক বাস চলছে। ছুটির দিনে তা আরও কমে ৩০ শতাংশে দাঁড়াচ্ছে। পুজোর সময় এই বাসের অভাব থেকে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই বেসরকারি বাস মালিকদের তরফ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে এবারে যাত্রী ভোগান্তি ঠেকাতে রাস্তায় নামা বাস না তুলে বসে থাকা বাস যেন তোলা হয়। একই সঙ্গে বাসের অভাব পূরণ করতে অটো চলাচলের ওপর যেন কম বিধি নিষেধ জারি হয়। এখন দেখার বিষয় এই সব সমস্যা কলকাতা পুলিশ কীভাবে কাটাতে সক্ষম হয়।
Latest posts by new_author (see all)
- লকআপ থেকে উধাও বন্দী - January 8, 2023
- নতুন বছরে সিদ্ধি বিনায়কে ভিকি-ক্যাটরিনা - January 6, 2023
- মেসির সংসার, হাতে বিশ্বকাপ, পাশে ১০ নম্বর জার্সিতে পরিবার - December 19, 2022

