জরায়ুতে ক্ষত! প্রকাশ্যে হাথরাসের ধর্ষিতা তরুণীর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : দীর্ঘ ১৫ দিন লড়াইয়ের পর সোমবার মৃত্যু হয় হাথরাস ধর্ষণকাণ্ডের নির্যাতিতার। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই দোষীদের শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ শুরু হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এরমধ্যেই মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এল মৃতার ময়নাতদন্তেরর রিপোর্ট। জানা যাচ্ছে গত মঙ্গলবার দিল্লি হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রকাশিত করা হয় এই রিপোর্ট। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে কার্ভিকাল স্পাইন ইনজুরি অর্থাৎ জরায়ুর মেরুদণ্ডে আঘাত এবং শ্বাসরোধের কারণে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে শরীরের একাধিক অংশে গভীর ক্ষতচিহ্ন ছিল এবং জিভের একাংশ কাটা ছিল। ঘাড়ে ব্যাথার কারণে সে ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছিল না। ফলে তাঁর মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ এবং সেই সঙ্গে জরায়ুতে ক্ষতও। রিপোর্টে এটাও উল্লেখ আছে যে আক্রমণকারীরা তাকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা কোনওভাবে ব্যর্থ হয়।

প্রসঙ্গত, দিন ১৫ আগে তাঁর সন্ধান যখন পাওয়া গিয়েছিল তখন তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দিল্লি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল বছর ২০-র ওই তরুণী দলিত সম্প্রদায়ের। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় চার যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁরা তথাকথিত উঁচু জাতের ছেলে। তবে সোমবার তরুণীর মৃত্যু হয়।

এরপরেই শুরু হয় পুলিশি জুলুম। তরুণীর মৃতদেহ পরিবারের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সৎকার করার দায়িত্ব নেয় রাজ্যের পুলিশ। যা পুরোপুরি অসাংবিধানিক। সোমবার রাত আড়াইটে নাগাদ তাঁর দেহ সৎকার করে। সেই সময়কার একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা গিয়েছে রাতের অন্ধকারে গমের ক্ষেতে দেহ পোড়াচ্ছে পুলিশ।

এমনকি ওই এলাকায় যাতে অন্য কেউ না ঢুকতে পারে সেই জন্য অসংখ্য পুলিশ ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে। মৃতার পরিবারের দাবি, তাঁদের হাতে দেহ তুলে দেওয়ার একদিন আগেই এমনটা করা হয়েছে। এমনকি তাঁদের থেকে কোনও অনুমতিও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও রাজ্যের পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে তাঁদের অনুমতি নিয়েই এই কাজ করা হয়েছে এবং ওই সময় উপস্থিত ছিলেন মৃতার পরিবারের সদস্য। তবে এই যুক্তির কোনও প্রমাণ এখনও দিতে পারেনি রাজ্য পুলিশ।

Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube