নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : লকডাউনের জেরে প্রথম দিন থেকে সংকটের মুখে পড়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। কাজ হারিয়ে খাদ্য ও বাসস্থানের অভাবে অনেকেই পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। যার জেরে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। শুক্রবার মহারাষ্ট্রে মালবাহী ট্রেনের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ১৫ জন পরিযায়ী শ্রমিকের। এদিনই ফের ঘটল আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা। লকডাউনের জেরে বাড়ি ফিরতে না পেরে অবশেষে উত্তরপ্রদেশ থেকে সাইকেলে করেই ছত্তিশগড়ের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন এক শ্রমিক দম্পতি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হলনা তাঁদের। রাস্তায় গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় ওই দম্পতির। তাঁদের সঙ্গে থাকা দুই সন্তান বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
কপালে মৃত্যু থাকলে, তা আর কে আটকাতে পারে! জানা গিয়েছে, করোনার জেরে দেশজুড়ে লকডাউন চলায় ২৫ মার্চ থেকে ভিন রাজ্যে আটকে পড়েছিলেন ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা কৃষ্ণা ও প্রমিলা সাউ। উত্তরপ্রদেশের লখনউতে তাঁরা শ্রমিকের কাজ করতেন। সেখানে জানকী পুরম এলাকার একটি বস্তিতে থাকতেন তাঁরা। সাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লখনউয়ের শহিদ পাঠ এলাকায় একটি গাড়ি তাঁদের ধাক্কা মারে। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই স্থানীয়রা তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎলসকেরা ওই দম্পতিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে তাঁদের দুই সন্তান নিখিল (৩ বছর) এবং চাঁদনি (৪ বছর) আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। কোন গাড়ির তাঁদের ধাক্কা মেরেছে, ইতিমধ্যেই তার খোঁজ শুরু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রসঙ্গে ডিএসপি পূর্ব সোমান বর্মা বলেন, ‘ছত্তিশগঢ়ের দুই শ্রমিক কৃষ্ণ ও তাঁর স্ত্রী প্রমিলার মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের তিন বছরের ছেলে নিখিল ও চার বছরের মেয়ে চাঁদনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। তাদের লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’ অন্যদিকে খবর পেয়েই সাথে সাথে লখনউ পৌঁছায় মৃত ওি দম্পতির পরিবারের লোকজন। সেখানেই শেষকৃত্য হবে বলে জানা গিয়েছে। এবিষয়ে কৃষ্ণের দাদা রাজকুমার জানিয়েছেন, ‘লকডাউনে ভাইয়ের কোনও কাজ ছিল না। জমানো সব টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল। সে জন্যই বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরছিল ওরা।’Latest posts by news_time (see all)
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

