১০ ঘণ্টায় ১০০ কোটি টাকার মদ বিক্রি, সুরাপ্রেমীদের দৌলতে নয়া রেকর্ড বাংলায়

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : মারণ ভাইরাস করেনার সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে তৃতীয় দফায় চলছে লকডাউন। গত ৪ মে থেকে দেশে তৃতীয় দফার লকডাউন কার্যকর হয়েছে। প্রথম দুটি দফার লকডাউন চলাকালীন প্রয়োজনীয় পণ্য ও জরুরি পরিষেবা ছাড়া বন্ধ ছিল প্রায় সব কিছুই। আর তখন থেকেই সমস্যায় পড়েছিলেন সুরাপ্রেমীরা। তাই লকডাউনের মেয়াদ বর্ধিত হওয়ায় সেই সমস্ত মানুষগুলোর কথা চিন্তা করে এবং সর্বপরী দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে মদের দোকান খোলার ক্ষেত্রে সবুজসংকেত দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই মর্মে গ্রিন জোন গুলির পাশাপাশি ওরেঞ্জ ও রেড জোন গুলিতেও মদের দোকান খোলার কথা ঘোষণা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। দোকান খেলার পরেই মদ বিক্রির নতুন রেকর্ড গড়েছে রাজ্যে। মাত্র ১০ ঘন্টাতে ১০০ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে বাংলায় । 

প্রায় মাস দেড়েক পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনেই সোমবার রাজ্যে মদের দোকান খোলা হয়। এদিন বিকেল ৩টে থেকে রাজ্যের দোকানগুলিতে মদ বিক্রি শুরু হয়। মঙ্গলবার মদের দোকান খোলা হয় বেলা ১২টার দিকে। প্রথমদিনই প্রায় ৪০ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয় বাংলায়। মঙ্গলবারে তা বেড়ে হয় ৬৫ কোটি। গত দু’দিনে মদের বিক্রি গত ৪০ দিনের ক্ষতির ভার পুষিয়ে দিয়েছে বলেই এদিন দাবি, রিটেলার ও হোলসেলারদের। 

জানা গিয়েছে এই মদ শিল্পের মাধ্য়মে রাজ্য সরকারের আয় ১৬ হাজার থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা। তবে গত দু’দিনে মদের দোকান খোলায় প্রতিদিন গড়ে মদ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪০-৪৫ কোটি টাকার। রিটেলারদের কথায়, যদি সোমবার গোটা দিন মদ বিক্রির সুযোগ মিলত তাহলে ১২৫ কোটির থেকেও বেশি টাকার ব্যবসা করা সম্ভব হত। 

এক শীর্ষ খুচরো বিক্রেতার কথায়, ‘মঙ্গলবার রাজ্যের ২,৫০০ মদের দোকানের মধ্যে প্রায় ১৭০০-১৮০০টি খুলেছে। দেরিতে নির্দেশ আসায় কনটেনমেন্ট জোনে না-থাকা কলকাতা ও হাওড়ার বেশ কিছু দোকান খুলতে পারেনি। তবে তা মঙ্গলবার থেকে খুলে যায়, এবং তার দারুণ চাহিদা ছিল।’

করোনার জেরে গত গত ৯ এপ্রিল  মদের উপর অতিরিক্ত ৩০% বিক্রয় কর বসায় রাজ্য সরকার। তার লেবেলিং করতে বেশ খানিকটা সমস্যাতেও পড়তে হয় দোকানমালিকদের। সোমবার সবকিছুর পর যখন অবশেষে মদের দোকান খোলা হয়, তখন সমাজিক দূরত্ব না মেনেই শুরু হয় মদ কোনার পালা। জমায়েত ভাঙতে পুলিশ লাঠিচার্যও করে। বন্ধ করে দেওয়া হয় বেশ কিছু দোকানও। কিন্তু মদের এই চাহিদার দিকটি বিবেচনা করে এবং জমায়েত কল করার স্বার্থে দের হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা শুরু হয় বাংলায়। ওয়েস্ট বেঙ্গল Bevco-এর পোর্টালে ইতোমধ্যে একটি ‘E-retail’ অপশন চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে অর্ডার করা হলে বাড়ির সামনের মদের দোকান থেকে বাড়িতে বসেই এবার থেকে মদ পেতে পারবেন সকলে।

 

 

 

Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube