বিশ্বকাপের ক্ষুদ্রতম রেপ্লিকা বানিয়ে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম তুললেন বাংলার যুবক

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক :

করোনা বর্তমানে দেশবাসীর মনে আতঙ্কের সঞ্চার করেছে। দিনের শুরু থেকে শেষ, পুরোটাই যেন কাটছে একটা দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিয়ে। মৃত্যু সংবাদ যেন নিত্যনৈতিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের রাজ্যবাসীর জন্য এক সুখবর আনল পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার খাকুড়দার সুমন মান্না। সবচেয়ে ছোট ওয়ার্ল্ড কাপ রেপ্লিকা বানিয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সুমন। তবে এখানেই শেষ নয়। তাঁর তৈরি ক্ষুদ্র ওই ওয়ার্ল্ড কাপ রেপ্লিকা ইতিমধ্যেই জাতীয় রেকর্ড সংস্থায় জায়গা করে নিয়েছে।

সুমন নামের ওই যুবক ওয়ার্ল্ড কাপ রেপ্লিকাটি বানিয়েছেন দেশলাই কাঠি দিয়ে। যার উচ্চতা মাত্র ১২ মিলিমিটার। এক ঘন্টারও কম সময়ে তথা ৫০ মিনিটে তিনি এটি বানিয়ে ফেলেছেন। পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক সুমন। কিন্তু তাঁর শিল্পীসত্ত্বা তাঁকে এইটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে দেয়নি। সব সময় তাঁর মনে ছিল নতুন কিছু করার ইচ্ছা। প্রথমদিকে একজন চিত্রকর হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অনটন তাঁর সেই স্বপ্নে একপ্রকার জল ঢেলে দিয়েছিল। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ না হলেও কোন ভাবেই থেমে যাননি তিনি। বাংলা চ‍্যানেলের হাসির শো ‘মিরাক্কেলে’ অংশগ্রহন করেন তিনি। তারপর থেকেই নিজের জেলা তথা পশ্চিম মেদিনীপুরে তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে। তবে শুধু জেলার মধ্যেই যে তিনি সীমাবদ্ধ থাকতে চাননা। দেশের মুখ উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে অবশেষে দেশলাই কাঠি দিয়ে বানিয়ে ফেললেন মাত্র ১২ মিলিমিটার উচ্চতার আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ রেপ্লিকা।  

প্রথমে কাজটি করার পরেই এশিয়ান বুক অফ রেকর্ডসের আওতাভুক্ত জাতীয় রেকর্ড অন্তর্ভুক্তকারী সংস্থা ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে (আইবিআর) নিজের তৈরি ওই ওয়ার্ল্ড কাপ রেপ্লিকা ই-মেল মারফত পাঠান। ই-মেলের উত্তরে ওই সংস্থা সেই কাজটি করে দেখানোর জন্য বলে। একইসাথে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় গাইডলাইনও দিয়ে দেওয়া হয়। তা মেনেই ২০২০ সালের ৩ মার্চ ক‍্যামেরার সামনে ফের ওই কাজ করে দেখান। আগের মতোই তা বানাতে সময় লাগে ৫০ মিনিট। এবং সেটির উচ্চতা পরিমাপ করে দেখা যায় ১২ মিলিমিটার। এরপরেই নির্দেশ মেনে সমস্ত তথ্য ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের দপ্তরে পাঠান তিনি। সুমনবাবুর কাজ ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে স্থান পেয়েছে বলে ৬ মার্চ খবর আসে। এরপরেই ২৯ এপ্রিল স্বীকৃতিস্বরূপ স্মারক সহ আইবিআর মডেল ও সার্টিফিকেট সুমনবাবুকে পাঠানে হয়। করোনার জেরে দেশের ওই সংকটময় পরিস্থিতিতির কারনেই এগুলি আসতে দেরি হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে নিজের এই কৃতিত্বের পেছনে তাঁর মায়ের অনেকখানি অবদান আছে বলে এদিন জানান সুমনবাবু। 

ইতিমধ্যেই আরও দুটি দেশীর রেকর্ডের কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে এদিন দাবি করেন সুমনবাবু। তবে তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য এখন গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম তোলা।

 

 

Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube