নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের হিউসটন শহরে করোনা আক্রান্ত তিন মার্কিন-ভারতীয় নাগরীকের সেরে ওঠার কথা জানাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই তিনজনকেই পূর্বে সেরে ওঠা কোভিড রোগীদের শরীর থেকে নেওয়া রক্তরস বা প্লাজমা দেওয়ার পরই সুস্থ হয়ে ওঠেন এই তিনজন। এই কথা জানান তাঁরা।
বর্তমানে করোনা প্রতিশেধক নিয়ে গবেষণা চললেও তা তৈরি হতে এখনও বেশ সময় লাগবে। কিন্তু প্রত্যেকদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। মার্কিনযুক্ত রাষ্ট্র বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে আছে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসকরা বিভিন্ন রকম চিকিৎসা পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। যার মধ্যে এটুঋই একটি পূর্ব ব্যবহৃত প্রক্রিয়া যা আগে চিকিৎসায় ফলপ্রসু হলেও এই পরিস্থিতিতে কতটা কাজ করবে তা নিয়ে এখনও ধন্ধে আছেন চিকিৎসকরা। কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপি প্রক্রিয়ায় মুলত সুস্থ হয়ে ওঠা কোভিড রোগীদের শরীর থেকে প্লাজমা বা রক্তরস নিয়ে, সঙ্কটজনক অবস্থায় থাকা কোভিড রোগীদের শরীরে দেওয়া হয়। এর ফলে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির রক্তরসে থাকা যে সমস্ত অ্যান্টিবডি কোভিড প্রতিশেধক হিসেবে কাজ করেছে সেগুলিই এই সংক্রামিত রোগীর শরীরে কাজ করে। মানবদেহে রক্তের সাথে মিশে থাকা যে সমস্ত প্রোটিন কণা শরীরে আগত ইনফেকশনের সাথে লড়াই করে তাদের মধ্যে একটি হল অ্যান্টিবডি। এই অ্যান্টিবডি একে অন্যকে নকল করে ক্রমাগত একই রকম প্রোটিন কণা দেহে তৈরি করে যাতে দেহে উপস্থিত ইনফেকশনের সাথে ক্রমাগত লড়াই করে শরীরকে ইনফেকশন মুক্ত করতে পারে। বর্তমানে করোনার প্রতিসেধক না থাকায় চিকিৎসকরা কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপির ওপরই নির্ভর করছেন কারণ এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোনোরকম ঝুঁকি নেই, এবং কার্যকরিও। এর আগেও বিভিন্ন মহামারির সময়ে এই প্রক্রিয়া কাজে লেগেছে চিকিৎসায়। হিউসটনের বেইলোর কলেজ অব মেডিসিনের অন্তর্গত বেইলোর সেন্ট লিউকস মেডিক্যাল সেন্টারে ৫ জন কোভিড রোগীকে এই কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপির সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়েছে, যা ফলপ্রসুও হয়েছে বলে জানান এই প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা অশোক বালাসুব্রমনিয়ম। এই প্রতিষ্টান কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপির প্রক্রিয়া গবেষণার অংশ হিসেবে শুরু করার অনুমতি পেয়েছে প্রসাসনের তরফ থেকে, যা আর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে। তিন ভারতীয় আক্রান্ত সেন্ট লিউকস মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসারত, এবং ইতিমধ্যেই একই ব্লাড গ্রুপের প্লাজমা দাতা খুঁজে পেয়েছেন। হাসপাতালের তরফ তেকে জানানো হয় এই তিনজনেরই অবস্থা বেশ ভালো এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এখন আরও প্লাজমা দাতার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা।Latest posts by new_author (see all)
- লকআপ থেকে উধাও বন্দী - January 8, 2023
- নতুন বছরে সিদ্ধি বিনায়কে ভিকি-ক্যাটরিনা - January 6, 2023
- মেসির সংসার, হাতে বিশ্বকাপ, পাশে ১০ নম্বর জার্সিতে পরিবার - December 19, 2022

