ধর্মীয় হিংসা ভুলে ডাক্তার নার্সদের সুরক্ষা বস্ত্র তৈরীতে সামিল রোশনারা সুস্মিতারা

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : করোনা আতঙ্কের মধ্যেই দেখা গেল সৌভাতৃত্বের চিত্র। যেখানে গোটা দেশ নিজামুদ্দিনের ঘটনাকে নিয়ে এই মহামারিতে ও ধর্মীয় রঙ ছড়ানোর চেষ্টা করছে সেখানে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেল  কলকাতায়।

 করোনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে রোশনারা সুস্মিতারা ৷ সবাই যখন লকডাউনের জন্য গৄহবন্দী তখন প্রতিদিন অনেকটা পথ সাইকেলে পাড়ি দিয়ে কারখানায় এসে তৈরি করছেন বিশেষ পোশাক ৷ যার আক্ষরিক নাম পিপিই অর্থাৎ পার্সোনাল প্রটেকশান ইকুভমেন্ট ৷ রাজ্য সরকারের নির্দেশে সোনারপুরের একটি কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে এই পোশাক ৷ প্রতিদিন পাঁচ হাজার পোষাক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৷ এরজন্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট একশো পঞ্চাশ জন মহিলা এই কাজের সাথে যুক্ত রয়েছেন ৷ এইভাবে করোনার বিরুদ্ধে নিজেদের সামিল করতে পেরে খুশি তারা ৷ তবে এরজন্য তাদের একাধিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হচ্ছে।কি কি নিয়ম মানছেন তাঁরা?

 

১) নিয়ম মেনে প্রথমেই নির্দিষ্ট দুরত্ব অনুযায়ী লাইন দিয়ে দাঁড়াচ্ছেন তারা ৷

২) প্রত্যেকের হাতে দেওয়া হচ্ছে হ্যান্ডওয়াশ, হাত ধুয়ে আসার পর বিশেষ ক্যামিকেল দিয়ে প্রত্যেকের শরীরে স্প্রে করানো হচ্ছে ৷ তারপরেই কারখানার মধ্যে ঢুকতে পারছেন তারা ৷

৩) নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রত্যেককে দেওয়া হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ৷

৪) প্রত্যেকেই কাজ করছেন নির্দিষ্ট দুরত্বে বসে ৷

৫) কারখানাটিও নিয়মিত স্যানিটাইজ করা হচ্ছে ৷

৬) কোনও কারণে কেউ বাইরে বের হলে তাকে ফের উপরিউক্ত প্রক্রিয়াগুলি মানতে হচ্ছে ৷

 

এবার আসা যাক কিভাবে তৈরি করা হচ্ছে এই পোশাক

১) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে কাপড়

২) সেই কাপড় সরকারের দেওয়া স্যাম্পল অনুযায়ী প্রথমে কাটা হচ্ছে।

৩) কাটিং করার পর ধাপে ধাপে লুপ সেলাই, জিপার জয়েন, পিছনের অংশ সেলাই, পা ও হাতের ইলাস্টিক সেলাই, সোল্ডার জয়েন, ইনসিম, ক্যাপ অ্যাটাচ, বেল্ট অ্যাটাচ প্যাক। করা হচ্ছে ৷ পায়ের পাতা থেকে মাথা পর্যন্ত একটিই অংশ ৷ চেন খুলে পোষাক পরতে হবে ৷ প্রতিটি টেবিলে আলাদা আলাদা অংশের কাজ করা হচ্ছে ৷ যিনি লুপ সেলাই করছেন তিনি শুধু লুপ সেলাইয়ের কাজই করছেন ৷

৪) এই পোশাকের বাইরে শুধু আলাদা করে তৈরি করা হচ্ছে মাস্ক ৷

৫) পুরো অংশ তৈরি হয়ে গেলে তা ফের স্যানিটাইজ করে ভাঁজ করেই প্যাকিং করা হচ্ছে ৷

৬) সংস্থার পক্ষ থেকেই রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট করা জায়গায় ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে ৷

৭) তবে এই পোশাক কেবলমাত্র একবারই ব্যবহার করার জন্য ৷ অর্থাৎ একবার ব্যবহার করেই তা ফেলে দিতে হবে ৷

 

Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube