এএফসি’র ক্লাব লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ মোহন-ইস্ট, বিপাকে মহামেডান

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক :

বিগত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকতার অপর নাম মোহনবাগান। এবারেও তারা দ্বিমুকুট জয়ী দল। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ এবার নিজেদের মেলে ধরবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তার আগেই মোলিনা বাহিনীর জন্য সুখবর। এএফসি’র ক্লাব লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় পাশ করল মোহনবাগান। এর ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টুয়ে খেলতে পারবে মেরিনার্সরা।

এমন খবরে যারপরনাই খুশির হাওয়া মোহনবাগান শিবিরে। সমর্থকরাও আনন্দিত। লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হয়েছে মোহনবাগানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলও। তবে কলকাতার আরেক ক্লাব মহামেডান স্পোর্টিংয়ের লাইসেন্সিংয়ের আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। আবেদন আটকে গিয়েছে চার্চিল ব্রাদার্স ও ইন্টার কাশীরও।

আইএসএলের ১৩টি ক্লাব এবং আই লিগ থেকে আইএসএলে ওঠার দৌড়ে থাকা দুই ক্লাব-সহ মোট ১৫টি ভারতীয় ক্লাব প্রিমিয়ার-১ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে। প্রসঙ্গত, কোনওরকম সমস্যা ছাড়াই এই পরীক্ষায় পাশ করে একমাত্র পাঞ্জাব এফসি। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল-সহ সাত আইএসএল ক্লাব বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় শর্তসাপেক্ষে উত্তীর্ণ হয়েছে। বাকি ক্লাবগুলি হল বেঙ্গালুরু এফসি, মুম্বই সিটি এফসি, জামশেদপুর এফসি, এফসি গোয়া এবং চেন্নাইয়িন এফসি। এই সব ক্লাবের আইএসএল বা এএফসি’র প্রতিযোগিতায় খেলতে কোনও বাধা নেই।

অন্যদিকে, মহামেডান ছাড়াও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি ডুরান্ড কাপ জয়ী নর্থইস্ট ইউনাইটেড, হায়দরাবাদ এফসি, কেরালা ব্লাস্টার্স এফসি, ওড়িশা এফসি’র মতো ক্লাবগুলি। তারা আইএসএল খেলার জন্য আবার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে। যদিও এএফসি’র কোনও প্রতিযোগিতায় এই ক্লাবগুলি খেলতে পারবে না।


লিগে ১১ ভূমিপুত্র খেলানোয় সম্মতি ভবানীপুরের, ক্রীড়ামন্ত্রীর পরামর্শের পরও নিয়ম চালুতে ব্যির্থ আইএফএ মাস কয়েক আগেই একটা অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বাংলার ফুটবল। সন্তোষ ট্রফি জয়ী দলের সব সদস্যকেই চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু ঘোষণা নয়, সেই ফুটবলারদের অধিকাংশই ইতিমধ্যে কাজে যোগ দিয়েছেন। বঙ্গ ফুটবলের ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেনি আগে। আর বাংলার সন্তোষ জয়ী দলকে ভবানীপুর ক্লাবের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেছিলেন, কলকাতা লিগের প্রতি দলে খেলানো হোক ১১ জন ভূমিপুত্রকে। যাতে উন্নতি হয় বঙ্গ ফুটবলের।

ক্রীড়ামন্ত্রীর সেই স্বপ্ন আগামী মরশুমেও পূরণ করতে পারছে না আইএফএ। কারণ বৃহস্পতিবার লিগের ক্লাবদের সঙ্গে বৈঠকের পর তারা জানিয়েছে, আসন্ন কলকাতা লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশনে প্রথম একাদশে পাঁচ ভূমিপুত্র খেলানো বাধ্যতামূলক করা হবে। অর্থাৎ ক্রীড়ামন্ত্রীর কথামতো ১১ জন ভূমিপুত্র খেলানো তো দূর, তার অর্ধেকও করতে পারল না আইএফএ!

অবশ্য আসন্ন লিগে ১১ জন ভূমিপুত্র খেলানোর কোনও পরিকল্পনা ছিল না আইএফএ’র। বরং তারা বর্তমান নিয়মে থাকা চার ভূমিপুত্রকে বাড়িয়ে সাত করার কথা ভেবেছিল। সেইমতো আগেই গভর্নিং বডির মিটিংয়ে প্রস্তাব পাশ করিয়ে রেখেছিল বঙ্গ ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা। অর্থাৎ, আসন্ন লিগে ক্রীড়ামন্ত্রীর পরামর্শ মানার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না আইএফএ’র। এদিন বৈঠকে ক্লাবগুলিকে আইএফএ ৭ ভূমিপুত্রের নিয়ম চালু করার প্রস্তাব দেয়। যদিও ভবানীপুর ক্লাবের মতো দু-একটি ক্লাব সেই প্রস্তাব শুনে পালটা ১১ ভূমিপুত্র বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানায়।

তবে সেই দাবিতে কান দেয়নি আইএফএ। এমনকী এর আগে ভবানীপুর ক্লাবের সংবর্ধনা মঞ্চে ক্রীড়ামন্ত্রীর মুখে ১১ জন ভূমিপুত্রের কথা শুনে যাঁরা বাহবা দিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই এদিন ভবানীপুরের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। ওই ক্লাব কর্তাদের একাংশ আইএফএ’র দেওয়া সাত ভূমিপুত্রের নিয়মে রাজি হননি।

শেষপর্যন্ত অধিকাংশ ক্লাব সাত ভূমিপুত্রের নিয়মে সম্মত হলেও মূলত ওই মুষ্টিমেয় কর্তার চাপেই শেষ পর্যন্ত মাত্র পাঁচ ভূমিপুত্রের নিয়ম চালু করে আইএফএ। যা নিয়ে আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্তের বক্তব্য, “ক্লাবগুলি জানিয়েছে যথেষ্ট ভূমিপুত্র ফুটবলার পাওয়া যাচ্ছে না। আর আইএসএলের ক্লাবগুলির কিছু বক্তব্য ছিল। আমরা সবকিছু বিবেচনা করেই পাঁচ ভূমিপুত্র বাধ্যতামূলকের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

এর পাশাপাশি লিগের আরও কিছু নিয়ম বদল করা হয়েছে এদিনের বৈঠকে। এবার থেকে গ্রুপ পর্বে পাওয়া পয়েন্ট চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডে ‘ক্যারি ফরোয়ার্ড’ হবে না। এমনকী এই রাউন্ডে ক্লাবগুলি আর নিজেদের গ্রুপ থেকে আসা অন্য দুই ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলবে না। অর্থাৎ কমছে লিগের ম্যাচ সংখ্যা।

তবে রেলিগেশন রাউন্ডে পয়েন্ট ‘ক্যারি ফরোয়ার্ড’ হবে। এদিনের বৈঠকে আসেননি মোহনবাগান, ডায়মন্ড হারবার এফসি, মেসারার্স ক্লাব এবং বিএসএসের কোনও প্রতিনিধি। মোহনবাগানের কর্তা বিনয় চোপড়ার বক্তব্য, একদিন আগেই বৈঠকের কথা জানানোয় প্রতিনিধি পাঠাতে পারেননি তাঁরা। অন্যদিকে ডায়মন্ড হারবার জানিয়েছে, ইমেল না দেখায় আসতে পারেনি তারা।

Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube