গত ৯ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণ ও খুনের উল্লেখ স্পষ্ট ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তোলপাড় হয় গোটা বাংলা। বিচারের দাবিতে আন্দোলনের রেশ ছড়িয়ে পড়ে দেশ তথা গোটা বিশ্বে। পাঁচ মাস পর শনিবার শিয়ালদহ আদালতে হতে চলেছে রায়দান।
নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে শিয়ালদহ আদালত চত্বর। মহিলা পুলিশ সহ প্রায় ৩০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ডিসি নর্থ দীপক সরকার, ডিসি ইএসডি গৌরব লাল সহ সহ একাধিক ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিকরা রয়েছেন।ভিড় জমিয়েছে আমজনতাও। জমায়েত আটকাতে ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। আরজি করকাণ্ডে ধৃত সঞ্জয় রায়ের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভে বাংলা পক্ষ।
নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ।এরপর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে। জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের হয় শীর্ষ আদালতে। ১৪ আগস্ট বিচার চেয়ে রাতদখল কর্মসূচি করা হয়েছিল। ওই রাতেই আরজি কর হাসপাতালে ভাঙচুর করা হয়।
পথে নামে জুনিয়র চিকিৎসকেরা। বিচারের দাবিতে এবং তৎকালীন সিপি বিনীত গোয়েলের অপসারণের দাবিতে একের পর এক আন্দোলন-অনশন চলতে থাকে। দু’বার নবান্নে বৈঠক ভেস্তে গেলেও শেষপর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনায় বসেন আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকেরা। অনশন প্রত্যাহার করেন তাঁরা। জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি মেনে বিনীত গোয়েলকে কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদ থেকে সরানো হয়।
সিবিআই তদন্ত চালিয়ে সঞ্জয় রায়কেই ‘মূল অভিযুক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করে।গত বছর ধৃতের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করা হয়। নভেম্বর মাসে শিয়ালদহ আদালতে আরজি কর কাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। ঘটনার সাড়ে পাঁচ মাস পর রায়দান করবে শিয়ালদহ আদালত। নির্যাতিতা বিচার পাক, চাইছে গোটা দেশ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

