বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেল অসমের অহম রাজবংশের কবরের ঢিবি ‘মইডাম’। মৃত্যুর পর এখানেই কবর দেওয়া হত অহম রাজবংশের প্রতিনিধিদের। উত্তর পূর্ব ভারতে কবরের এই ঢিবিগুলিই ‘মইডাম’ নামে পরিচিত। এবার এগুলিকেই সাংস্কৃতিক সম্পত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। অহম রাজবংশের ঢিবির আকারে কবরস্থান, চরাইদেও মইডামকে বিশ্ব ঐতিহ্যে অন্তর্ভুক্ত করল ইউনেস্কো। এই স্থান অহম শাসনের ৬০০ বছরের সোনালি ইতিহাসের সাক্ষী। ২১শে জুলাই থেকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির ৪৬তম সম্মেলনে অহম রাজত্বের কাহিনি এবং তাদের রাজবংশের স্মৃতিস্তম্ভ এই পবিত্র সমাধিস্থলকে বিশ্ব ঐতিহ্যে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি সমাজ মাধ্যমে লেখেন, ‘এটা বিশাল ব্যাপার. মইডাম সাংস্কৃতি এবার ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে. অসমের জন্য এটা একটি দুর্দান্ত জয়’। চরাইদেও মইডাম কী? ২০২৩-২৪ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ভারতের মনোনয়ন হিসাবে ‘মইডাম’-এর নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকার ২০১৪ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের প্রাথমিক তালিকায় ঠাঁই পাওয়ার জন্য ইউনেস্কোর কাছে চড়াইদেও মইডামের নাম পাঠানোর পর, কেন্দ্রীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধিকর্তা এবং ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা একাধিকবার চরাইদেও মইডাম পরিদর্শন করেন।
রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন রাজার শাসনকালে নির্মিত সমাধির উপস্থিতি দেখা যায়। যা স্থানীয় ভাষায় পরিচিত মইডাম নামে। অন্যান্য স্থানের তুলনায় রাজ্যের আপার অসম অঞ্চলে অবস্থিত এবং অহম রাজ্যের পূর্ববর্তী রাজধানী চড়াইদেওতে বিপুল সংখ্যক ঐতিহাসিক মইডাম রয়েছে। এই মইডামগুলো আসলে মৃত ব্যক্তির কবরস্থান। তাই অহম রাজংবশের প্রতিনিধিরা মৃতদেহ পোড়ানোর পরিবর্তে, সমাধি দেওয়ার ঐতিহ্য পালন করতেন। রাজার মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা সমাধিস্থলে একটি মইডাম নির্মাণ করতেন। সেই ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, অসমবাসীরা মইডামগুলিকে পবিত্র স্থান হিসাবে বিবেচনা করে আসছে।
চড়াইদেও মইডামের ইতিহাস:
চড়াইদেও মইডাম হল বৃহত্তম ভূমি এলাকা, যেখানে প্রচুর সংখ্যক মইডাম রয়েছে। যেটা অহম রাজ্যের শাসনকালে নির্মিত হয়েছিল। ইতিহাসে উল্লিখিত, মইডামগুলি চড়াইদেও মইডাম নামে পরিচিত। কারণ সেখানে রাজপরিবারের সদস্যদের কবর দেওয়া হত। অহম রাজা চাওলুং সুকাফা তাঁর শাসনকালে চড়াইদেওতে রাজধানী স্থাপন করেন। সেই থেকে অহম রাজা এবং রাজপরিবারের মৃতদেহগুলিকে, সেখানে সমাধিস্থ করা হত বলে জানান ইতিহাসবিদ ডোমব্রুধর রাজকনওয়ার।
ঐতিহাসিক চড়াইদেও মইডাম এলাকায় ৫৭৮ বিঘা জমিতে ৪২ জন অহম রাজার সমাধিস্থল রয়েছে। এ ছাড়া চরইদেও মইডামের কাছে বিভিন্ন ছোট ছোট মইডাম রয়েছে। সেগুলি রাজ পরিবারের সদস্যদের সমাধিস্থল বলে মনে করা হয়। ঐতিহাসিক ডোমব্রুধর রাজকনওয়ারের মতে, একটি সময় ছিল যখন অহম রাজবংশের কেউ অন্য কোথাও মারা গেলেও, তাঁদের মৃতদেহ চরাইদেওতে এনেই কবর দেওয়া হত। তারপরে মইডাম স্থাপন করা হত। এখনও পর্যন্ত পুরো চরাইদেও জেলায় দেড় শতাধিক মইডাম উদ্ধার হয়েছে। তবে মইডাম আবিষ্কার ও শনাক্তকরণে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং ঐতিহাসিকরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন ঐতিহাসিক রাজকনওয়ার। চড়াইদেও মইডাম এলাকার ভিতরে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য বেশ কয়েকবার সেখানে খনন কার্য চলেছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এই খোঁড়াখুঁড়ির সময় অহম আমলে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বহু বছর ধরে সবাই দাবি করে এসেছিলেন যে অহম শাসনের সোনালি ইতিহাসের স্বাক্ষর বহনকারী এই ঐতিহাসিক চরাইদেও মইডাম এলাকাটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হোক। অবশেষে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে সেই ভূমিকা পালন করল।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

