বিধ্বংসী দাবানলের গ্রাসে পশ্চিম কানাডার জনপ্রিয় পর্যটন শহর জ্যাসপার। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলিকে বাঁচাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দমকল কর্মীরা কাজ করে চলেছেন। এই শহরেই রয়েছে কানাডার ঐতিহ্যশালী জ্যাসপার ন্যাশনাল পার্ক। প্রতি বছর প্রায় কুড়ি লক্ষ পর্যটকের সমাগম হয় এই পার্কে।
সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, জ্যাসপারে দাবানলে আগুনের শিখা ৪০০ ফুট উচ্চতায় উঠেছে এবং মিনিটে ১৫ মিটার বেগে সেটি ছড়াচ্ছে। কানাডার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গিয়েছে, জ্যাসপার ন্যাশনাল পার্কের রাস্তাগুলিতে সারি সারি ছাই, আগুনে ভস্মীভুত গাড়ির ছবি। আতঙ্কে প্রায় কুড়ি হাজার পর্যটক এবং পাঁচ হাজার স্থানীয় বাসিন্দা পার্ক সংলগ্ন এলাকা ছেড়ে। অ্যালবার্টা প্রদেশের দিকে চলে গিয়েছেন। পার্কস কানাডা এক বিবৃতিতে বলেছে, অনলাইনে ছড়ানো ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, শহরের ভেতরে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে শহরের এত ক্ষয়ক্ষতির পরেও জনগণকে রক্ষা করা গেছে। এটাই আপাতত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন জ্যাসপার মেয়র রিচার্ড আয়ারল্যান্ড।
আগুনে ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর মধ্যে একটি ছিল শহরের দক্ষিণে ম্যালিগেন লজ হোটেল। রেস্তোরাঁর মালিক ক্যারিন ডেকোর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। এতগুলো পরিবার ও মানুষ শুধু তাদের জিনিসপত্রই হারায়নি, তাদের জীবিকা ও একটি সুন্দর পার্কও হারিয়েছে’। এদিকে এনভায়রোমেন্ট কানাডা বৃহস্পতিবার ১০ থেকে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে দাবানল নিয়ন্ত্রণ করতে দমকলকর্মীদের সুবিধা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সেদেশের সরকার বলেছিল, উচ্চ তাপমাত্রা এবং বনাঞ্চল শুকিয়ে যাওয়ায় চলতি বছরটি কানডার জন্য দাবানলের জন্য সবচেয়ে খারাপ বছর হতে পারে। আলবার্টায় বর্তমানে ১৭৫টি দাবানল জ্বলছে। যার মধ্যে ৫০টিরও বেশি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ২০১৬ সালে ফোর্ট ম্যাকমুরের তেল কেন্দ্রে আঘাত হানা অগ্নিকাণ্ডের পর জ্যাসপারের দাবানল আলবার্টা প্রদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকারক হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
সাম্প্রতিক আগুনে শহরের কাঠামোর প্রায় ৪০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলবার্টার দাবানল নিয়ন্ত্রণে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সাহায্যকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই দুর্যোগের দিনে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসার জন্য মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক দমকল বিভাগকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাস্টিন ট্রুডো।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

