গাজায় শান্তি ফেরাতে উদ্যোগী কমলা হ্যারিস

প্যালেস্তাইনের দখলে থাকা গাজায় ইজরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধ বন্ধের ‘সময় এসেছে’ বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে এ কথা বলেন কমলা। যিনি মার্কিন মুলুকের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট শিবিরের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই বৈঠকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ‘খোলামেলা এবং গঠনমূলক’ আলোচনায় গাজা যুদ্ধ নিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তুলনায় কমলা হ্যারিস অনেক ‘কঠোর মনোভাব’ দেখিয়েছেন বলে দাবি সংবাদ সংস্থার।

হ্যারিস বলেন, গাজায় হতাহতের বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে ‘গভীর উদ্বিগ্ন’। সংকট সুরাহায় দ্বিপাক্ষিক সমাধানের প্রতি জোর দিয়ে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এবার সময় হয়েছে এই যুদ্ধ বন্ধের। আমেরিকার আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন। অশীতিপর প্রেসিডেন্ট এবার তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকেই দলের প্রার্থী করার সুপারিশ করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বাইডেনের সঙ্গে দেখা করেন নেতানিয়াহু। তার পরের দিন মার্কিন কংগ্রেসে একটি বক্তৃতায় হামাসের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ জয়ের আশ্বাস দেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। আর ঠিক তখনই, মার্কিন ভূখণ্ডে কয়েক হাজার প্যালেস্তাইনপন্থী বিক্ষোভকারী, তেল আভিভের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন।

প্রায় ৯ মাস ধরে চলছে ইজরায়েল এবং গাজার লড়াই। এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে দেশে এবং বিদেশে ব্যাপক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। তবু নিজের অবস্থানে অনড় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। নেতানিয়াহুর সঙ্গে ৪০ মিনিটের বৈঠকে কমলা বলেন, তেল আভিভের ‘আত্মরক্ষার’ অধিকার আছে। সেটা তিনি মানেন এবং সেদেশের প্রতি আমেরিকার ‘অটল প্রতিশ্রুতিও’ আছে। অভিযোগ, গত বছরের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে ইজরায়েলে হামাস বাহিনী হামলা চালালে, যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। ইজরায়েলের তথ্য অনুযায়ী হামাস বাহিনীর অক্টোবরের ওই হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অপহরণ করা হয় আড়াই শতাধিক মানুষকে। ওই দিন থেকেই গাজায় পাল্টা হামলা চালায় তেল আভিভ। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত ৩৯ হাজারের বেশি প্যালেস্তিনীয় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজা কর্তৃপক্ষ। এই প্রসঙ্গ টেনে কমলা হ্যারিস বলেন, ইজরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। তবে আত্মরক্ষার পদ্ধতি কী হবে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে গাজায় ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ভীষণ ভাবে উদ্বিগ্ন।

এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন কিন্তু নির্বাত দর্শকের ভূমিকায় থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন হ্যারিস। নেতানিয়াহুর উদ্দেশে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আসুন আমরা যুদ্ধ শেষ করতে শান্তি চুক্তিটি সম্পন্ন করি। হয়ত এই শান্তি চুক্তির ফলে আমরা যুদ্ধ শেষ করতে পারব। সেই সঙ্গে আমরা অপহৃতদের মুক্ত করতে পারব এবং প্যালেস্তিনীয় জনগণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দিতে পারব’। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান মনোনীত প্রার্থী তথা সেদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর দেখা করার কথা।

নেতানিয়াহু-বাইডেনের আলোচনা
এদিকে বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাতে নেতানিয়াহু বলেন, চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি জো বাইডেনকে চেনেন ও জানেন। তেল আভিভ এবং ওয়াশিংটনের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। সেই রেশ ধরে নেতানিয়াহু বলেন, ‘একজন গর্বিত ইহুদী হিসেবে ইজরায়েলকে ৫০ বছর ধরে সমর্থনের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই’। আগামী কয়েক মাসে বড় বড় সমস্যাগুলো নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কাজ করার জন্য ইজরায়েল ইচ্ছুক বলে বাইডেনকে বলেছেন নেতানিয়াহু। পরে এক সংবাদ সম্মেলেন হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই পরিস্থিতিতে অপহৃতদের মুক্ত করা জন্য একটি চুক্তির জরুরি প্রয়োজন বলে মনে করেন। এছাড়া তাঁদের আলোচনায় লেবাননে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, ইরানের হুমকি এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা হয়েছে’। তবে আমেরিকা এবং ইসরায়েলের পারস্পরিক সম্পর্কে ‘ফাঁক রয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন জন কিরবি।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube