প্যালেস্তাইনের দখলে থাকা গাজায় ইজরায়েলি বিমান হামলায় ন’মাসের গর্ভবতী ওলা আল-কুর্দ মারা গেলেও, বেঁচে যায় তাঁর গর্ভস্থ সন্তান। আর এই ঘটনাকে ‘অলৌকিক’ ঘটনা বলে মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা। ওলার বাবা আদনান আল-কুর্দ জানিয়েছেন, ১৯ জুলাই ইজরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় মধ্য গাজার আল-নুসেইরাত এলাকায় অবস্থিত তাঁদের বাড়ি। বিস্ফোরণে মহিলা, শিশু ও বৃদ্ধসহ প্রাণ হারান ওলাও। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তাঁর শিশু সন্তান ও স্বামী বেঁচে যান। তাঁরা দু’জনেই এখন হাসপাতালে ভর্তি। আদনান আল-কুর্দ আরও বলেন, ওলা চলে গেলেও, মাতৃগর্ভের সন্তানটি বেঁচে ছিল। এটি একটি অলৌকিক ঘটনা।
বিমান হামলার পর মৃত ওলাকে প্রথমে নুসেইরাতের আল আওদা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিকুল পরিস্থিতির মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসকরা মাতৃগর্ভে থাকা সন্তানটিকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন। নবজাতকের নাম রাখা হয় মালেক ইয়াসিন। এরপর আর কোনও ঝুকি না নিয়ে, সদ্যজাত ইয়াসিনকে দেইর আল-বালাহর আল আকসা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন ডাক্তাররা। সেখানেই একটি ইনকিউবেটরে তাকে রাখা হয়েছে। আল আকসা হাসপাতালের চিকিৎসক খলিল আল-দারকান বলেন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। শিশুটির জীবন রক্ষা পেয়েছে। সে এখন জীবিত এবং ভালো আছে। অথচ, সেদিনের ইজরায়েলি বিমান হানায় এই পরিবারের বহু সদস্যই আর জীবিত নেই।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে গাজাজুড়ে প্রতিদিনই এই ধরনের রক্তপাতের ঘটনা ঘটেই চলেছে। ইজরায়েলি হামলায় গাজায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৯ হাজারেরও বেশি প্যালেস্তিনিয় নিহত হয়েছেন. ধ্বসস্তুপে পরিণত হয়েছে গাজা ভুখণ্ড।
ন’মাস ধরে চলা ইজরায়েলি হামলায় গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে গেছে অথবা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আল আকসা হাসপাতালেরও একাধিক চিকিৎসা পরিষেবা নষ্ট হয়ে গেছে। এত সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই ছোট্ট ইয়াসিনকে বাঁচিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ঈশ্বরের দূতরূপী এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

