মাস্ক পড়ে থাকায় সন্দেহ! পুলিশের জালে সোনারপুরের জামাল!

মাস্ক পড়ে থাকায় সন্দেহ বাড়ে পুলিশের । অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায় সোনারপুর কাণ্ডে অভিযুক্ত জামালউদ্দিন সর্দার । শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করে সোনারপুর থানার আইসি আশিস দাসের নেতৄত্বে একটি টিম । আগামিকাল বারুইপুর আদালতে পেশ করা হবে তাঁকে ।

মাস্ক পরে থাকাই যেন কাল হল জামালের ৷ তাতেই পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ বাসন্তী হাইওয়ে থেকে সোনারপুর আসার রাস্তায় তাকে গ্রেফতার করা হয় ৷ লেদার কমপ্লেক্স এবং নরেন্দ্রপুর থানার সংযোগস্থল থেকে গ্রেফতার হয় সে ।

মঙ্গলবার ১৬ই জুলাই গ্রেফতারির আশঙ্কায় দুপুরেই বাড়ি ছাড়ে জামাল ৷ সন্ধের দিকে পাঁচিল টপকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় জামালের স্ত্রী ও ছেলে ৷ ওই দিন ঘুটিয়ারি শরিফ এলাকায় শ্বশুরবাড়ির কাছে কোথাও থাকার পরিকল্পনা থাকলেও পুলিশের ঘোরাঘুরির কারণে জঙ্গলের মধ্যে রাত কাটায় জামাল ৷ দিনের আলো ফুটতেই মাস্ক মুখে দিয়ে ঘুটিয়ারি ষ্টেশন থেকে ট্রেন ধরে সোনারপুরের উপর দিয়েই বিধাননগর ষ্টেশনে নেমে বিধাননগর কমিশনারেট এলাকায় এক পরিচিতের কাছে যায় সে ৷ সেদিনটা ওখানেই কাটায় সে ৷

এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে তার খবর সম্প্রচার হওয়া দেখে মত পরিবর্তন করে সে ৷ আত্মসমর্পনের কথাও ভেবেছিল জামাল ৷ এই কারণে বৄহস্পতিবার সোনারপুর থানার কাছাকাছি মিলনপল্লী এলাকায় সে চলেও আসে ৷ কিন্তু তার আইনজীবি তাকে আত্মসমর্পনের বিষয়ে মানা করলে ফের এলাকা ছাড়ে জামাল ৷ এরই মধ্যে নিজের ফোন পরিবর্তন করে নেয়, নতুন সিম নেয় ৷

স্ত্রী ও সন্তানের জন্য চিন্তা হচ্ছিল তার ৷ তাদের কোথাও একটা নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার পরিকল্পনা করে সে ৷ এইকারণে শাশুড়িকে ফোন করে নিজের বিপদ বাড়ায় জামাল ৷ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার শালাকে তুলে আনে সোনারপুর থানার পুলিশ ৷ নিজের কাছের লোককেও আর বিশ্বাস করতে পারছিল না জামাল ৷ যদিও বৄহস্পতিবার রাতে ডানকুনি এলাকায় তার এক পরিচিতের বাড়িতে থাকে ৷ শুক্রবার স্ত্রী ও সন্তানকে সেফ জোনে রাখার ব্যবস্থা করে ৷ তারপর আগামী ৬ মাসের জন্য সে আত্মগোপন করার পরিকল্পনা করে ফেলে ৷ যদিও শেষ রক্ষা হয়নি ৷ সন্ধে সাতটার দিকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৷

জামালকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম তৈরি করা হয়েছিল ৷ সোনারপুর থানার আইসি আশিস দাসের নেতৄত্বে একটি টিম শুক্রবার সারাদিন নানান জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় ৷ তারাই শেষ পর্যন্ত জামালকে গ্রেফতার করে ৷ অন্যদিকে সোনারপুর থানার পিসি পার্টির একটি টিম ও বারুইপুর পুলিশ জেলার স্পেশাল অপারেশন গ্রুপের আরও একটি টিম দিনভোর তল্লাশি অভিযান চালায় ৷ জামালের গ্রেফতারির পর বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার পলাশ চন্দ্র ঢালি জানান তারা জামালকে নিজেদের হেফাজতে নেবেন ৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ৷ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি ৷

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube