প্যালেস্তাইনের গাজায় ইজরায়েলি আগ্রাসনের প্রায় ১০ মাস অতিক্রান্ত। গাজায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আরও একটি যুদ্ধের মেঘ। যেটা ওই অঞ্চল এবং তার আশপাশের দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ইজরায়েল ও ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে ৯ মাস ধরে আন্ত সীমান্তে গুলি বিনিময় চলছে। এই সংঘাত আরও তীব্র হয়ে সর্বাত্মক যুদ্ধে রূপ নিলে, সেটা গাজার বিপর্যয়কেও ছাপিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সংঘাতে অংশ নিতে পারে ইরাক ও ইয়েমেনের মিলিশিয়ারাও। উত্তাপ ছড়িয়ে পড়তে পারে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে। যুদ্ধ বাধলে তাতে জড়িয়ে পড়তে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে ইরান। মধ্য প্রাচ্যে আরও ক’টি যুদ্ধ, কল্পনার চেয়েও মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসংঘ।
লেবাননের প্রাচীন শহর টায়ার। সেখানে চলতি বছর গ্রীষ্মের সময় বিস্ফোরণের শব্দ খুব সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছিল। কারণ, শহর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরের সীমান্তে হিজবুল্লাহ ও ইজরায়েলর মধ্যে একটানা গোলাবর্ষণ চলছে কয়েক মাস ধরে। সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে দক্ষিণ লেবাননসহ টায়ার শহর হতে পারে গোলা বারুদ নিক্ষেপের প্রধান কেন্দ্র। কারণ দক্ষিণ লেবাননসহ এই শহর হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর শক্ত ঘাঁটি।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামলা চালায় প্যালেস্তিনীয় সংগঠন হামাস। এতে ১ হাজার ২০০ ইজরায়েলি নিহত হয়েছেন। হামাস যোদ্ধারা ২৫১ জনকে বন্দী করে গাজায় নিয়ে রেখেছে। এই ঘটনার পরদিনই সংঘাতে জড়ায় হিজবুল্লাহ। তখন থেকেই লেবানন থেকে ইজরায়েলে গোলা ছোঁড়া হচ্ছে। শিয়া ইসলামিক সশস্ত্র গোষ্ঠীটির দাবি, তারা গাজার সমর্থনে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে লেবানিজরা বলছেন, তাঁরা আবাসিক এলাকাগুলোয় ধ্বংসলীলা দেখছেন। মাঠের পর মাঠ পুড়তে দেখেছেন। অনেক বাড়িঘর ধসে গেছে। বাসিন্দারা আতঙ্কে অন্যত্র চলে যাওয়ায় অনেক গ্রাম কার্যত জনমানব শূন্য হয়ে গেছে।
ইটের জবাবে পাটকেলে দেওয়ার ফলে হয়ত হাজারও মানুষ ঘরছাড়া. লেবাননে ৯০ হাজারের বেশি এবং ইজরায়েলে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ ভিটে মাটি হারিয়েছেন। এই সংঘাতে ইজরায়েলের আঘাত খুব ভালোভাবেই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে লেবানন।
তবে বড় মূল্য দিতে হয়েছে লেবানন এবং তার জনগণকে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজারের বেশি লেবাননবাসী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে হিজবুল্লাহ যোদ্ধার সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে ইজরায়েল সরকার জানিয়েছে, সেদেশের ১৬০ জন এই সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে বেশির ভাগই সেনাকর্মী।
সংবাদ সংস্থা দাবি করছে, গত অক্টোবরের পর থেকে দক্ষিণ লেবাননের বাতাসে কিছু একটা ছড়াচ্ছে ইজরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী ওপর থেকে দমবন্ধ করা সাদা ফসফোরাসের গুঁড়া ছোঁড়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, রাসায়নিকটি অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে, সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে উঠছে। এটি মানুষের ত্বক ও কাপড়ে লেগে থাকে। রাসায়নিকটি হাড় পর্যন্ত পুড়িয়ে দিতে পারে, দাবি সংবাদ সংস্থার।
আল বুস্তানসহ দক্ষিণ লেবাননের একাধিক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাদা ফসফরাসের ব্যবহার হয়েছে বলে যাচাই করে সত্যতা পেয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির দাবি, জনবহুল এলাকায় ইজরায়েল বেআইনিভাবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করছে। যদিও এই দাবি নাকচ করে ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী বলছে, ধোঁয়ার দেয়াল তৈরি করতেই সাদা ফসফরাসের শেল ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্য নিয়ে ব্যাপক ঘনবসতি এলাকায় এসব শেল ব্যবহার করা হয়নি।
হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মাদ নামেহ নাসের। তিনি ২০০৬ সাল ও তার আগে ইজরায়েল যুদ্ধ অংশ নিয়েছিলেন। সিরিয়া ও ইরাকে যুদ্ধেও অংশ নিয়েছিলেন এই হিজবুল্লাহ নেতা। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তিনি ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অনেক অভিযান পরিচালনা করেন। গত ৩ জুলাই ইজরায়েলী বোমা হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়। লেবাননে সরকারব্যবস্থা বেশ টালমাটাল অবস্থায়। সেখানকার অর্থনীতি বিপর্যস্ত. বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ প্রকট। সব ধরনের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত দেশটির জনগণ। অনেক লেবানিজই এখন ক্লান্ত, সর্বশান্ত। সবশেষে যে জিনিসটি তাঁরা আর চান না, সেটা হল আরও একটি যুদ্ধ।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

