কোটা বিরোধী আন্দোলন: অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে মৃত ছাড়াল ৩০

।। দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় ।।

সময় যত এগোচ্ছে, ততই যেন বাংলাদেশে স্ফুলিঙ্গের মত ছড়িয়ে পড়ছে আন্দোলনের আগুন। যার উত্তাপে কার্যত জ্বলছে গোটা দেশ। টানা তিন দিন ধরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। স্কুল, কলেজ সহ দেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশজুড়ে বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাবও খারিজ করে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা ‘কমপ্লিট শাট ডাউন’-এ বৃহস্পতিবার দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত এক হাজারের বেশি।

কোটা বিরোধী আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ছাত্র আন্দোলনের ‘ডাকা শাট ডাউন’-এ আক্রান্ত সংবাদ মাধ্যম। এমনিতেই দেশে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ। সে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর গ্রামীণ ফোনের কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। স্থানীয় সময় বিকেল তিনটে নাগাদ ঢাকার রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যান কর্মীরা। তার জেরে রাত আটটার পরে বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে যাত্রাবাড়ীতে সংঘর্ষ চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় এক সাংবাদিকের। নিহত হাসান মেহেদী ঢাকা টাইমস-এর সাংবাদিক ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে, মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। তাঁর ৭ মাসের একটি শিশুকন্যা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, সরকার আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে একমত। তাঁদের সঙ্গে যে কোনও সময় আলোচনায় বসতেও রাজি সরকার। কিন্তু হাসিনা সরকারের এই আবেদন খারিজ করে, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। এ অবস্থায় সেদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২১, ২৩ ও ২৫ জুলাই যে সমস্ত শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, সেগুলি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরে ওইসব পরীক্ষার সময়সূচি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সেদেশের শিক্ষা দফতর।

আন্দোলনের পঞ্চমদিন, অর্থাৎ শুক্রবারও থমথমে বাংলাদেশ। সকাল থেকে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ থেকে শুরু করে মেরুল বাড্ডা এলাকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা আটকে দেওয়া হয়েছে। কারণ সেখানে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ছররা গুলি চালিয়েছে বলে খবর মিলেছে। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা ইট পাটকেল ছুড়েছে বলে অভিযোগ। গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ। ঢাকার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য শহরেও সকাল থেকে বিক্ষিপ্ত হিংসার খবর মিলেছে। পুলিশের পাশাপাশি বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে RAB বাহিনীকেও মোতায়েন করা হয়েছে।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube