নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়
মনকে অলস করে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম । অনেকক্ষণ ধরে কোনও বিশেষ সাইট ব্যবহার করলে, মনের ওপর পড়তে পারে নেতিবাচক প্রভাব । এমনটাই ধরা পড়েছে একটি মার্কিনি সমীক্ষায় ।
মোবাইল ফোন হাতে নিলে আর নামানো হয় না । সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে থাকতে থাকতেই কেটে যায় সময় । সময় কাটানোর এরকম অলস ব্যবস্থা হয়ত এখন পর্যন্ত আর তৈরি হয়নি । আর নানান রকম ছবি ও ভিডিও দেখতে দেখতে মনের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায় । এই তথ্য জানিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ভ্যাটেরান্স অ্যাফেয়ার্স ডটকম’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে মার্কিন মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কলেন ব্যাকেট ড্যাভেনপোর্ট বলেন, যাঁদের ‘ডিপ্রেশন’ বা মানসিক চাপে ভোগার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের অনেকেই অতিরিক্ত সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটান । যদি কারও ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (পিটিএসডি)’ বা দূর্ঘটনা পরবর্তী মানসিক সমস্যা তৈরি হয়ে থাকে, তবে তাঁদের কখনোই বেশিক্ষণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা উচিত নয় ।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর পিটিএসডি’-র এই মনরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কেউ যে কোনও সময় যত খুশি ভিডিও কিংবা ছবি ছাড়তে পারেন । অন্যদিকে সংবাদ মাধ্যমগুলিতে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই ও বাছাই করে, প্রতিদিন কী পরিমান বিষয় প্রকাশ করা হবে সেটা, নিয়ন্ত্রণ করা হয় । সোশ্যাল মিডিয়ায় সেকেন্ড সেকেন্ডে বিভিন্ন বিষয় ‘আপডেট’ হতে থাকে । ফলে সেগুলি দেখা যায় বিরামহীনভাবে । দর্শকরা অনবরত ‘স্ক্রল’ করতে থাকেন । এই অন্তহীন তথ্যের ভাণ্ডাড়ে ডুবে গিয়ে, নিজের কাজের কথাই হয়ত ভুলে যাওয়া হয় । বিশেষ করে পিটিএসডি’-তে আক্রান্ত মানুষদের মনে আরও বেশি করে প্রভাব পড়তে পার ।. আর যেসব জিনিস দেখে তাদের মনে প্রভাব পড়ে, সেগুলোর বিষয়ে হয়ত খুব বেশি বলা হয় না । কারণে মানসিক চাপটা থেকেই যায় । এমনটাই মনে করেন ডা. ব্যাকেট-ড্যাভেনপোর্ট ।

‘ডুমস্ক্রলিং’ নামটা পরিচিতি পায় কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে । ডা. ব্যাকেট-ড্যাভেনপোর্ট বলেন, বিজ্ঞানীরা দেখতে পান যে ‘সোশাল মিডিয়া’তে থাকা সীমাহীন ভিডিও কিংবা ছবি দেখতে দেখতে মনে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে. যাকে বলা হয় সর্বনাশা বা ‘ডুমস্ক্রলিং’ ।
দেখা যায় যে সামাজিক মাধ্যমে কোনও বিষয়ে নির্দিষ্ট সমাধান বা সাহায্য করা সম্ভব হয় না । উল্টে, তাদের ‘চ্যালেঞ্জ’-এর দিকে ঠেলে দিয়ে, দুশ্চিন্তার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তোলে । ফলে দেখা যাচ্ছে, আবেগ অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এরকম অনেক কিছুই ‘ডুমস্ক্রলিং’-এর কারণে হতে পারে ।

কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মতই মোবাইল ফোন ব্যবহার করেও মানসিক সমস্যার প্রতিকারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে । নানা ধরনের অ্যাপ রয়েছে ‘পিটিএসডি কোচ’, ‘পিই কোচ’ বা ‘সিপিটি কোচ’- এই ধরনের অ্যাপগুলোর মাধ্যমে ‘পিটিএসডি’-তে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেদের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগাতে পারেন । অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়েও মানসিক চাপ কমানো যেতে পারে । মনে করছেন মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ব্যাকেট-ড্যাভেনপোর্ট ।

দরকার হলে ফোন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাপগুলি ফেলে দিতে হবে । কারণ ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ দিয়েও এসব ব্যবহার করা যায় । ফোনে থাকলে, যখন তখন ব্যবহার করা হয়ে যায় । যা অন্যান্য যন্ত্রের মাধ্যমে সম্ভব হয় না । অ্যাপস’-এর ব্যবহার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে, ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে রাখা যেতে পারে । কোনও কোনও ফোনে নির্দিষ্ট সময়ের পর অ্যাপগুলো কাজ করবে না । এরকম পদ্ধতিও দেওয়া থাকে । সেগুলো ব্যবহার করলে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার কমানো সম্ভব ।
ডা. ব্যাকেট-ড্যাভেনপোর্ট বলেন, ‘কীভাবে আপনার ফোন ব্যবহার করবেন, সেটা জানা জরুরি । বাজে অনুভূতি তৈরি না করে, কীভাবে ফোনকে সাহয্যকারীর ভূমিকায় আনা যায়, সেটা আপনাকেই ভাবতে হবে । কারণ আপনার মনের চালক হলেন আপনিই । এবার মনকে ফোনের মধ্যে রেখে অলস করে তুলবেন ? নাকি অন্যান্য কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকে, মনকে সক্রিয় রাখবেন, সেটার চাবি আপনার হাতেই’ ।
Latest posts by news_time (see all)
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

