কোপার ফাইনালে গণ্ডগোল, ধৃত কলম্বিয়ার ফুটবলপ্রধান ও তাঁর ছেলে
2 years ago 1 min read
নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক :
দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়
কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচের শেষে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে মারামারির ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান রামন জেসেরুন ও তার ছেলে রামন জামিল জেসেরুনকে । ৭১ বছর বয়সী এই ফুটবল সংগঠক ও তার ৪৩ বছর বয়সী ছেলেকে পরে অবশ্য জামিনে মুক্তি দেওয়া হয় । হুমকি এবং আক্রমণ করার তিনটি অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে ।
ফ্লোরিডা-ডেইড পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার হার্ড রক স্টেডিয়ামে কোপা আমেরিকার ফাইনাল শেষে মিডিয়া টানেলে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে মারামারির ঘটনায় তাঁদের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল । একই কারণে আরও ২৭ জন কলম্বিয়ার সমর্থককে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিস ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে ওই ঘটনাটি ঘটে । মিডিয়া টানেলে তখন সংবাদকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেছিলেন । সেখানেই মাঠে ঢোকার চেষ্টায় একাধিক নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন কলম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান রামন জেসেরুন এবং তাঁর ছেলে রামন জামিল জেসেরুন । একজন নিরাপত্তকর্মী ছিলেন ইউনিফর্ম ছাড়া । তাঁর দায়িত্ব ছিল দর্শকদের আটকানো ।
পুলিশ জানিয়েছে, রামন জামিলকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন ওই নিরাপত্তকর্মী । তখন দ্রুতই ক্ষুব্ধ হয়ে চিৎকার শুরু করেন বাবা ও ছেলে, দুজনই । একটা সময়ে ওই নিরাপত্তাকর্মীর ঘাড় ধরে মাঠে টেনে নিয়ে যান রামন জামিল । অভিযোগ, এরপর তাঁকে ঘুষি ও মাথায় লাথিও মারেন ফুটবলপ্রধানের ছেলে ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে বাবা-ছেলেকে গ্রেফতার করে পুলিস । স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১০ মিনিটে টার্নার গিলফোর্ড নাইট কারেকশনাল সেন্টারে তাদের নাম লিপিবদ্ধ করা হয় । পরের দিন বিকেলে মায়ামি-ডেইড বিচারকের সামনে হাজির করা হলে, দু’জনের জামিন মঞ্জুর হয় । তাদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ । কলম্বিয়ার ফুটবল ফেডারেশন এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো মন্তব্য করেনি ।
আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ার এই ফাইনাল ম্যাচের আগেও তুমুল গন্ডগোল হয় । টিকিট না পেয়ে অনেক দর্শক মাঠে প্রবেশ করতে চাইলে, তাঁদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সংঘর্ষে চরম বিশৃঙ্খল তৈরি হয় । একটা সময়ে মাঠে ঢোকার সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয় । এমনকি ফুটবলারদের পরিবারের সদস্যরাও ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন । গেট খোলার পরেও দর্শকদের অনেকে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান । ব্যারিকেড ভেঙে, দেওয়াল টপকে মাঠে ঢোকার চেষ্টা করেন বহু মানুষ । দুই ডজনের বেশি সমর্থককে গ্রেফতার করা হয় । ৫০ জনের বেশি সমর্থককে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয় । মায়ামি-ডেইড ফায়ার রেসকিউ কর্তুপক্ষ জানায়, রবিবার মোট ১২০টি ঘটনা রিপোর্ট করা হয় । যার মধ্যে ১১৬টি ছিল মেডিকেল সংক্রান্ত ।
হার্ড রক স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ পরে এক বিবৃতিতে জানায়, আট শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী রাখা হয়েছিল মাঠে । অন্য সময়ের থেকে সেটা দ্বিগুণেরও বেশি । তার পরেও কোপার ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় তাদেরকে । এসব ঝামেলায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৮০ মিনিট পর শুরু হয় ম্যাচ. গোলশুন্য ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে লাউতারো মার্তিনেসের গোলে খেতাব ধরে রাখে আর্জেন্টিনা ।