ট্রাম্পের ওপর হামলা : যে ৫ প্রশ্নের মুখে সিক্রেট সার্ভিস

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া রাজ্যের বাটলার এলাকায় নির্বাচনি প্রচার সমাবেশে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওপর হামলার ঘটনায় এবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস । শনিবারের ঘটনায় প্রধান তদন্তকারীর ভূমিকা নিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই । ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে হামলায় একজন নিহত এবং আরও দু’জন গুরুতর আহত হন ।

ঘরে-বাইরে চাপের মুখে সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, সেদিন কী ঘটেছিল, কীভাবে ঘটেছিল, সেটা উদঘাটন করার চেষ্টা করছে । তাছাড়া, কী করে এই ধরনের ঘটনা আটকানো যায়, এমনকী পুনরাবৃত্তিও রোখা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছেন সংস্থার অফিসাররা । তবে এর মাঝেই সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক কিম্বার্লিকে আগামী ২২ জুলাই মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছে ।
বিশেষজ্ঞরা এরই মধ্যে সিক্রেট সার্ভিসকে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন. যারমধ্যে সামনে উঠে এসেছে যে পঁচটি প্রশ্ন, সেগুলি হল –

সভাস্থল আগে থেকে সুরক্ষিত করা হয়নি কেন ?
সন্দেহভাজন বন্দুকধারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস কীভাবে ট্রাম্পের থেকে ১৩০ মিটার (৪৩০ ফুট) দূরে অবস্থিত সমাবেশের কাছে একটি ভবনের ছাদে প্রবেশ করেছিল তা এখনও স্পষ্ট নয় ।
সিক্রেট সার্ভিসের দুই কর্তার বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা লিখছে, সভাস্থলের আশেপাশের বাড়িগুলির ছাদ একেবারে অরক্ষিত ছিল । আরও একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে তারা লিখছে, আশেপাশের বাড়িগুলিতে নিরাপত্তার জন্য ছাদের ওপরেও নজর দেওয়া উচিত ছিল, যাতে কেউ কোনও ভাবেই ছাদে উঠতে না পারে । পাশাপাশি ছাদ থেকে ট্রাম্পের পডিয়ামের এলাকাটি দেখা যাওয়ার সমস্ত রাস্তা বন্ধ করা উচিত ছিল । তাহলে হামলাকারী ক্রুকস সরাসরি ট্রাম্পকে দেখতে পেতেন না বলেই মার্কিন সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এক শীর্ষ কর্তা ।
হামলাকারী সম্পর্কে সতর্কবার্তা ছিল ?
গুলিকাণ্ডের এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, তিনি এবং অন্যরা ‘স্পষ্টই’ ক্রুকসকে রাইফেল হাতে ছাদে হামাগুড়ি দিতে দেখেছেন । তাঁরা পুলিশকে খবর দিলেও, সন্দেহভাজন হামলাকারী কয়েক মিনিট ধরে এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করতে থাকে এবং পরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিজেই মারা যায় ।
বাটলারের কাউন্টি শেরিফ নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ক্রুকসকে একজন স্থানীয় পুলিশ অফিসার দেখেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি তাকে সময়মতো থামাতে পারেননি । ট্রাম্পের আশপাশের এজেন্টদের কাছে এই তথ্য পৌঁছেছিল কিনা, সেটাও এখনও স্পষ্ট নয় ।
স্থানীয় আইন প্রনোয়ণকারী সংস্থার এক অফিসার বলেছেন, ক্রুকস তাঁদের রাডারে ছিলই । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অফিসার মার্কিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, শনিবার ইভেন্ট ম্যাগনেটোমিটারের কাছে ক্রুকসের সন্দেহজনক আচরণের তথ্য সম্ভবত সিক্রেট সার্ভিসকে জানানো হয়েছিল ।

সিক্রেট সার্ভিস কি স্থানীয় পুলিশের উপর নির্ভরশীল ছিল ?
হামলাকারী যে জায়গা থেকে গুলি চালিয়েছিল, পুলিশ সেটিকে বলছে, ‘সেকেন্ডারি রিং‘ । ওই স্থানে সিক্রেট সার্ভিস নয় । বরং স্থানীয় পুলিশ ও কাউন্টি শেরিফের অফিসাররা টহল দিচ্ছিলেন । সিক্রেট সার্ভিসের প্রাক্তন এক এজেন্ট বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা তখনই কাজ করে যখন কোনও বিপদ দেখা দিলে কী করতে হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনও পরিকল্পনা থাকে । একটি মার্কিন সংবাদপত্রকে জোনাথন ওয়াক্রো বলেন, ‘আপনি যখন স্থানীয় আইন প্রনোয়ণকারী সংস্থার অফিসারদের ওপর নির্ভর করেন, তখন আপনাকে অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে পরিকল্পনা নিতে হবে এবং বলে দিতে হবে যে, কোনও হুমকির মুখে পড়লে আপনাকে কি কি করতে হবে’ । কাউন্টি শেরিফ স্বীকার করেছেন যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোথাও কোনও ব্যর্থতা ছিল । তবে তিনি বলেন, এর জন্য কাউকেই এককভাবে দোষারোপ করা যায় না ।
জনসভা কি সঠিক ভাবে আয়োজন করা হয়েছিল ?
নির্বাচনকে সামনে রেখে আমেরিকার রাজনীতি এখন সরগরম । ঠিক তখনই নির্বাচনী প্রচারে নিরাপত্তা বাহিনী সিক্রেট সার্ভিস টিম, তুলনামূলক অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে । নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় লোকবল, সাজ-সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । হাউস ওভারসাইট কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান বলেন, শনিবারের সমাবেশের মতো ইভেন্ট সুরক্ষিত করতে স্থানীয় পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি । সিক্রেট সার্ভিসও অনেকগুলো কাজের দায়িত্ব নিয়ে, সবদিকে মনোযোগ দিয়ে উঠতে পারেনি ।
এর আগে সিক্রেট সার্ভিসের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলা জেসন শ্যাফেটজ, শনিবারের ঘটনার পর মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে লিখেছেন, হুমকির ঝুঁকির ক্ষেত্রে ট্রাম্প বা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের চেয়ে বড় আর কোনও ব্যক্তিত্ব নেই । কিন্তু পেনসিলভেইনিয়ার সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখে সেটা মনে হয়নি । সমাবেশের আগে ট্রাম্প শিবিরের কর্মী বাড়ানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে । তবে সিক্রেট সার্ভিস এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ।

ট্রাম্পকে ঠিক সময়ে মঞ্চ থেকে নামানো হয়েছিল ?
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঢাল হয়ে যে এজেন্টরা দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁরা ঘটনার পরপরই তাঁকে নিরাপদে মঞ্চ থেকে নামিয়ে নেওয়ায় প্রশংসিত হয়েছেন । প্রাক্তন সিক্রেট সার্ভিস কর্মী রবার্ট ম্যাকডনাল্ড বলেন, এরকম জরুরি পরিস্থিতিতে কী করা উচিত, সে সম্পর্কে কোনও সঠিক পূর্ব পরিকল্পনা না থাকার পরও, সেদিন এজেন্টরা তাৎক্ষণিক ভাবে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন. কিন্তু তারপরও প্রশ্ন উঠছে যে, তাঁরা কী যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টকে গাড়িতে তুলে দিতে পেরেছিলেন ? ঘটনার ফুটেজে দেখা যায়, বন্দুকের গুলির শব্দে তাঁরা দ্রুত ট্রাম্পের চারপাশে ঢাল তৈরি করে । কিন্তু পরে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট তাঁর জুতো নেওয়ার কথা বললে, এজেন্টরা থেমে যায় । সমর্থকদের উদ্দেশে তখন মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে তিনবার ‘ফাইট, ফাইট, ফাইট’ বলে গর্জে ওঠেন ট্রাম্প ।
সিক্রেট সার্ভিসের এক প্রাক্তন শীর্ষ কর্তা বলেন, তিনি অপেক্ষা করতেন না । মার্কিন সংবাদ মাধ্যমকে জেফ্রি জেমস বলেন, তিনি যদি সেখানে থাকতেন, তাহলে তখন ট্রাম্পকে জুতোর জন্য দাঁড়াতে দিতেন না । তাঁকে বরং বলতেন, ‘আমরা যাচ্ছি, আমরা এখনই যাচ্ছি । জুতো চুলোয় যাক’ ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube