লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা কমে নেমেছে ১২ তে। বিধানসভা উপনির্বাচনে সবকটি কেন্দ্রের হারতে হয়েছে। একের পর এক ভোটে কার্যত ভরাডুবি বঙ্গ বিজেপির। এই পরিস্থিতিতে ফল পর্যালোচনা করতে বুধবার মেগা বৈঠক ডাকে রাজ্য নেতৃত্ব। সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্বরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভোট হিংসা নিয়ে সুর চড়াতে দেখা গেল সুকান্ত-শুভেন্দুকে।
এদিনে বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, রাজ্যের বহু পুরসভায় তৃণমূলের থেকে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। অনেক ওয়ার্ড আছে যেখানে শাসক দলকে পিছনে ফেলেছে বিজেপি। পাশপাশি ৭০ টি বিধানসভা ভোটে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে বঙ্গ বিজেপি। সেই তালিকার মধ্যে ১০ হাজারের কম ব্যবধানে পিছিয়ে ৪৯ টি বিধানসভা কেন্দ্রে। ২১ টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে দল। রাজ্য সভাপতি আরও জানান, ‘৯ টি আসন এমন আছে যেখানে কোনও নির্বাচনেই বিজেপি এগিয়ে থাকতে পারেনি। সেখানেও এবারে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে জঙ্গিপুর, বড়ঞা, সন্দেশখালি, চণ্ডীপুর সহ আরও একাধিক। গত বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭ টি কেন্দ্রে জিতেছিল বিজেপি। সুকান্ত মজুমদার জানান, ৬২ টি আসনে জয়ের ব্যবধানের তুলনায় আরও বেশি ভোটে লোকসভা নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে দল। এছাড়া ২১-এ পরাজিত ২৮ টি আসনে এবারে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি।
বাংলায় ‘সন্ত্রাস’ নিয়ে সুর চড়াতেও দেখা যায় বালুরঘাটের সাংসদকে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট যে রিগিং সহ যে দুর্নীতি শুরু করেছিল, তৃণমূল তাকে একধাপ উৎকর্ষতায় নিয়ে গিয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘সিপিএমের আদর্শ ছাত্র’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি আরও দাবি করেন, নিজেদের মোট প্রকাশের উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে, হয়তো বিজেপিকে ভোট দিলে বাড়ি-ঘর ভাঙা হবে কিনা সেই ভয় আছে। কারণ ২১-এর ভয়াবহতা আজও বহু অঞ্চলে মানুষের মনে রয়ে গিয়েছে। তবে আগামী দিনে আরও ভালো ফল করতে হবে বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করেন বিজেপি সাংসদ।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য রাখেন। তিনিও ভোট হিংসা নিয়ে শাসক দলের দিকে আঙুল তোলেন। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, ’২৬-এ আমাকে ভোট দিতে দেবে না। কারণ আমি হিন্দু। আমার বাড়ির সামনে ৫০ জন জেহাদি ভোটের দিন বসে থাকবে। পুলিশ দর্শকের আসন গ্রহণ করবে।‘ লোকসভা ভোটের ফল নিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি ২১ টি পেতাম খুশি হতাম। আরামবাগের আসনে ৬ হাজার ভোট, মেদিনীপুরের আসন ২৭ হাজার ভোট, বাঁকুড়ার আসন ৩০ হাজার ভোট, কোচবিহারের আসন ২৯ হাজার ভোটে হারব আমরা কল্পনা করতে পারিনি।
রাজ্যে মোট ৬ টি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়েছিল। সবকটি আসনেই শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী জয় পেয়েছে। বিজেপির দখলে থাকা বাগদা, রায়গঞ্জ, রানাঘাট দক্ষিণ আসন বড় ব্যবধানে ছিনিয়ে নিয়েছে শাসক শিবির। লোকসভা নির্বাচন ও উপনির্বাচনে পরাজয় নিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই দায়ী করেছে বঙ্গ বিজেপি।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

