ট্রাম্পকে সমর্থন প্রাক্তন প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি ও ডিস্যান্টিসের
2 years ago 1 min read
নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক :
দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন, দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন নিকি হ্যালি এবং রন ডিস্যান্টিস । আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে, এঁরা দুইজনই ট্রাম্পের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ।
উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিলওয়াকিতে রিপাবলিকান পার্টির সম্মেলনে মঙ্গলবার তাঁরা দু’জনই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন জানান । ফলে পেনসিলভেনিয়া কাণ্ডের তিন দিন পরে, দলীয় ঐক্যের নজির তুলে ধরল রিপাবলিকান পার্টি । সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হ্যালি নিজের প্রচার চলাকালীন একসময় ট্রাম্পকে ‘নির্বাচিত হতে সক্ষম নন’ এবং প্রেসিডেন্ট পদের ‘অযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছিলেন ।
কিন্তু তার পরেও তিনি তাঁর সমর্থকদের ‘জাতির স্বার্থে’ ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান । রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত তথা সাউথ ক্যারোলাইনার গভর্নর হ্যালি বলেন, ভোট দেওয়ার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে ভোটারদের শতভাগ একমত হতে হবে না । কারণ বাকি কাজটা তো দলের সদস্যরা করবেন । হ্যালি সম্মেলনের মঞ্চে ওঠার সময় সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য করতালি দিয়ে স্বাগত জানালেও, বাকিরা কিন্তু বিদ্রুপ করেন বলে দাবি সংবাদ সংস্থার ।
অন্যদিকে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের রক্ষণশীল গভর্নর ডিস্যান্টিস মঞ্চে ওঠার সময় উপস্থিত মানুষজন তাঁকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানান । চলতি বছরের শুরুর দিকেই তিনি রিপাবলিকান শিবিরের দলীয় প্রার্থী হওয়ার দৌড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন । নিজের বক্তব্যে ডিস্যান্টিস আরও একবার বাইডেনকে আক্রমণ করে বলেন, তিনি দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বপালনের পক্ষে অতি বেশি বৃদ্ধ ।
সম্মেলনস্থলে নিজের আসনে বসে থাকা ট্রাম্প, ডিস্যান্টিসের এই মন্তব্যে হেসে ওঠেন এবং তারপর হাততালি দিয়ে ধন্যবাদ জানান । সেই বক্সে ট্রাম্পের পাশেই ছিল রানিং মেট জে ডি ভ্যান্স । এই ভ্যান্সও একসময় ট্রাম্পের তীব্র সমালোচক ছিলেন । পরে তিনিও প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের কট্টর সমর্থকে পরিণত হন ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ট্রাম্প সম্মেলন স্থলে প্রবেশ করেন । আগের দিনের মতো এদিনও সেখানে উপস্থিত রিপাবলিকানরা তাঁকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানান । শনিবার সন্ধ্যায় পেনসিলভেনিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করা হয় । এক যুবক প্রাক্তন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করে গুলি করে । তবে বরাত জোরে গুলি ট্রাম্পের কানে লেগে, বেরিয়ে যায় । তারপর সোমবারই তিনি প্রথম প্রকাশ্য সভায় কানে ব্যান্ডেজ লাগানো অবস্থায় হাজির হন । সেদিন ট্রাম্পকে অনেক বেশি আবেগপ্রবণ মনে হলেও, পরের দিন অর্থাত মঙ্গলবার তিনি ছিলেন আরও বেশি উচ্ছ্বসিত এবং উতসাহিত । এমনটাই মনে করছে মার্কিন রাজনৈতিক মহল । প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের কানে থাকা ব্যান্ডেজ থেকে বোঝাই যাচ্ছিল, কীভাবে তিনি প্রাণে রক্ষা পান বাটলারের নির্বাচনী সমাবেশে ।