২০১৫ সালে প্রথমবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হন শ্যানেন ডোহার্টি । টানা ৯ বছর ধরে মারণ রোগের সঙ্গে লড়াই । অবশেষে হার মানলেন অভিনেত্রী ।
মারণ রোগ ক্যান্সারের সঙ্গে একটানা ৯ বছর ধরে লড়াই করে মারা গেলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই জনপ্রিয় সিরিজ ‘বেভারলি হিলস, ৯০২১০’ এবং ‘চার্মড’ এর অভিনেত্রী শ্যানেন ডোহার্টি । তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর । মার্কিন সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, অভিনেত্রীর প্রচার প্রতিনিধি লেসলি স্লোনে এক বিবৃবতিতে এই শোক সংবাদ দিয়েছেন । স্লোনে বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, অভিনেত্রী শ্যানেন ডোহার্টি শনিবার মারা যান । অসুস্থতার দীর্ঘ সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন তাঁর মেয়ে, বোন এবং প্রিয় একটি পোষ্য’ ।
নিজের শরীরে ক্যান্সারের আক্রমণ নিয়ে ডোহার্টি প্রথম কথা বলেন ২০১৫ সালে । সে সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন । এর দুই বছর পর জানা যায়, ডোহার্টি সেরেও উঠেছেন । এরপর ২০২৩ সালে ডোহার্টি ফের জানান, ক্যান্সার এবার তার মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়েছে । যেটা সেই সময় চতুর্থ স্তরে ছিল । কিছুদিন আগে একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন ডোহার্টি । ওই পডকাস্টটি সম্প্রচার হয় গত ৪ জুলাই । তবে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে ডোহার্টিকে কখনও ভেঙে পড়তে দেখা যায়নি । তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন, এই লড়াইয়ে তিনি পরাজিত হবেন না । এমনকি ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথাও বলতে শোনা যেত ডোহার্টিকে । ডোহার্টির মৃত্যুতে শোকের ছায়ায় নেমে এসেছে সতীর্থদের মধ্যে । সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে প্রয়াত অভিনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মার্কিন টেলিভিশন সিরিজের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ।
ডোহার্টির অভিনয়ে আসা ১০ বছর বয়সে । ওই সময়ে টেলিভিশন সিরিজ ‘মাদার মাফি’-তে অভিনয় করেন তিনি । সে সময় চাইল্ড আটির্স্ট হিসেবে ডোহার্টির অভিনয় নজর কাড়ে কিংবদন্তি অভিনেতা মাইকেল ল্যান্ডনের । তাঁর চেষ্টায় ‘লিটল হাউস অন দ্য প্রেইরি’-তে জেনি ওয়াইল্ডারের ভূমিকায় ডোহার্টি প্রথম পর্দায় আসেন । এরপর সিরিজ ‘আওয়ার হাউস’ এবং ১৯৮৫ সালের সিনেমা ‘গার্লস জাস্ট ওয়ান্ট টু হ্যাভ ফান’ এবং ১৯৮৮ সালের সিনেমা ‘হেথারস’ সহ বিভিন্ন সিরিজ এবং টেলিভিশনে নিয়মিত মুখ ছিলেন ডোহার্টি ।
১৯৯০ থেকে ৯৪ সাল পর্যন্ত চলা টেলিভিশন সিরিজ ‘বেভারলি হিলস, ৯০২১০’ এবং এর স্পিনঅফ ‘৯০২১০’ সিরিজে স্কুলছাত্রী ‘ব্রেন্ডা ওয়ালস’ চরিত্রে অভিনয় করে ডোহার্টি দারুণ জনপ্রিয়তা পান । এরপর ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চলা ‘চার্মড’ সিরিজেও কাজ করে জনপ্রিয় হন ডোহার্টি । নব্বই দশকে ‘অলমোস্ট ডে’ এবং ‘মালারটস’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি । ২০০২ এবং ২০০৩ সালে মুক্তি পায় এই অভিনেত্রীর ‘দ্য রেন্ডারিং’ এবং ‘ভিউ অফ টেরর’ সিনেমাটি । এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সিনেমা এবং সিরিজে ডোহার্টিকে পাওয়া যায় ।
শুধু রূপোলী পর্দায় চুটিয়ে রোম্যান্স নয় । ডোহার্টির বাস্তব জীবনও ছিল রোম্যান্সে ভরা । ১৯৯৩ সালে তিনি বিয়ে করেন জর্জ হ্যামিল্টনের ছেলে অ্যাশলে হ্যামিল্টনকে । মাত্র তিন সপ্তাহের আলাপেই বিয়ে । আর সেই বিয়ের ছয় সপ্তাহের মধ্যে বিচ্ছেদ । ২০০২ সালে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন ডোহার্টি । সেবার পাত্র ছিলেন রিক সোলোমন । সেই বিবাহের আয়ু ছিল ৯ মাস । ২০১১ সালে তৃতীয়বার বিয়ে করেন তিনি । এবার ডোহার্টির পছন্দ ছিল জনপ্রিয় ফোটোগ্রাফার কার্ট ইসওয়ারিয়েনেঙ্কো । তিনিই শেষপর্যন্ত ছিলেন অভিনেত্রীর পাশে । অবশেষে শনিবার ক্যান্সার কেড়ে নিল মার্কিন গ্ল্যামার জগতের এই বর্ণময় চরিত্রটিকে ।