নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন কেপি শর্মা অলি । তাঁর নেতৃত্বেই হিমালয়ান রাষ্ট্রটিতে শুরু হতে চলেছে নতুন জোট সরকারের রাজনৈতিক যাত্রা । গত শুক্রবার নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তথা প্রাক্তন মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল ওরফে প্রচণ্ড, আস্থা ভোটে পরাজিত হন । তারপরই সেদেশে নতুন সরকার গঠনের তোরজোড় শুরু হয় ।
শের বাহাদুর দেউবা
সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কেপি শর্মা অলির রাজনৈতিক দল সিপিএন-ইউএমএল এবং শের বাহাদুর দেউবার নেতৃত্বাধীন নেপালি কংগ্রেসের জোট সরকারের নির্বাচিত প্রার্থীকেই সেদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌদেল । এই নিয়ে তৃতীয়বার নেপালের প্রধানমন্ত্রী হলেন ৭২ বছর বয়সী কেপি শর্মা অলি । সোমবার প্রধানমন্ত্রী সহ নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ।
২০০৮ সালে নেপালে ১৩৯ বছরের রাজতন্ত্র অবসানের পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা চলে আসছে । ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত অলির নতুন সরকার হল সেদেশের ১৪ তম সরকার । গত ৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডর কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (মাওবাদী) পরিচালিত জোট সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেপালের সবচেয়ে বড় শরিক দল, অলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল ইউনিফাইড মার্কসিস্ট লেনিনিস্ট (ইউএমএল) ।
এরপর সংবিধান অনুযায়ী বাধ্য হয়েই প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডকে পার্লামেন্টে আস্থাভোট ডাকতে হয় । পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ বা হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর মোট আসন সংখ্যা ২৭৫টি । কোনও রাজনৈতিক দলকে আস্থা ভোটে জিতে ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন হয় কমপক্ষে ১৩৮টি ভোটের । কিন্তু গত শুক্রবারের আস্থা ভোটে উপস্থিত ২৫৮ আইনসভার সদস্যদের মধ্য থেকে মাত্র ৬৩টি ভোট পেয়েছেন পুষ্প কমল দহল ওরফে প্রচণ্ড পরিচালিত কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল (মাওইস্ট) । দেউবার নেপালি কংগ্রেস পায় ৮৯টি আসন । অন্যদিকে অলির সিপিএন-ইউএমএল পায় ৭৮টি ভোটয় যা সরকারে গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে বেশি ।
আস্থা ভোটের পর প্রচণ্ড’র জোট সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে ইউএমএল হাত মেলায় নেপালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে । নেপালি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট শের বাহাদুর দেউবা এরপর দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে অলির নাম প্রস্তাব করেন ।