পার্লামেন্টে আস্থাভোটে পরাজিত হয়ে বিদায় নিচ্ছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল। এবার কেপি শর্মা অলির নেতৃত্বে গঠিত হবে নতুন জোট সরকার।
পার্লামেন্টে আস্থাভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল ওরফে প্রচণ্ডকে। তাঁর ২০ মাসের টালমাটাল শাসনকালের অবসানের পরে, রাজনীতিবিদ কেপি শর্মা অলির নেতৃত্বে নতুন একটি জোট সরকার গড়ার পথে এগোচ্ছে নেপাল। শুক্রবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আস্থা ভোট হয়। সেখানে ৬৩-১৯৪ ভোটে হেরে যান প্রচণ্ড। তবে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত, তিনি কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান হয়ে থাকবেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাবেন নেপালের প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌদেল।
নেপালে ২০০৮ সালে ১৩৯ বছরের রাজতন্ত্র অবসানের পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা লেগেই রয়েছে। ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত অলির নতুন সরকার হবে সেদেশের ১৪ তম সরকার। গত ৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডর জোট সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় সবচেয়ে বড় শরিক দল অলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি ইউনিফাইড মার্কসিস্ট লেনিনিস্ট বা ইউএমএল। এরপর সংবিধান মেনে প্রচণ্ডকে পার্লামেন্টে আস্থা ভোট ডাকতে হয়।
নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস- এ মোট আসন সংখ্যা ২৭৫. কোনও প্রধানমন্ত্রীকে আস্থাভোটে জিতে ক্ষমতা ধরে রাখতে গেলে প্রয়োজন হয় কমপক্ষে ১৩৮টি ভোট। কিন্তু শুক্রবারের আস্থাভোটে উপস্থিত আইনসভার ২৫৮ জন সদস্যের মধ্য থেকে মাত্র ৬৩টি ভোট দিয়েছেন পুষ্প কমল দহল ওরফে প্রচণ্ড-এর পক্ষে। বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৯৪ টি। একজন ভোটদানে বিরত ছিলেন।
প্রাক্তন মাওবাদী নেতা প্রচণ্ড নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তৃতীয় দফার মেয়াদ শুরু করেন। তখন থেকে তিনবার তিনি জোটের প্রধান শরিক বদল করেছেন এবং পাঁচবার তাকে আস্থা ভোট ডাকতে হয়েছে। এর মধ্যে একটি আস্থা ভোটে পরাজিত হন তিনি। আর সেটা ছিল শুক্রবারের আস্থা ভোট। ওদিকে, প্রচণ্ড-এর জোট সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে ইউএমএল হাত মিলিয়েছে নেপালের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে। নেপালি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট শের বাহাদুর দেউবা এরই মধ্যে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে অলিকে অনুমোদন দিয়েছেন।
ইউএমএল এবং নেপালের কংগ্রেস পার্টির মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি হয় জুনের শেষেই। যার ফলে তারা সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। অর্থাৎ, নেপালে অলিই এবার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। তিনি এর আগেও দু’বার নেপালের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তবে তাঁর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার কবে শপথ নেবে, সেটা এখনও ঠিক হয়নি।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

