বাইডেনকে কীভাবে সরানো সম্ভব?

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

১৯৮০ সালে চাপের মুখে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারকে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী তথা বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে তাঁর দলে অস্বস্তি বেড়েই চলেছে । একের পর এক ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য করায়, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের তরফেও প্রার্থী পদ প্রত্যাহারে বাইডেনের ওপর চাপ বাড়ছে । দলীয় আইনসভার সদস্য থেকে শুরু করে অর্থ সংগ্রহকারী, এমন কী দলের নীতিনির্ধারকদের একাংশও চাইছেন না, ৮১ বছর বয়সী বাইডেন আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন । তবে শত চাপেও নিজের ‘গোঁ’ ধরে আছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন । তিনি নিজেই নিজেকে যোগ্য দাবি করছেন । তিনি বলেছেন, ঈশ্বর না চাইলে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াবেন না ।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত, বৃহস্পতিবারও ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাটো সম্মেলন শেষে সংবাদিক বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে ‘ট্রাম্প’, ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কিকে ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন’ বলে সম্বোধন করে, নিজেকে হাসির খোরাক বানিয়ে ফেলেন বাইডেন । অথচ মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি ছিল, ন্যাটো সম্মেলনই বাইডেনের টিকে থাকা বা না-থাকার বিষয়টি প্রমাণের মঞ্চ । সেই সুযোগও তিনি নিয়েছিলেন, তবে ফল হয়েছে উল্টো ।

ওই মার্কিন সংবাদ সংস্থায় আরও বলা হয়েছে, সম্মেলনের ফাঁকে ফাঁকে সমালোচকদের উদ্দেশে বাইডেন কিন্তু কড়া বার্তা দিয়েছেন । বারবার বলে গেছেন, তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য পুরোপুরি ‘প্রস্তুত’ । সেই শারীরিক এবং মানসিক সক্ষমতাও তাঁর রয়েছে । তবে সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এখনকার বাইডেনকে নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে গভীর ভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে নির্বাচিত প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং দীর্ঘদিন হাউস স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা ন্যান্সি পেলোসি । দু’জনই দলের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতা । তবে বাইডেন যেন পণ করেছেন, সেটা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই গানের মত: ‘তোরা যে বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই’। যে যা-ই বলুক না কেন, নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি লড়বেনই । তাঁর একমাত্র লক্ষ্য, যে কোনোভাবে হোক, ‘গণতন্ত্রের শত্রু’ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তিনি হারাবেনই । তাই মার্কিন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিদিনই তিনি এসব দাবি করে চলেছেন ।

বৃহস্পতিবারের সংবাদিক বৈঠকে জানতে চাওয়া হয়, ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়নে ভোট দিতে আসা ‘ডেলিগেটরা’ যদি অন্য কোনও প্রার্থীকে সমর্থন করতে চান, তাহলে সেই প্রার্থী কি বাইডেনের আশীর্বাদ পাবেন? জবাবে বাইডেন বলেন, ‘তাঁরা যা চান, পুরোপুরি স্বাধীনতা নিয়েই তাঁরা সেটা করতে পারেন’ । এরপরই বাইডেন যোগ করেন: ‘আগামীকালই যদি সম্মেলনে দাঁড়িয়ে আচমকাই আমি দেখি, সবাই বলছে আমরা অন্য কাউকে চাই; সেটাও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ । তবে সেটা হওয়ার নয়’, দাবি বাইডেনের ।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাইমারি পর্বে বিপুলভাবে জয়ী হয়েছেন বাইডেন । মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, ডেলিগেটরা পার্টির প্রার্থী হিসেবে তাঁকেই সমর্থন দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ । আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রার্থী পদে টিকে থাকার পক্ষে সাফাই গাইলেও, একই সংবাদ সম্মেলনে তার মুখ ফসকে বেরতে থাকে একের পর এক ভুলভাল কথা । কখনও কখনও তাঁর হাত কাঁপতে দেখা যায় । কখনও তাঁকে ঢোক গিলতে ও কাশতে দেখা যায় । আবার কখনও মঞ্চেই লম্বা লম্বা হাই তুলছে বাইডেন । আবার এমন দৃশ্যও ধরা পড়েছে সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় ।
এর প্রেক্ষিতে ট্রাম্প তো টিপ্পনি কাটছেনই । ডেমোক্র্যাটদেরও মধ্যে এখন প্রকাশ্যে আলোচনা হচ্ছে, ‘বুড়ো জো’ ভোটে গেলে তিনি নিজেকে তো ডোবাবেনই, দলকেও নাকানিচুবানি খাওয়াবেন । তাহলে কী আবার বাইডেনকে প্রার্থী পদ থেকে টেনে নামানোর কোনো পথ আর ডেমোক্রেটিক পার্টির সামনে থাকছে না ?

কী বলছে দলটির অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা? তাদের দলীয় নিয়ম-নীতই বা কেমন?
এর উত্তর খুঁজতে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম কথা বলেছিল ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের শীর্ষ গবেষক এলাইন কামার্কের সঙ্গে । যিনি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাইমারি প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক লেখালেখি করেছেন । নিবিড়ভাবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত থেকে আইন ও বিধি প্রণয়ন কমিটিতে দীর্ঘদিন কাজ করছেন । তিনি বলেছেন, বাইডেনকে প্রার্থী পদের দৌড় থেকে সরানোর প্রক্রিয়াটি, দলের জাতীয় সম্মেলনে প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্য থেকে জড়ো হওয়া ডেমোক্রেটিক পার্টির ৩ হাজার ৯৪৯ জন ডেলিগেটের দলীয় রীতি-নীতি চর্চার ওপর নির্ভর করে ।

আগে কখনো এমন হয়েছে?
এলাইন কামার্ক বলেন, এটা অভূতপূর্ব কোনো ঘটনা নয় । ১৯৮০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সঙ্গে এরকম ঘটনা ঘটেছিল । তিনি ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ছিলেন । তবে অনেকের মনে সংশয় ছিল যে দ্বিতীয়বার প্রার্থী হলে, তিনি ভোটে হারবেন । তাছাড়া সেনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন । ফলে কার্টারকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল ।

১৯৬৮ সালের আরও একটি ঘটনা ঘটেছিল । যেখানে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট হয়েও, লিন্ডন বি জনসনকে চাপের মুখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল । জনসনের জন্য সেটি ছিল দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ । তবে বয়সের চাপে স্মৃতি লোপ পাওয়ার অভিযোগে তাঁদের কাউকে সরে দাঁড়াতে হয়নি ।
১৯৭৬ সালে রিপাবলিকান পার্টিতেও এরকম একটি ঘটেছিল । সেবার রোনাল্ড রেগান, ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডকে চ্যালেঞ্জ করেন । তবে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হন রেগান । তারপর ফোর্ডকে সাধুবাদ জানান তিনি ।

বাইডেনের বিকল্প খুঁজতে দেরি ?
বিশেষজ্ঞ কামার্ক মনে করেন, বাইডেনের বদলে অন্য একজন প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার জন্য এখনও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে । আইনের দিক থেকে এবং দলের সংবিধানের আলোয় জাতীয় সম্মেলনে ডেলিগেটদের নাম ডাকার আগে পর্যন্ত যে কোন সময় নতুন কোনো প্রার্থীকে দাঁড় করানো যেতে পারে । তবে রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি এখন বেশ কঠিন । কারণ, কমলা হ্যারিস ছাড়া নির্বাচনে দাঁড়ানোর মতো জাতীয় পর্যায়ে সুপরিচিত কোন প্রার্থী ডেমোক্র্যাটদের শিবিরে নেই ।
আরও একটি কারণ রয়েছে । সেটা হল ডেলিগেটদের সঙ্গে পরিচিতি । বাইডেনের পর দলে কমলা হ্যারিস ছাড়া এমন কোনো নেতা নেই, যাঁর সঙ্গে ৫০টি রাজ্যের বেশিরভাগ ডেলিগেটের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে যোগাযোগ রয়েছে । এই দু’জন বাদে, বিকল্প কোনও নেতার এই মুহূর্তে অ্যালাবামা, মেইন, উটাহর মত রাজ্যের ডেলিগেটদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাঁদের সমর্থন পাওয়ার সামর্থ্যও নেই ।

কমলা হ্যারিসই সম্ভাব্য বিকল্প প্রার্থী?
এলাইন কামার্ক বলেন, ‘এটা আইন বা অন্য কিছু দিয়ে নির্ধারিত নয় । তবে কথা হচ্ছে, ওই প্রায় চার হাজার ডেলিগেট কাকে চায় । প্রথমত, ডেলিগেটরা বাইডেনের খুবই অনুগামী । ফলে বিকল্প কাউকে বেছে নিতে, ডেলিগেটদের প্রতিও বাইডেনের সমর্থন থাকতে হবে । দ্বিতীয়ত, ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণে কমলা হ্যারিস ডেলিগেটদের ভালমত চেনেন । আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ওই চার হাজার মানুষের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে । ফলে এমন আর কেউ নেই, প্রার্থী হিসেবে যাঁর কথা বলা যায়’ ।

ডেলিগেট কারা, কীভাবে তারা প্রার্থী বাছাই করেন?
প্রতিটি রাজ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাইমারি শেষ হওয়ার পর, অঞ্চল ভিত্তিক সম্মেলন করে ডেলিগেট নির্বাচন করে ডেমোক্রেটিক পার্টি । আঞ্চলিক সম্মেলনে ডেলিগেট হতে আগ্রহী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা ঘোষণা করেন । নিকটস্থ কোনও হাই স্কুল কিংবা অন্য কোনও জায়গায় যতটা পারা যায় প্রার্থীরা তাঁদের বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের জড়ো করেন । এরপর প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে, ডেলিগেট নির্বাচনে লড়াই করেন । এইভাবে তাঁরা জাতীয় সম্মেলনের জন্য ডেলিগেট নির্বাচিত হন ।
এলাইন কামার্কের মতে, ডেলিগেট নির্বাচনের এই প্রক্রিয়াটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ । স্থানীয় গণমান্য এবং অভিজাতদের সমর্থন নিয়েই তাঁরা ডেলিগেট হন । ফলে বলা যায়, তাঁরা সমাজের শিক্ষক কিংবা এরকম পর্যায়ের লোক । তাঁরা কোনও না কোনও ইউনিয়নের সদস্য. কেউ দলীয় ভাবাদর্শের সামাজিক ইস্যু নিয়ে নেতৃত্বে রয়েছেন । কেউ আবার কাউন্টি কাউন্সিলর । অনেকে আবার হয়ত রাজ্যের ডেলিগেট কিংবা এমন কিছুর নেতৃত্বে রয়েছেন । ডেলিগেটরা স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ । কারণ, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে খুবই সক্রিয় । ভোটে দাঁড়ান এবং লড়াই করে নির্বাচিত হয়ে আসেন ।

৩৯৪৯ জন ডেলিগেট বাইডেনকে পাশে ?
১৯৮০ সালে প্রার্থী মনোনয়নে ডেলিগেটদের সমর্থন নিয়ে দলীয় বিভাজন চরমে পৌঁছালে, পরের নির্বাচনে নতুন নিয়ম চালু করে ডেমোক্রেটিক পার্টি । ১৯৮৪ সালের সম্মেলন থেকে এই নিয়ম চালু আছে । সেখানে ডেলিগেট ও তাদের ভোটকে ‘শুভ বিবেক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, তাঁরা যে ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছেন, ওই ব্যক্তি তাঁদের সবার ভোট পাবেন । এলাইন কামার্ক বলেন, নিয়মটি চালু হওয়ার পর থেকে এখনও কেউ পরীক্ষার মুখোমুখি পড়েননি । তা ছাড়া ‘শুভ বিবেকের ভোট’ বলতে আসলে ঠিক কী বোঝায়, সেটারও কোনো আইনি ভিত্তি নেই। নিজের ব্যাখ্যায় কামার্ক আরও বলেন, ‘শুভ বিবেক’ বলতে আসলে কী বোঝাচ্ছে? কেউ হঠাৎই মনে করলেন যে দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তাঁর পছন্দ হচ্ছে না। আবার কেউ মনে করতেই পারেন যে প্রার্থী তো হারবেন, তার জন্য দলও হারবে। তাহলে সেই প্রার্থীকে আর সমর্থন দেবেন না তিনি । বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। নিয়মটি চালু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত সেরকম কিছু দেখা যায়নি বলেই মনে করেন কামার্ক. তাঁর দাবি, ‘এটা খানিকটা রোবট আইনের মতো’। ১৯৮৪ সালের পর এমন কোনো সম্মেলন দেখা যায়নি, যেখানে ডেলিগেটরা একজনের জন্য ভোট দিতে এসে, অন্য কোনও প্রার্থীকে বেশি ভোট দিয়ে ফেলেছেন।

ডেমোক্র্যাটরা এসব নিয়ে আলোচনা করছেন ?
১৯৬৮ ও ১৯৮০ সালে চাপের মুখে দুই প্রার্থী সরে দাঁড়ালেও, ১৯৭৬ সালে ফোর্ডকে চ্যালেঞ্জ করে হেরে যান রেগান। এবার প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে বাইডেনের বেলায় কী হতে চলেছে? এ বিষয়ে এলাইন কামার্কের বক্তব্য হচ্ছে, ডেমোক্র্যাটরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে । যেহেতু সবাই প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রতিদিনকার জীবনযাপন কাছ থেকে দেখছেন না, ফলে তাদের সার্বিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করা ছাড়া উপায় নেই । তবে একটা কথা বলাই যায়, মানুষ এখন খুবই সতর্ক । তাঁরা যথাসময়েই তাঁদের সঠিক রায় শুনিয়ে দেবেন।

ক্লাইম্যাক্স কেমন হতে পারে ?
এখন কেউ যদি কয়েকটি রাজ্য মিলে ৩০০-৫০০ ডেলিগেটের সমর্থন আদায় করতে পারেন, তাহলে তিনি জাতীয় সম্মেলনে চূড়ান্ত মনোনয়নের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলেও পেতে পারেন । সে ক্ষেত্রে যদি জো বাইডেন সরে না দাঁড়ান, তাহলে আবার ভোট হবে । যিনি ন্যূনতম সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন, তিনিই হবেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদ প্রার্থী । তাঁকেই আগামী নভেম্বরে মোকাবিলা করতে হবে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ।

তবে বাইডেন যদি গোঁ ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং ডেলিগেটরা শেষপর্যন্ত যদি তাঁকে মনোনীত করেন, তাহলে তাঁর পক্ষে হয়ত ‘ট্রাম্পকে আটকানো সম্ভব হবে না’ বলে প্রকাশ্যে মত দেওয়া শুরু করেছেন ডেমোক্র্যাটদের অনেকে । আবার অল্পসময়ে একজন বিকল্প ও যোগ্য প্রার্থী বেছে নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে উত্তীর্ণ হওয়া, ডেমোক্র্যাটদের জন্য কঠিন হলেও, সেটা যে একেবারে অসম্ভব এমনটা মনে করছেন না এলাইন কামার্ক । বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইডেনের সরে দাঁড়ানোর পক্ষে আওয়াজ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে । মার্কিন সংবাদ মাধ্যম লিখেছে, শুক্রবার বাইডেনের প্রচারশিবিরের জন্য সংগ্রহ করা ৯০ মিলিয়ন ডলার আটকে দিয়েছেন ইনভেস্টাররা । এ অবস্থায় বাইডেনের জন্য নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর পথই অবধারিত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে মার্কিন রাজনৈতিক মহল ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube