অবরুদ্ধ গাজা শহর থেকে বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিল ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস বা আইডিএফ । উত্তর গাজায় অভিযান আরও জোরদার হওয়ার আগে, বুধবার ইজরায়েলি বিমান থেকে লিফলেট ছড়িয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে ।
তবে প্যালেস্তিনিয়দের অভিযোগ, তাদের যাওয়ার নিরাপদ কোনও জায়গা নেই । দক্ষিণের বিভিন্ন স্থানেও তারা হামলার মুখে পড়ছে । অধিকাংশ মানুষকেই ত্রাণ শিবিরের অস্থায়ী তাঁবুতে গাদাগাদি করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকছে বলে অভিযোগ । সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, গাজার মধ্য, দক্ষিণ এবং উত্তরে বোমা হামলা চলছে । ওদিকে, আন্তর্জাতিক মহল কাতারে বসে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরের চেষ্টা চালাচ্ছেন । আরব গণমাধ্যমের কয়েকটি খবরে বলা হয়েছে, নুসেইরাত শরণার্থী শিবির এবং দক্ষিণ গাজায় সকালের দিকে ইজরায়েলের হামলায় ৪ শিশুসহ অন্তত ৬ জন প্যালেস্তিনীয় নিহত হয়েছে । খান ইউনিসের কাছেও মঙ্গলবার একটি স্কুলে হামলা চালায় ইজরায়েলি বাহিনী । সেখানে আশ্রয় নেওয়া ৩০ জনের মৃত্যু হয় ।
ইজরায়েলি হামলায় যে কেবল নিহতের সংখ্যা বাড়ছে তা নয় । সীমান্তে কড়াকড়ির কারণে গাজায় ত্রাণ সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে । রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কর্মীরা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে মানুষজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে রাখার অভিযোগ এনেছে । হামলা থেকে মানুষজনকে সরে যাওয়ার জন্য বার বার ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর দেওয়া নির্দেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ ।
গত দুই সপ্তাহ ধরেই ইজরায়েলি বাহিনী গাজার মানুষজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে চলেছে । তারা গাজা শহরের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে অভিযান চালাতে শুরু করেছে । প্যালেস্তিনীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ ওই স্থানগুলোতে পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে, গোপনে পাওয়া এই খবরের প্রেক্ষিতেই ইজরায়েলি বাহিনী ওইসব জায়গায় পুনরায় অভিযান চালাচ্ছে বলে দাবি তেল আভিভের ।