ফোনে আড়ি পাতার অনুমতি পেল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই !
2 years ago 1 min read
নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক :
দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়
টেলিফোন কলে আড়ি পাতার ক্ষেত্রে সবুজ সঙ্কেত । পাক সেনা বাহিনীর গুপ্তচর সংস্থা এই ক্ষমতা পাওয়ায় রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল ।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআই এবার ফোন কল এবং মেসেজে আড়িপাতার আইনি অধিকার পেল । সেদেশের আইনমন্ত্রী আজম নাজীর তারার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, ৮ জুলাই তথ্য প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রককে দেওয়া এক নোটিশে এই বিষয়টি কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । তিনি বলেন, যে বা যারা এই আইনের অপব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে । তিনি আরও জানান, এই পদক্ষেপ শুধু অপরাধী ও সন্ত্রাসবাদীদের গোপন কাজকর্ম জানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে । এই নির্দেশিকা যেন কোনও অবস্থাতেই জনসাধারণের জীবন ও গোপনীয়তা লঙ্ঘন না করে, সেদিকটা সরকার নিশ্চিত করবে ।
সংবাদ সংস্থার হাতে এসেছে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রককে দেওয়া সরকারের নোটিস । তাতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং কোনও অপরাধের আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত কর্তাদের ফোন কল এবং মেসেজে হস্তক্ষেপ করতে অথবা যে কোনো টেলিকম পদ্ধতির মাধ্যমে কল শনাক্ত করার সমস্ত অনুমতি দেওয়া হল’ । স্বাধীনতার পর থেকে পাক ইতিহাসের প্রায় অর্ধেক সময় দেশটি সামরিক শাসনের অধীনে ছিল । সেদেশে সামরিক বাহিনীকেই দেখা যায় সরকার গড়তে ও ভাঙতে বড় ভূমিকা পালন করতে । এখন সামরিক বাহিনীর গুপ্তচর সংস্থা নতুন এই ক্ষমতা পাওয়ায়, রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা আরও জোরদার হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল । আইএসআইকে ফোনে আড়িপাতার সবুজ সঙ্কেত দেওয়ায় বিরোধী দলসহ সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ।
জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই পার্লামেন্টে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বক্তব্য রেখেছে । দলের অন্যতম মুখপাত্র ওমর আইয়ুব খান জানিয়েছেন, গুপ্তচর সংস্থাটি তাদের এই ক্ষমতার বলে বলিয়ান হয়ে সরকারি দলের আইন সভার সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করবে ? নাকি বেছে বেছে শুধু বিরোধীদের টার্গেট করবে ? আদালতে গিয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাবে বলে জানিয়েছেন পিটিআই মুখপাত্র । তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় থাকাকীলন ইমরান খানও রাজনীতিবিদদের টেলিফোনে আইএসআইয়ের নজরদারিতে সমর্থন করেছিলেন । যদিও সেই সময় এর কোনো আইনি অনুমোদন ছিল না । এসব বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআরকে অনুরোধ করেছিল সংবাদ সংস্থা. যদিও তাতে সাড়া দেয়নি বলেই অভিযোগ ।