ন্যাটো সম্মেলন: রাশিয়াকে প্রতিরোধ ও ইউক্রেনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

ইউক্রেনকে রাশিয়ার হুমকি । পরিস্থিতি মোকাবিলায় জার্মানিতে দীর্ঘ পাল্লার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিল ন্যাটো জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ।

ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটের তিন দিনের সম্মেলনের প্রথম দু’ দিনে রাশিয়াকে প্রতিরোধ ও ইউক্রেইনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে । যার মধ্যে অন্যতম হল, ২০২৬ সালের মধ্যে জার্মানিতে দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের কর্মসূচি । রাশিয়া ইউরোপের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেছে ন্যাটো । মস্কোর এই হুমকি মোকাবিলায়, জার্মানিতে দীর্ঘ পাল্লার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বড় ধরনের একটি পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল । সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে স্নায়ু যুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের যে কোনও দেশে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র পাঠাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । আর এটাই হতে চলেছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইউরোপে বড় মাপের এসএম-৬, টমাহক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার প্রস্তুতি চলছে । ১৯৮৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত মধ্যবর্তী পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির আওতায় এই পদক্ষেপটি নিষিদ্ধ হয়ে যেত । কিন্তু ২০১৯ সালে সেই চুক্তি ভেস্তে যায় ।

ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্তোলতেনবার্ক
বুধবার ন্যাটো সদস্যদের প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা বন্ধু রাষ্ট্রদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে হামলার সম্ভাবনা বাদ দিতে দিতে পারছে না । সম্মেলনে নেটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি আরও সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে । সেই সঙ্গে, ইউক্রেইনকে আরও সামরিক সাহায্য পাঠানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে । বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো আগামী বছরের মধ্যে ইউক্রেইনকে অন্তত চার হাজার কোটি ইউরোর সমতুল্য অর্থের সামরিক সাহায্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে । তবে ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্তোলতেনবার্ক বহু বছর ধরে ইউক্রেইনকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আহ্বান জানালেও, এতদিন সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি ন্যাটোর সদস্যরা ।

চিনের বিষয়ে ন্যাটো নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করেছে । বিবৃতিতে ইউক্রেইন ও রাশিয়ার মধ্যে চলা যুদ্ধে, চিনকে ‘নির্ণায়ক সক্ষমকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে । বেইজিং ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করে চলেছে বলেও মনে করছে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলি । স্তোলতেনবার্গ সাংবাদিকদের জানান, এই প্রথমবারের মতো ন্যাটোর ৩২ সদস্য রাষ্ট্রের সবাই যৌথভাবে চিনকে রাশিয়ার যুদ্ধের নির্ণায়ক সক্ষমকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে । এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি । স্তোলতেনবার্গ আরও জানান, ন্যাটো কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সংগঠন নয় ।

নেটোর সম্মেলনে জোরালো বক্তব্য বাইডেনের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, তাঁর মনে হয় যে ন্যাটোর এই সম্মেলন থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে তারা যে বার্তা দিয়েছেন, সেটা খুব পরিষ্কার । ওই বিবৃতিতে চিনকে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় রাজনৈতিক ও বস্তুগত সমর্থন দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে । চিনের মহাকাশ সক্ষমতা ও তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের দ্রুত সম্প্রসারণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি । পাশাপাশি, বেইজিংকে কৌশলগত আলোচনায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয় । বুধবার রাতে ওয়াসিংটনে জো বাইডেন ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের হোয়াইট হাউজে এক নৈশভোজে আপ্যায়িত করেন । ন্যাটো জোটকে ‘বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ জোট’ বলে অভিহিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube