ভোট মিটতেই হু হু করে বাড়ছে সবজির দাম। বাজারে যেতে ভয় পাচ্ছে মধ্যবিত্ত। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার নবান্নে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে বাজারদর নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সের সদস্য সহ কৃষি দফতরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন বৈঠকের সবজির আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছরের সঙ্গে বর্তমানের বাজার দর তুলনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ‘গত বছর আলুর দাম ছিল ২২, এবছর হয়েছে ৩৫ টাকা। পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫, এই বছর হয়েছে ৫০ টাকা। গত বছর যেখানে রসুনের দাম ছিল ২০০ টাকা এইবারে দাম দাঁড়িয়েছে ২৮০ টাকা। বেগুনের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে। লাউয়ের দাম ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। (প্রতি সবজির দাম কেজি দরে উল্লেখ করা হয়েছে)
তবে গত এক বছরে বেশ কিছু সবজির দাম কিছুটা কমেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গত বছর কাঁচা লঙ্কার দাম ছিল ৬০ টাকা, এবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ টাকা। টমেটোর দাম ১২০ টাকা কমে দারিয়েছে৮০ টাকা। পটলের দাম ৫৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকায় নেমেছে। করলার দাম গত বছর ছিল ১০০ টাকা এবছর তা দাঁড়িয়েছে ৭৫ টাকায়। ভেণ্ডির দাম ৮০ টাকা থেকে কমে ৭৫ টাকায় নেমেছে।
আলু-পেঁয়াজ হেঁশেলে নিত্যপ্রয়োজনীয়। এই দুই সবজির দাম কমাতে হবে বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাসিক থেকে পেঁয়াজ আমদানি নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, নাসিক থেকে কেন পেঁয়াজ আনতে হবে? তিনি পরামর্শ দেন, ‘নাসিক থেকে পেঁয়াজ না এনে চাষিদের কাছ থেকেই ১০০ শতাংশ পেঁয়াজ কিনলে চাষিরাও দাম পাবেন এবং পেঁয়াজের দামও বাজারে অনেকটা কমবে।‘
একইসঙ্গে কড়া ভাষায় নির্দেশ দেন, আগামী দশদিনের মধ্যে সবজির দাম কমাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলে দেন, ‘বাজার দর নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সকে সাত দিন অন্তর অন্তর বৈঠক করতে হবে। মুখ্যসচিব, অর্থ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এই বৈঠকে যুক্ত থাকবেন। প্রত্যেক মিটিংয়ের পর বাজারদর নিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

