বিধানসভা উপনির্বাচনে বাগদা কেন্দ্রের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে শাসক দল তৃণমূলের। ২০২১-এ এই কেন্দ্রে জয় পায় বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনেও বাগদায় অনেকটাই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। আসন দখলে বিশেষ কৌশল নিয়েছে শাসক দল। আর প্রচারের শেষ লগ্নে হাতজোড় করে বাগদাবাসীর উদ্দেশে বিশেষ আবেদন করলেন তৃণমূলের সাংসদ পার্থ ভৌমিক।
সোমবার ছিল বিধানসভা উপনির্বাচনের শেষ প্রচার। বাগদায় তৃণমূলের প্রার্থী ঠাকুরবাড়ির সদস্য মধুপর্ণা ঠাকুর। গতকাল এই প্রচারের শেষ লগ্নে তৃণমূল প্রার্থীকে পাশে নিয়ে বলেন, ‘লোকসভা ভোটে ২৯ টি আসন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়েছেন। আমি বাগদার মানুষের কাছে আবেদন করছি- আপনারা ২০১৪, ২০১৬, ২০২১, ২০২৪-এ আমাদের হারিয়ে দিয়েছেন। এবার আমাদের প্রার্থীকে জয়ী করুন।‘ তিনি আরও বলেন, ‘একটা সুযোগ দিন। যদি মধুপর্ণা কাজ করতে না পারেন, দু’বছর পর আবার বিধানসভা নির্বাচন তখন ফিরিয়ে দেবেন।‘
বাগদা বিধানসভা কেন্দ্র বনগাঁ লোকসভার অন্তর্গত। ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁয় জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর। বাগদার প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ছিলেন এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। বনগাঁ লোকসভার অন্তর্গত বাগদা সহ ছয়টি বিধানসভাতেই হারতে হয়েছে তাঁকে। সূত্রে খবর, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে শাসক দল বুঝতে পেরেছে বনগাঁজুড়ে ঠাকুরবাড়ির প্রভাব অনেক। তাই উপনির্বাচনে সেই ‘অ্যাডভান্টেজ’ পেতে চাইছে শাসক। তারা প্রার্থী করেছে প্রয়াত তৃণমূল সাংসদ কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের ছোট মেয়ে মধুপর্ণা ঠাকুরকে। অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী বিনয় কুমার বিশ্বাস, যিনি মতুয়া হলেও ঠাকুরবাড়ির সদস্য নন। তাই বাগদায় জয় নিয়ে আশাবাদী তৃণমূল।
প্রচারের ক্ষেত্রেও বিশেষ কৌশল গ্রহণ করে শাসক দল। যেমন উপনির্বাচনের প্রচারে কোনও বড় সভা-সমাবেশ বা রোড শো-মিছিলের বদলে ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে প্রচার সারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।। এই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু, ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক, অশোকনগরের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীকে। আগামীকাল, ১০ জুলাই বাগদায় উপনির্বাচন। বিজেপি কি এবারেও বাজিমাত করবে নাকি খেলা ঘোরাবে শাসক দল, সেইদিকেই তাকিয়া রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

