ক্যাবিনেট সাজাচ্ছেন স্টারমার

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

ধরাশায়ী কনজার্ভেটিভ পার্টি । ব্রিটেনে এবার সরকার গড়ছে লেবার পার্টি । প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বছর একষট্টির কিয়ার স্ট্যারমার । ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই, নতুন সরকার গঠনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন ভাবী প্রধানমন্ত্রী । প্রথম পর্যায়ে তিনি ২০ জন মন্ত্রী বেছে নিয়ে, তাঁদের দায়িত্বও বণ্টন করে দিয়েছেন । ব্রিটেনের নতুন মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বড় চমকে রেইচেল রিজ । যিনি ব্রিটেনের ৭০৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম চ্যান্সেলর অফ এক্সচেকার বা অর্থমন্ত্রী ।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের ৬৫০টি আসনে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয় । দু’টি আসন ছাড়া, শুক্রবার প্রকাশিত ৬৪৮টি আসনের ফলাফল । গতবারের চেয়ে ২১৪টি আসন নিয়ে কিয়ার স্টারমারের লেবার পার্টি এবার মোট ৪১২টি আসনে জয়লাভ করেছে । আর গতবারের চেয়ে ২৫২টি আসন হাতছাড়া হয়েছে কনজার্ভেটিভ পার্টির । তাদের ঝুলিতে ১২১টি আসন । পাশাপাশি ভাল ফল করেছে লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টি । তাদের প্রার্থীরা জিতেছেন ৭১টি আসনে । এর আগে কোনও নির্বাচনেই তারা এত ভাল ফল করেনি । বাকি আসনগুলিতে জয়লাভ করেছেন অন্যান্য দল ও নির্দল প্রার্থীরা ।

ভোটের ফলাফলের প্রেক্ষিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই, সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে দেন কিয়ার স্টারমার । টোরি নেতা ঋষি সুনাক বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেওয়ার পরই, বাকিংহাম প্রাসাদে রাজার সঙ্গে দেখা করেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার । সেখান থেকে সরকার গঠনের অনুমতি পাওয়ার পর, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ফিরে গিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি । তার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় তার মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া । তারপর দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে একে একে ডাক পান লেবার পার্টির প্রবীণ নেতা থেকে শুরু করে জয়ী প্রার্থীরা । সংবাদ সংস্থার দাবি, প্রধানমন্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ শুক্রবারই ২২ সদস্যের মন্ত্রিসভার গঠনের কথা জানিয়ছে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট

উপপ্রধানমন্ত্রী – অ্যাঞ্জেলা রেইনাহ

কিয়ার স্টারমার তার সরকারে উপ-প্রধানমন্ত্রী করেছেন অ্যাশটন-আন্ডার-লিন এর এমপি অ্যাঞ্জেলা রেইনাহকে । গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা রেইনাহ নির্বাচনের আগে বাড়ি বিক্রি করা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন । তবে পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি ।

চ্যান্সেলর অফ এক্সচেকার বা অর্থমন্ত্রী – রেইচেল রিভ্‌স

ব্রিটিশ সরকারের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন অর্থমন্ত্রী । যার দায়িত্ব পেয়েছেন রেইচেল রিভ্‌স । দক্ষিণ লন্ডনে বেড়ে ওঠা রিভ্‌স ২০১০ সালে লিডস ওয়েস্ট থেকে প্রথমবার সংসদ সংদস্য নির্বাচিত হন । তার আগে তিনি অর্থনীতি নিয়ে কাজ করতেন । এবার লিডস ওয়েস্ট ও ফাডজি আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি । তার ছোট বোন এলি রিভ্‌স ২০১৭ সাল থেকে এমপি । অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় লেবার পার্টির নীতি পরিকল্পনার কথা উদ্ধৃত করে বলেন, তাঁর দলের প্রধান লক্ষ্য হল ব্রিটেনের অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানো ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী – ডেভিড লামি

স্টারমারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন গায়ানিজ বংশোদ্ভূত ডেভিড লামি । তাঁর জন্ম লন্ডনে । ১২ বছর বয়সে বাবা মারা গেলে তার মা একাই তাকে লালন-পালন করে বড় করেন । অত্যন্ত মেধাবী লামি প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্রিটিশ হিসেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান । ২০০০ সালে মাত্র ২৭ বছর বয়সে টনেনহ্যাম থেকে ব্রিটেনের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়ে, টনি ব্লেয়ারের মন্ত্রিসভায় জুনিয়র মন্ত্রীর পদ পান । বিরোধী দলে থাকাকালীন পার্লামেন্টে তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেইনের প্রতি লেবার পার্টির ‘লৌহকঠিন সমর্থন’ রয়েছে । তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি একসময় তাঁর ধারনা ছিল ভিন্ন । তাঁকে একবার ‘নব্য নাৎসি মানসিকতার পোষণকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন । তবে সম্প্রতি সেই অবস্থান পাল্টে বলেন, ট্রাম্প আবার প্রেসিডেন্ট হলে যৌথ স্বার্থে তার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন লামি ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী – এভেট কুপা

লেবার পার্টির মধ্যে শীর্ষ পদধারী নারীদের মধ্যে একজন হলেন এভেট কুপা । স্টারমারের মন্ত্রিসভায় তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । একসময় ছিলেন সাংবাদিক । কুপা ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে প্রথমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ঢোকার ছাড়পত্র পান । তাঁর স্বামী এড বলসও তখন এমপি ছিলেন ।

আরও যাঁরা মন্ত্রী হলেন
ব্রিটিশ সার্বভৌম ‘প্রাইভেট এস্টেট’ ডাচি অব ল্যাংকাস্টার চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লেবার পার্টির আইনসভার প্রবীন সদস্য প্যাট ম্যাকফ্যাডেন । জীবনে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে রাজনীতিতে আসা তুখোড় আইনজীবী শাবানা মাহমুদকে করা হয়েছে লর্ড চ্যান্সেলর তথা তাঁকে দেওয়া হয়েছে বিচার বিভাগের দায়িত্ব । প্রাক্তন কনজার্ভেটিভ নেত্রী লিজ ট্রাসের পর তিনিই দ্বিতীয় মহিলা, যিনি এই দায়িত্ব পেলেন ।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে জন হিলিকে । সামরিক ভাবে খরচ কমানোর পক্ষে হলেও, ইউক্রেইনের পক্ষে জোরালো অবস্থান রয়েছে তার । যুক্তরাজ্যের জাতীয় সমস্যার মধ্যে বেশি আলোচিত স্বাস্থ্য । স্টারমার মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ও য়েস স্ট্রিটিং ।
ব্রিটেনের শিক্ষামন্ত্রী হচ্ছেন ব্রিজিট ফিলিপসন । ২০১০ সালে প্রথমবার এমপি হন তিনি ।
জ্বালানী মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এড মিলিব্যান্ডকে । অবশ্য তাঁর মন্ত্রকের নাম জ্বালানি নিরাপত্তা ও নেট জিরো । ২০১০ সালে লেবার সরকারের শেষ দিকে এমন দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি ।

  • কর্ম ও পেনশন মন্ত্রী হয়েছেন লিজ কেন্ডাল
  • ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী হয়েছেন জোনাথন রেনল্ডস
  • বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের দায়িত্ব পেয়েছেন পিটার কাইল
  • লুইস হাইগকে করা হয়েছে পরিবহন মন্ত্রী
  • পরিবেশমন্ত্রী হয়েছেন স্টিভ রিড
  • সংস্কৃতি, সংবাদ মাধ্যম এবং ক্রীড়া মন্ত্রকের দায়িত্বে লিসা নন্দি
  • হিলারি বেনকে নর্দান আয়ারল্যান্ড বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে
  • আইয়ান মুরেইকে স্কটল্যান্ড বিষয়ক দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে
  • ওয়েলস বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে জো স্টিভেনসকে
গুরুত্বপূর্ণ পদে আর যাঁরা

  • লুসি পাওয়েল হয়েছেন কমন্স নেতা এবং লর্ডসের নেতা করা হয়েছে ব্যারোনেস স্মিথকে
  • পার্লামেন্টে লেবার পার্টির চিফ হুইপ করা হয়েছে অ্যালান ক্যাম্বলকে
  • রেইচেল রিজকে দায়িত্ব দেওয়ার পর তার সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ড্যারেন জোনস
  • অ্যাটর্নি জেনারেল পদে বসানো হয়েছে রিচার্ড হারমারকে
নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube