গত ২৭ জুন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে খারাপ পারফরম্যান্স । তার জেরে ঘরে বাইরে সমালোচনার মুখে দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট । পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ৮১ বছর বয়সী জো বাইডেনকে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবিও উঠেছে ।
মার্কিন মুলুকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম টেলিভিশন বিতর্কে ভরাডুবির পর, দলের ভিতরে ও বাইরে সমালোচনার মুখে অশিতিপর জো বাইডেন । তবু ভোটের ময়দান থেকে তিনি কোনও অবস্থাতেই সরছেন না, সাফ ঘোষণা বর্তমান প্রেসিডেন্টের । আমেরিকার একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একমাত্র ঈশ্বর যদি বলেন, তাহলেই তিনি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীর লড়াই থেকে সরে দাঁড়াবেন, অন্যথা নয় । এর আগে হোয়াইট হাউসের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও তিনি বলেছিলেন, তিনি কোথাও যাচ্ছেন না ।
গত মাসের ২৭ তারিখ প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান দলের প্রার্থী তথা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিভিশনের বিতর্কে নড়বড়ে পারফরম্যান্সের পর বাইডেনের দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্যরাও সোচ্চার হয়েছিলেন, তিনি যেন আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন । তাঁদের যুক্তি ছিল, ডেমোক্র্যাট সমর্থক এবং ভোটাররাও এখন উদ্বিগ্ন । কারণ, আবারও হোয়াইট হাউসের টিকিট পেলে, পরবর্তী সাড়ে চার বছর বাইডেন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারবেন কি না, সেটা নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে । বিশেষ করে তাঁর বয়সকে কেন্দ্র করে ।
শুক্রবার আরও একটি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেন জো বাইডেন । সেখানে বর্তমান প্রেসিডেন্টের দিকে উড়ে আসে চোখা চোখা প্রশ্ন । যার অধিকাংশই ছিল – পুনরায় নির্বাচিত হলে, পুরো মেয়াদে কাজ করতে পারবেন কি না এবং বয়স ও কাজ করার সক্ষমতাকে অস্বীকার করতে চান কি না, এই সমস্ত ইস্যু । জবাবে, গত সপ্তাহে টেলিভিশন বিতর্কে নিজের নড়বড়ে পারফরম্যান্সের জন্য ক্লান্তি ও ‘প্রচণ্ড ঠাণ্ডা লাগাকে’ দায়ী করে জো বাইডেন দিপ্ত কন্ঠে বলেন, ‘আমি মনে করি না প্রেসিডেন্ট হওয়ার বা এই দৌড়ে জয়ী হওয়ার জন্য আমার চেয়ে বেশি যোগ্য আর কেউ আছে’ ।
২২ মিনিটের সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘যদি সর্বশক্তিমান স্বয়ং নেমে এসে আমাকে এই লড়াই থেকে সরে যেতে বলেন, তাহলেই আমি নিজেকে সরিয়ে নেব’ । তবে অশিতিপর প্রেসিডেন্ট গত সপ্তাহের টেলিভিশন বিতর্কের মঞ্চের থেকে সংবাদমাধ্যমের একান্ত সাক্ষাৎকারে বেশি স্পষ্ট এবং দৃঢ়ভাবে কথা বলেছেন । যদিও তার কণ্ঠস্বর দুর্বল এবং মাঝে মাঝে কর্কশ শোনাচ্ছিল, তবু তিনি ছিলেন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী । এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল ।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ডিবেট বিপর্যয়ের পর বাইডেন যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, সেই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারটিকে ৮১ বছর বয়সি এই রাজনীতিকের জন্য ‘বড় পরীক্ষা’ বলে মনে করছেন অনেকেই । এমনকি দলের মধ্যেও সমালোচিত হচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট । সম্প্রতি নিজের শহর উইসকনসিনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভোটারদের একটি মিছিল-সমাবেশে যোগ দেন বাইডেন । মিছিল শেষে যখন মঞ্চে উঠতে যাচ্ছেন বাইডেন, তখন সমর্থকদের মধ্যে, বেশ কয়েকজন দেখা যায় প্ল্যাকার্ড হাতে । তাতে লেখা ছিল ‘মশাল হস্তান্তর করুন, জো’ । আরও একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘আপনার উত্তরাধিকার রক্ষা করুন, সরে যান!’ ।
এরপরই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাইডেন বলেন, ‘আমি এমন সব গল্প শুনেছি, যেখানে বলা হচ্ছে আমি অনেক বুড়ো হয়ে গেছি’ । তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘আমি কি দেড় কোটি কর্মসংস্থান তৈরির জন্য খুব বৃদ্ধ ছিলাম? আমি কি ৫০ লক্ষ নাগরিকের শিক্ষাঋণ শেষ করতে খুব বৃদ্ধ ছিলাম ?’ এরপর তিনি জনতার উদ্দেশে বলেন ‘প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করার জন্য আমার বয়স কি খুব বেশি ?’ জবাবে জনতার উত্তর ছিল ‘না’ ।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং অন্যান্য মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীকে ‘ওয়ান ম্যান ক্রাইম ওয়েভ’ বলে চিহ্নিত করেন । এদিকে বিতর্কে ভরাডুবির পর আগ্রাসী নির্বাচনি প্রচারে নামার পরিকল্পনা করছেন জো বাইডেন । স্ত্রী জিল বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস চলতি মাসে লড়াইয়ের মূল ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত রাজ্যগুলো সফর করবেন । পেনসিলভেনিয়ায় আরেকটি সমাবেশে বাইডেনের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে রবিবার । বাইডেন তার ভাইস প্রেসিডেন্টকে সমর্থনের জন্যও ধন্যবাদ জানিয়েছেন । বাইডেন ভোটের মাঠ থেকে সরে গেলে, দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড কমলা হ্যারিসের ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি ।