নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়
যত দিন যাচ্ছে, প্রযুক্তির হাত ধরে মানুষের জীবন আরও আধুনিক, আরও উন্নত হচ্ছে । কিন্তু সব কিছুই কী মানুষের উপকারে লাগছে ? না । কিছু কিছু ক্ষেত্রে উন্নততর প্রযুক্তির ক্ষতিকারক প্রভাবও পড়ছে আমাদের জীবনে । দেখা যাচ্ছে – ফোন, টিভি কিংবা কম্পিউটার স্ক্রিনে বেশি সময় ব্যয় করলে, হতে পারে ‘ভুলে যাওয়ার রোগ’ । যাকে বলা হচ্ছে ডিজিট্যাল ডিমেনশিয়া । চিন্তা ও স্মরণশক্তি, কথা বলা, বিচারবুদ্ধি এবং জীবনের সার্বিক মানের ওপর যখন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তাকে বলে ‘ডিমেনশিয়া’ বা চিত্তভ্রংশ । বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মানুষের যে ক্ষতি হয়, সেটাই হল ‘ডিজিট্যাল ডিমেনশিয়া’ ।
জার্মানির স্নায়ু ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর ম্যানফ্রেড স্পিৎজার ২০১২ সালে প্রথম ‘ডিজিট্যাল ডিমেনশিয়া’-র ধারনা, সবার সমক্ষে পেশ করেন । তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলাফল হল মানুষের জ্ঞানীয় ক্ষমতায় পরিবর্তন’ ।
শারীরিক সমস্যা হিসেবে এই রোগ চিহ্নিত করা না হলেও, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ‘স্ক্রিন টাইম’ বা বৈদ্যুতিক পর্দার দিকে তাকিয়ে অতিরিক্ত সময় কাটিয়ে দিলে, সেটা মস্তিষ্কের জ্ঞানীয় ক্ষমতায় পরিবর্তন আনে ।



এই ধরনের সমস্যা কোনও মেডিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে না । তাই সমস্যা নির্ণয় করা খুবই কঠিন । তবে কিছু লক্ষণের মাধ্যমে ডিজিটাল স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ পায় । সেগুলি হল –
• সাময়িক স্মৃতিলোপ
• সহজেই ভুলে যাওয়া বা কোনো কিছু হারিয়ে ফেলা
• কোনও শব্দ মনে করতে কষ্ট হওয়া
• একসঙ্গে কয়েকটি কাজ বা ‘মাল্টিটাস্কিং’ করতে সমস্যা হওয়া এছাড়া মনোযোগের অভাব, কথাবার্তা ও যোগাযোগ ক্ষমতায় সমস্যা সহ মানুষের চরিত্রে নানান ধরনের প্রভাব দেখা দিতে পারে । এছাড়া অতিরিক্ত সময় কোনও ইলেকট্রনিক স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে, রাতে ঘুমের সমস্যা হয় এবং মেজাজও ঠিক থাকে না । আর এগুলিই পরবর্তীকালে মস্তিষ্কের কাজকর্মে প্রভাব ফেলে ।

‘ডিজিট্যাল ডিমেনশিয়া’ সারানোর সেই অর্থে কোন ওষুধ নেই । তাই মনে রাখতে হবে যে প্রযুক্তির ব্যবহার কমানোই হবে আসল দাওয়াই । এক্ষেত্রে আমাদের আরও কিছু পদক্ষেপে অনুসরণ করা দরকার ।

- নোটিফিকেশন মাত্রা কমানো : ফোনের দিকে বারবার মনোযোগ চলে যাওয়া আটকানোর একটি উপায় হল, নোটিফিকেশনের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া । যেগুলির কোনও প্রয়োজন নেই কিংবা অপেক্ষাকৃত কম দরকারি, সেগুলির নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা ।
- নিস্ক্রিয় মিডিয়ার সময় কমানো : যে কোনও ব্যক্তির কাজের মাত্রার ওপর এই বিষয়টা নির্ভর করে । তবে কাজ ছাড়া বিনা কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটানোর সেই সময়টা কিন্তু কমাতে হবে ।
- মনোযোগের অন্য বিষয় খোঁজা : একঘেঁয়ে সময় কাটাতে ফোন কিংবা টিভি দেখার লোভ সামলাতেই হবে । আপনি চিন্তা করে দেখুন যে শেষ কবে বই পড়েছিলেন বা বাইরে হাঁটতে গিয়েছিলেন । এই ধরনের টুকরো টুকরো কিছু বিষয়ের দিকে নজর দিলে, মোবাইল কিংবা টিভির দিকে হয়ত নজর কম যাবে ।
- সময় নির্দিষ্ট করা : ‘স্ক্রিন টাইম’ কমানোর মানে এই নয় যে সব কিছু বন্ধ করে দিতে হবে । তবে সবকিছুর জন্য সময় নির্দিষ্ট করে রাখা দরকার । অবসর সময়ে কিছুক্ষণ মোবাইল ফোন দেখা, গেইম খেলা কিংবা টিভি দেখায় অভ্যাস করতে হবে । তবেই চোখও ভাল থাকবে ।
Latest posts by news_time (see all)
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

