যুদ্ধবন্দীদের মুক্তির বিষয়টি নিয়ে হামাসের সঙ্গে আলোচনা করতে মধ্যস্থতাকারী দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গাজায় যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, তাতে কার্যত সম্মতি জানিয়েছে তাদের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি গত মে মাসের শেষের দিকে এই পরিকল্পনার রূপরেখা পেশ করেছিলেন। ওই মাসেরই প্রথম দিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল কায়রোর বৈঠকে।
তবে নিজেদের জবাবে হামাস ঠিক কী বলেছে, সেটা প্রকাশ্যে না এলেও, প্যালেস্তাইনের এক শীর্ষ কর্তা বলেছেন, বাইডেন যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রেখেছেন, সে বিষয়ে নতুন কোনো দাবি করেনি হামাস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা বলেছেন, হামাস তার অবস্থানে ‘বেশ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’ আনতে রাজি হয়েছে। তাঁর মতে, এর ফলে এক জটিল অচলাবস্থা কাটার পথে। ওই শীর্ষ কর্তা আরও বলেন, বাইডেন ও নেতানিয়াহুর মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের কথপোকথনে যুদ্ধবন্দী হস্তান্তর এবং যুদ্ধবিরতির সমাঝোতার বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
হামাস নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, একটি চুড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আলোচনা চালিয়েছে। সংবাদ সংস্থার দাবি, যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইজরায়েলি সেনাবাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করাই হল এখনও পর্যন্ত হামাসের অন্যতম প্রধান দাবি। অন্যদিকে ইজরায়েল জানিয়েছে, হামাসকে নির্মূল না করা পর্যন্ত, তারা এই সংঘর্ষে কেবল সাময়িকভাবে বিরতির ঘোষণা করেছে।
প্রসঙ্গত, ইজরায়েলের প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে, গত মে মাসের ৩১ তারিখ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে তিন পর্বের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের চূড়ান্ত ধাপে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বড়সড় পুনর্গঠনের কথা বলা আছে। গত ছয় মাসের যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গাজা ভূখণ্ড। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবের প্রথম ধাপে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি পণবন্দী এবং যুদ্ধবন্দীদের বিনিময়ের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবের দ্বিতীয় ধাপে সংঘর্ষের স্থায়ী অবসান এবং গাজা ভূখণ্ড থেকে ইজরায়েলের সব সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে গাজার দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন কর্মসূচির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
গত ৭ অক্টোবর ইজরায়েল ভূখণ্ডে হামাসের হামলায় প্রায় কমপক্ষে ১২০০ মানুষের মৃত্যু হয় এবং ২৫১ জনকে পণবন্দী করা হয় বলে দাবি করে আসছে ইহুদী রাষ্ট্রটি। এর পাল্টা গাজায় যে অভিযান চালিয়েছে ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস, তাতে ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে হামাস পরিচালিত প্যালেস্তাইনের স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

