প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি বিতর্কে ভাল ফল করতে পারেননি বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন । তারপরেও, মার্কিন ভোটারদের মধ্যে সমর্থনের দিক থেকে দু’জনই কিন্তু সমানে সমানে । এমনটাই বলছে রয়টার্স/ইপসোস সমীক্ষার ফল ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নভেম্বরের আসন্ন নির্বাচনে জয় পেতে, তাঁর রিপাবলিকান প্রতিপক্ষ প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সমান সমান জন সমর্থন নিজের পক্ষে টানতে পেরেছেন । সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি ডিবেটে জো বাইডেন ভাল পারফর্ম না করতে পারলেও, ভোটারদের মধ্যে সমর্থনের দিক থেকে দু’জনের অবস্থান কার্যত সমানে সমানে । এমনটাই দেখা গেছে রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত জনমত সমীক্ষায় ।
দু-দিন ধরে ভোটারদের মধ্যে চলা এই সমীক্ষায় দেখা গেছে – বাইডেন এবং ট্রাম্প, দুইজনই কিন্তু ৪০ শতাংশ জনসমর্থন পেয়েছেন । এর ফলে হোয়াইট হাউজের দৌড়ে, দু’জনেরই আরও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের । নতুন এই সমীক্ষার আগে, গত জুন মাসে রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত অন্য একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, বাইডেনের থেকে ট্রাম্প মাত্র ২ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে । ট্রাম্পের সঙ্গে ডিবেট ইস্যুতে বাইডেন স্বীকার করেছেন যে, সেইদিন তিনি ততটা ভাল করতে পারেননি । মঞ্চে তিনি প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন । কারণ, বিতর্কের আগে আকাশপথে দু’টি বিদেশ সফরের ক্লান্তি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল । বাইডেনের ওই দুর্বল পারফরমেন্সের কারণে একটি মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের ইন্সট্যান্ট সমীক্ষায় দেখা যায়, ট্রম্পই জয়ী হয়েছেন । আর ডেমোক্র্যাট শিবিরে দেখা দেয় হতাশা আর আতঙ্ক । এর পরই জো বাইডেনকে সরানো নিয়েও দলে অন্দরেও সুর ক্রমশ চড়ছে ।
রয়টার্স/ইপসোস সমীক্ষার ফলে বাইডেন-ট্রাম্পের জনসমর্থন সমান সমান দেখা গেলেও, ডেমোক্র্যাট শিবিরের অধিকাংশ সদস্যই এখন মনে করছেন – এবারের নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে যাওয়া উচিত জো বাইডেনের । দেখা গেছে, ডিবেট শোয়ের পর ডেমোক্র্যাট শিবিরে প্রতি তিনজনে একজন মনে করেন, বাইডেনের সরে দাঁড়ানো উচিত । তবে বাইডেন এখনও নিজের অবস্থানে অনড় । অন্যদিকে সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন বলেছেন, তাঁরা কাকে ভোট দেবেন সেটা এখনও নিশ্চিত নন । তারা একজন ভিন্ন প্রার্থীকে বেছে নেবেন, নাকি ভোটই দেবেন না, সেটাও এখনও মনস্থির করতে পারেননি । সমীক্ষায় নির্দল প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে কোনও প্রশ্ন ছিল না । জুন মাসে একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, বাইডেন ব্যালটে থাকলে তাকে ভোট দেবেন ১০ শতাংশ ভোটার ।
বাইডেন এবং ট্রাম্প দুইজনেরই গুরুত্বপূর্ণ কিছু দায়-দায়িত্ব আছে । বাইডেনের জন্য এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর ৮১ বছর বয়স একটা বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা দিচ্ছে । যে উদ্বেগ ট্রাম্পের সঙ্গে তার বিতর্কের পর আরও বেড়ে গেছে. রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত নতুন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের ৮৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৯৭ শতাংশ সমর্থক মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম বিতর্কে বাইডেন যে হোঁচট খেয়েছেন, সেটা থেকে একটা ছবি স্পষ্ট যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত । আর ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এমন মত পোষণ করেন মাত্র ৫৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ১১ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক । ফলে বয়স ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুধু ঘরেই নয় । বাইরেও ক্রমশ জো বাইডেনের জনপ্রিয়তা কমছে ।