প্রথম ডিবেটে ধাক্কা, দলের অন্দরে চাপে বাইডেন! বিকল্প হ্যারিস ?

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

দলের অন্দরেই চাপে জো বাইডেন । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড় থেকে সরে যেতে, তাঁর দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভিতর থেকেই চাপ জোরাল হচ্ছে ।বর্তমান প্রেসিডেন্টের বিকল্প হিসেবে, প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হিসেবে দলের পছন্দ ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ।

প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী তথা প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি বিতর্কে ধরাশায়ী হওয়ার পর থেকেই ঘরে বাইরে চাপের মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন । পরিস্থিতি এমনই যে তাঁকে এবার নির্বাচনী দৌড়ে অংশ না নেওয়ার জোরালো সওয়াল উঠেছে খোদ দলের অন্দরেই । আর তাঁর জায়গায় ডেমোক্র্যাট শিবিরের পছন্দের প্রার্থী হয়ে উঠছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস । জো বাইডেন নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে, কমলা হ্যারিসই তাঁর বিকল্প হিসেবে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের প্রচার শিবির । হোয়াইট হাউজ এবং ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির সাত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও এব্যাপারে সহমত পোষণ করেছেন ।

সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে বার বার কথার খেই হারিয়ে ফেলছিলেন, অসংলগ্ন কথা বলছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন । নভেম্বরের নির্বাচনের আগে তাঁর খারাপ পারফরমেন্স দেখে দলের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে । অনেকেই ভাবছেন, বাইডেন হয়ত ট্রাম্পের সঙ্গে পরবর্তী বিতর্ক সভায় আবারও খারাপ পারফর্ম করতে পারেন । এই কারণেই নির্বাচনের মাত্র মাস চারেক বাকি থাকতে, ডেমোক্র্যাট শিবিরের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই এখন জো বাইডেনকে লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর, টেক্সাসের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য লয়েড ডগেট এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যেতে জো বাইডেনকে অনুরোধ জানিয়েছে । প্রসঙ্গত লয়েড ডগেট হলেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রথম আইনসভার সদস্য, যিনি নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে জো বাইডেনকে প্রকাশ্যে অনুরোধ জানিয়েছেন ।
সংবাদ সংস্থার দাবি, জো বাইডেন নিজের হোয়াইট হাউজ এবং প্রচার শিবিরের সংকট সামলানোর যে চেষ্টাই করুন না কেন, সবই যেন বিফলে যাচ্ছে । মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাইডেন তাঁর বিতর্ক সভায় খারাপ পারফর্ম করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইনভেস্টারদের যা বলেছেন, তাতে তার সরকারি কাজ চালানোর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে । প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বিতর্কের সময় মঞ্চে তিনি প্রায় ঘুমিয়ে পড়ছিলেন । এর জন্য বিতর্কের আগে আকাশপথে ইউরোপে দু’টি সফরের পর ক্লান্তিভাব (জেট ল্যাগ) ছিল অন্যতম একটি কারণ ।

এরপরই ৮১ বছর বয়সী জো বাইডেন শারিরীক ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে । অনেকেই মনে করছেন, দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে অংশ নিলেও, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের মতো প্রাণশক্তি তার থাকবে কি না, সেটাই এখন মিলিয়ন ডলার কোয়েশ্চেন । কারণ পরবর্তী মেয়াদ শেষ হতে হতে তাঁর বয়স যে আরও বেড়ে যাবে । দলের শীর্ষ নেতারা এখন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের স্বাস্থ্য এবং মানসিক অবস্থা নিয়ে আরও খোলাখুলিভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানোর দাবি তুলেছেন । ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কের প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভেসের প্রাক্তন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিও বলেছেন, এই বিতর্ক বাইডেনের স্বাস্থ্য নিয়ে পুরোনো প্রশ্ন সামনে এনেছ । আর এই পরিস্থিতিতে উঠে আসছে ৫৯ বছর বয়সী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের নাম । যদিও বাইডেনের সবচেয়ে দৃঢ় সমর্থক দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সেনেটর জেমস ক্লেবার্ন সংবাদ সংস্থাকে বলেন, তিনি এখনও প্রেসিডেন্ট বাইডেনকেই নির্বাচনি দৌড়ে দেখতে চান । কিন্তু বাইডেন সরে দাঁড়ালে, তিনি এই দৌড়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারিসকেই সমর্থন দেবেন ।

আমেরিকার কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা অবশ্য বাইডেনের বিকল্প হিসেবে কমলা হ্যারিসকে বাদ দিয়ে, ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, মিশিগানের গ্রেচেন হুইটমার এবং পেনসিলভেনিয়ার জোশ শ্যাপিরোর নামও প্রস্তাব করেছেন । কিন্তু হ্যারিসকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব । অভিমত বাইডেনের প্রচার শিবির এবং হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তাদের । তাঁরা বলছেন, দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হলে, কমলা হ্যারিস তখন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রচার শিবিরের সংগৃহীত তহবিল ও প্রচারের যাবতীয় পরিকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে যাবেন । তাছাড়া, যেসব বিকল্প প্রার্থীর নাম উঠে আসছে, তাঁদের মধ্যে হ্যারিসের নামই সর্বাধিক পরিচিত । আর ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে হওয়া সমীক্ষা, খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে, এমন প্রার্থী হিসেবেও শীর্ষে নাম রয়েছে হ্যারিসের ।

সদ্য প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোস সমীক্ষার ফল অনুসারে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থেকে মাত্র এক শতাংশ পয়েন্টে (৪২%-৪৩%) পিছিয়ে রয়েছেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস । সমীক্ষা অনুযায়ী এই ব্যবধান ৩.৫ % পয়েন্টর । এই পরিসংখ্যানের নিরিখে হ্যারিস প্রায় বাইডেনের মতোই শক্তিশালী, মত রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের । তাছাড়া, হ্যারিস ইতিমধ্যেই প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পাস করে গিয়েছেন এবং রিপাবলিকানদের নিবিড় নিরীক্ষণেও সহজেই উতরে গিয়েছেন ।
২০০৮ ও ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারে কাজ করা ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক প্রচার উপদেষ্টা মাইকেল ত্রুহিলো মনে করেন, ‘ভাইস প্রেসিডেন্টকে ছাড়িয়ে মনোনয়ন পাওয়া প্রায় অসম্ভব’ । তাই ট্রাম্পের সঙ্গে মহারণ থেকে জো বাইডেন সরে দাঁড়ালে, সেই জায়গায় যে নামটি সবচেয়ে বেশি চর্চিত এবং জোরালো হচ্ছে, সেটি হল কমলা হ্যারিস ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube