শর্মিলার স্বীকারোক্তি!

নিউজটাইম ওয়েবডেস্ক : দেবরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

ক্রিকেট খেলা সম্পর্কে তাঁর তেমন কিছুই জানা নেই । শুধু জানেন, ভালো সিনেমা কীভাবে তৈরি হয় । কে বলছেন এই কথা ? শর্মিলা ঠাকুর । যাঁর স্বামী একসময় ভারতীয় ক্রিকেটকে একটা অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন । সেই মিসেস পাতৌদি রসিকতা করে আরও বলেন, তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে ক্রিকেট সংক্রান্ত সমস্ত আলোচনা নিষিদ্ধ ছিল । অথচ আমন্ত্রিতদের অধিকাংশই ছিলেন ক্রিকেটার ।

দেশের স্বনামধন্য ক্রিকেটারের সঙ্গে ৪৩ বছর ধরে ঘর করা বাংলা তথা বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর বলেছেন, ক্রিকেট খেলা নিয়ে তাঁর বিশেষ কোন জ্ঞান বা আগ্রহ নেই । তিনি শুধু জানেন, একটি ভালো সিনেমা তৈরি করতে খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন নেই । দরকার সৃজনশীলতা এবং যথাযথ প্রতিভা ।

কিছুদিন আগে বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা দেশের প্রথম সারির রাজনীতিবিদ কপিল সিব্বলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, জীবনের ব্যক্তিগত কিছু মুহূর্তের কথা শেয়ার করেন শর্মিলা ঠাকুর । সেই সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ প্রকাশিত হয় জনপ্রিয় একটি ইংরেজি দৈনিকে । সেখানেই বলা হয়েছে, বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীকে ক্রিকেট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হেসে ফেলেন । রসিকতা করে বলেন, তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে তো ক্রিকেট নিয়ে সমস্ত আলোচনাই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল । অথচ অতিথি তালিকায় যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে ব্যাট বলের যোগ ছিল নিবিড় । ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মনসুর আলী খান পতৌদির সঙ্গে বাঙালি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর গাঁটছড়া বাঁধেন ৫৬ বছর আগে । বাগদান পর্বের আগে, বেশ কিছুদিন ধরে চলে তাদের প্রেমপর্ব ।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা বলেছিলেন, তাঁর পরিবার ছিল ক্রিকেটের ভক্ত । মনসুর আলীর সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানে । ব্রিটিশ অ্যাকসেন্টে ইংরেজি বলায়, সেই সময় শর্মিলার নজরে পড়েন পাতৌদি । সেই পার্টিতে তাঁরা একে অপরের টেলিফোন নম্বর বিনিময় করেন । পরে মুম্বাইয়ে দু’জনে একদিন দেখাও করেন একটি কফি শপে । সেই থেকে তাঁদের সম্পর্ক দানা বাঁধতে শুরু করে । এরপর ১৯৬৮ সালে মনসুর আলী খানকে বিয়ে করে, নবাবপত্নী হন বাঙালি বধূ শর্মিলা ।

এবারের সাক্ষাৎকারে শর্মিলা বলেছেন, তিনি আসলে ক্রিকেট সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না । জানার আগ্রহও নেই তাঁর । তিনি শুধু জানেন, একটি ভালো সিনেমা তৈরি করতে চাইলে খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন হয় না । শর্মিলা ঠাকুর বলেন, সত্যজিৎ রায় শিখিয়ে গেছেন যে দুর্দান্ত সিনেমা তৈরির জন্য বড় বাজেটের থেকেও কল্পনা ও সৃজনশীলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ । সিনেমা আসলে কী, সেটি নিয়ে গভীর জ্ঞান থাকা জরুরি । পরিচালক পায়েল কাপাডিয়ার ‘অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট’ সিনেমার উদাহরণ টেনে শর্মিলা বলেন, এটি বিশাল বাজেটের কোন সিনেমা নয় । তবুও এবারের কান চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে । তাই তিনি এই সিনেমাটি দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন ।

রূপোলি পর্দায় শর্মিলার যাত্রা শুরু হয় সত্যজিৎ রায়ের ‘অপুর সংসার’ দিয়ে । ১৯৫৯ সালে মুক্তি পায় ‘অপুর সংসার’ । অপু চরিত্রে ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, আর অপর্ণার চরিত্রে ১৩ বছর বয়সে প্রথমবার বড় পর্দায় হাজির হন শর্মিলা ঠাকুর । বাংলা সিনেমা দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু হলেও, পরে বলিউডে ক্যারিয়ার গড়েন মিসেস পাতৌদি । ১৯৬৪ সালে তাঁর অভিনীত প্রথম হিন্দি সিনেমা ছিল শক্তি সামন্ত পরিচালিত সুপারহিট সিনেমা ‘কাশ্মীর কি কলি’ । বিপরিতে ছিলেন শাম্মী কাপুর । এরপর ‘অনুপমা’, ‘অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস’, ‘আরাধনা’, ‘অমর প্রেম’, ‘দাগ’, ‘চুপকে চুপকে’র মত সুপারহিট সিনেমায় চুটিয়ে অভিনয় করেন শর্মিলা ঠাকুর । পাশাপাশি মহানায়ক উত্তম কুমারের বিপরিতে তাঁর ৩টি ছবি – ‘অমানুষ’, ‘আনন্দ আশ্রম’ এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ভারতীয় সিনেমার অন্যতম মাইলস্টোন ‘নায়ক‘ । এছাড়া সত্যজিৎ রায়ের ‘দেবী’ এবং ‘অরণ্যের দিনরাত্রী’ – দু’টি ছবিও ছিল অতুলনীয় ।

মাঝে অভিনয় থেকে বিরতি নিয়েছিলেন শর্মিলা ঠাকুর । কোভিড মহামারীর সময় লড়াই করেছেন মারণ রোগ ক্যান্সারের সঙ্গে । পরে সুস্থ হয়ে ফের লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায় ফিরে আসা । ৮০ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর ফিল্মি সফর আবার শুরু হয়েছে নতুন ভাবে । ২০২৩ সালে মুক্তি পায় ‘গুলমোহর’ । মনোজ বাজপেয়ীর পাশাপাশি শর্মিলা ঠাকুরের দুরন্ত অভিনয় ভীষণ ভাবে প্রশংসিত হয় । গত বছরই তিনি পরিচালক সুমন ঘোষের ‘পুরাতন’ সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন । যা এখন মুক্তির অপেক্ষায় আছে । সিনেমায় তাঁর মেয়ের চরিত্রটি করছেন টলিউড অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube