পরকীয়ার জেরে নৃশংস পরিণতি এক মহিলার! খুনের পর দেহ টুকরো টুকরো করা হয় ট্র্যাক্টরের রোটারে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দেহাংশ দেখে শনাক্ত করাও মুশকিল হয়ে যায়। গত কয়েকদিন ধরেই নিখোঁজ ছিলেন ওই মহিলা। তদন্ত শুরু হতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুনের নেপথ্যে উঠে আসছে পরকীয়ার তত্ত্ব। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনে।
মৃত মহিলার নাম সুলেখা খাতুন। তাঁর স্বামী ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতেন। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। গত ১৮ জুন থেকে নিখোঁজ ছিলেন ওই মহিলা। অবশেষে তপন থানার রামচন্দ্রপুর এলাকায় মহিলার দেহাংশ উদ্ধার হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সাদ্দাম সরকার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। মোবাইলে কথাবার্তা চলত দুজনের। পুলিশের অনুমান, পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে ওই ব্যক্তিকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা চাইতেন সুলেখা খাতুন। সেই কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত সাদ্দাম পুলিশি জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে বলেও খবর।
আরও জানা যায়, গত ২১ জুন তপনের রামচন্দ্রপুর এলাকার কালিনগরে পাট ক্ষেতের পাশের একটি জমিতে মানব শরীরের দেহাংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা সেখানে গেলে শিরদাঁড়া, পায়ের পাতার অংশ পড়ে থাকতে দেখে। দেহাংশের পাশে একটি জুতো পড়েছিল। মৃতদেহ উদ্ধারে খবর পেয়ে মৃতার ছেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই জুতো দেখে নিজের মাকে শনাক্ত করে। তল্লাশিউ চালিয়ে আশেপাশের জমি থেকে টুকরো টুকরো মাংস, হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়।
রবিবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুরের এসপি চিন্ময় মিত্তাল সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, সাদ্দাম সরকার মহিলাকে খুনের পর নিজের চাষের জমিতেই মৃতদেহ পুঁতে দেয়। তবে প্রমাণ লোপাটের জন্য পাম্প চালিয়ে জমিতে জল দিয়ে ভরাট করে দেয়। এরপর নিজের ধারালো রোটার সমেত ট্রাক্টর দিয়ে চষে দেওয়ায় মৃত সুলেখা খাতুনের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়। তবে শেষ রক্ষা হল না, মৃতার খুড়তুতো ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

