লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় কার্যত ধরাশায়ী বিজেপি। ভোট বিপর্যয়ে হাতছাড়া হয়েছে একাধিক আসন। তার মধ্যে অন্যতম হুগলী। এই কেন্দ্রে জয় পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর হাত ধরেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন বহু নেতা-কর্মী। এরফলে গেরুয়া শিবিরে বড় ভাঙন হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শুক্রবার হুগলীতে যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী-সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরামবাগের সাংসদ মিতালী বাগ, রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না সহ তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। ‘দিদি নং ওয়ান’-এর হাত থেকে দলীয় পতাকা নিয়ে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে একাধিক নেতা-কর্মী। দলত্যাগের পরই তাঁরা দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে উন্নয়নে সামিল হতেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। পুরনো দল বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযোগ, দল থেকে কখনওই সাহায্য পাননি। এলাকায় কোনও সমস্যা হলে শাসক দলের দ্বারস্থ হতে হত।
এদিনের যোগদান কর্মসূচি শেষে হুগলীর সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘কোনও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের বিজেপি করা উচিৎ নয়।‘ অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা দাবি, এই দলবদলের ফলে তাদের সংগঠনে কোনও প্রভাব পড়বে না।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে হুগলী লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে এইবারেও প্রার্থী করেছিল পদ্ম শিবির। অন্যদিকে জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় তৃণমূলের টিকিটে প্রথমবার নির্বাচনী ময়দানে নেমেছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিদ্বন্দ্বী লকেটকে হারিয়ে জয়লাভ করেন ‘দিদি নং ওয়ান’। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বাংলায় ৩০-৩৫ আসনের টার্গেট দিলেও বিজেপির ঝুলিতে যায় মাত্র ১২ টি আসন। নিজেদের একাধিক ‘শক্ত ঘাঁটি’তে হারের মুখ দেখতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

