।। পম্পি রায় ।।
১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড হয়ে গোটা দেশকে গর্বিত করেন ঐশ্বর্য রাই। তিনি শুধু প্রাক্তন বিশ্ব সুন্দরী নন, প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীও বটে। আবার বচ্চন পরিবারের পুত্রবধূ। এহেন সফল নায়িকার আঙুলে হিরের ভি আকৃতির আংটি সবসময় দেখা যায়। কখনও এই আংটি ছাড়া অভিনেত্রীকে দেখা যায় না। কেন তিনি এই আংটি কাছ ছাড়া করেন না? কী এই আংটির তাৎপর্য? চলুন জেনে নিই।

ঐশ্বর্য রাইয়ের ভি আকৃতির আংটি বান্ট সম্প্রদায়ের বিবাহিত মহিলারা পরেন:
ঐশ্বর্য রাই যে ভি-আকৃতির আংটি পরেন তাকে ভ্যাঙ্কি আংটি বা ভাদুঙ্গিলাও বলা হয়। দক্ষিণ ভারতের বান্ট সম্প্রদায়ের বিবাহিত মহিলারা এই ভি আকৃতির আংটি পরেন। ভাদুঙ্গিলা পরা হল বিয়ের পর মঙ্গলসূত্র পরার মতো, যা বিবাহিত নারীর চিহ্ন। বিয়ের দিন কনেকে ভাদুঙ্গিলা বা ভ্যাঙ্কি আংটি দিয়ে সাজানো হয়। মেয়ের বাপের বাড়ির একজন মহিলা আত্মীয় এই আংটি উপহার দেন কনেকে। শুধু বান্ট সম্প্রদায় নয়, দক্ষিণ ভারতের অনেক বিবাহিত মহিলা এই আংটি পরেন।

ঐশ্বর্য রাইয়ের ‘ভ্যাঙ্কি’ আংটির ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে:
দক্ষিণ ভারতের রাজপরিবারের রাজকন্যারা ভ্যাঙ্কি আংটি পরা শুরু করতেই, তা রাজকীয়তার প্রতীক হয়ে ওঠে। তুলনাডু নামে একদল লোক দক্ষিণ কর্ণাটকের উপকূলীয় অঞ্চলে বাস করে এবং তারা নাগবংশের বংশধর বলে মনে করা হয়। এই সম্প্রদায় সাপকে নাগা দেব হিসেবে পুজো করে। ভ্যাঙ্কি আংটি নাগা উপাসকদের প্রতীক হিসাবে আংটিটি একটি সাপের উত্থিত মাথাকে প্রতিনিধিত্ব করে। বান্ট সম্প্রদায় বিশ্বাস করে যে, এই আংটি অল্পবয়সী কনে বা বিবাহিত মহিলাদের মন্দ এবং অবাঞ্ছিত বাধা থেকে রক্ষা করে।

ঐশ্বর্য রাইয়ের ‘ভ্যাঙ্কি’ আংটি একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট হয়ে উঠেছে:
ঐশ্বর্য রাইয়ের পরা ভি আকৃতির এই আংটির অভিনবত্ব অনেক মহিলার নজর কেড়েছে, তাদের কাছে এটি ফ্যাশনেবল গয়না। এই আংটি এখন আর কোনও নির্দিষ্ট জাতির মধ্যে আবদ্ধ নেই। তাও বান্ট মহিলাদের জন্য, আজও এটি একটি আবেগ, তার পিতামাতার ভালবাসা, মূল্যবোধ এবং শিক্ষার একটি স্মারক। এটি তাঁদের জন্য নিছক একটি অলঙ্কার নয়, কারণ এটি তাঁদের ঐতিহ্য বহন করে।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

