‘আধিকারিকদের সতর্ক হতে বলুন’, আদালতের রোষের মুখে ইডি!

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তদন্তে গাফিলতি নিয়ে হাইকোর্টের রোষের মুখে পড়ল ইডি । ইডি অফিসারদের চূড়ান্তভাবে সতর্ক থাকতে বললেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা । এদিন ইডির আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি বলেন, ‘আপনাদের কিছু আধিকারিককে সতর্ক হতে বলুন । আদালতের কাছেও বিভিন্ন তথ্য আসছে এবং রিলায়েবল সোর্স থেকেই সেই তথ্যগুলো আসছে । কিছু আধিকারিকের মধ্যে তদন্তে গাফিলতির প্রবণতা দেখা দিয়েছে । কাকে তদন্ত করা হবে, কাকে তদন্ত করা হবে না তা নিয়ে বাছ বিচার করা হচ্ছে । আদালতের নজরদারিতে তদন্ত চলছে । তাই আমার কাছেও কিন্তু খবর আসছে । চূড়ান্তভাবে সতর্ক থাকতে বলুন আপনার অফিসারদের।’

এদিন প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মুখ বন্ধ খামে রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই ও ইডি । সিবিআই-এর আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী দাবি করেন, এই মামলার তদন্তে অন্যতম ব্যক্তি হলেন মানিক ভট্টাচার্য । তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে । তাই তাকে ঠিকমত জেরা করা যাচ্ছে না । এরই মধ্যে আরও কিছু সময় চেয়ে নেন তিনি । তিনি আরও জানান, মানিক ভট্টাচার্যকে লন্ডনের কথা বললে তিনি উত্তর দিচ্ছেন টোকিও ।

যদিও দুই কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত নিয়ে সন্তুষ্ট নন বিচারপতি সিনহা । এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত কালীঘাটের কাকু তথা সুজয় কৃষ্ণ ভদ্র-র ভয়েস স্যাম্পল টেস্ট করার পর কেন তদন্ত এগোচ্ছে না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত । পাশাপাশি এই মামলায় গত সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যকে একটি রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল । রাজ্য এখনঅ সেই রিপোর্ট জমা দেয়নি বলেই জানান যায় । এই বিষয় নিয়েও এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি সিনহা । ৩০ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে । ওইদিন তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্য জানাতে হবে দুই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ।

যদিও এদিন ইডির তরফে দাবি করা হয় তারা তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে । ইডির আইনজীবী দাবি করেন, ‘এখনও পর্যন্ত আমরা প্রায় ১৪৮ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছি । যার বাজার মূল্য ২৫০ কোটিরও বেশি । লিপ্স এন্ড বাউন্স এর যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সেগুলি অ্যাডজুডিকেশন হয়ে গিয়েছে । কোন সম্পত্তি দখলমুক্ত করা যায়নি । ফলে এতেই প্রমাণ হয় আমরা যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিলাম তার বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে ।

এরপর বিচারপতি অমৃতা সিনহা সম্পত্তির উৎস সম্বন্ধে জানতে চান । তবে সেই প্রশ্নের তেমন সদুত্তর দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় সংস্থা দু’টি । ইডির আইনজীবী আরও দাবি করেন, তাঁরা প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন । তাঁরা আরও জানান, যারা গ্রেফতার হয়েছেন নিম্ন আদালতে এখনও কেউ জামিন পাননি । তবে তদন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে । তবে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই বক্তব্যের পর ও বিশেষ আশ্বস্ত হতে পারেননি বিচারপতি সিনহা ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube