মধ্য গাজায় রাষ্ট্রসংঘ পরিচালিত স্কুলে বিমান হামলায় ৪০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ইজরায়েলের থেকে আরও বেশি স্বচ্ছতার আশা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদ সংস্থার দাবি, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের ওই স্কুলের উপরের তলার শ্রেণিকক্ষে, ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস একটি যুদ্ধবিমান থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
অন্যদিকে ইজরায়েলের দাবি, ওই স্কুলে হামাসের একটি কম্পাউন্ড ছিল। সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল হামাস এবং জেহাদি জঙ্গিরা যারা ইজরায়েলের মাটিতে ৭ অক্টোবরের হামলায় সরাসরি জড়িত ছিল। যে ঘটনার প্রেক্ষিতে ইজরায়েল এবং গাজার মধ্যে আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের সূত্রপাত। সেই জঙ্গিদেরই খতম করেছে ইজরায়েলি বাহিনী।

যদিও মধ্য গাজার নুসেইরাতে রাষ্ট্রসংঘের ওই স্কুলে হামাসের একটি লুকানো কমান্ড পোস্ট ছিল, তেল আভিভের এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছে গাজার হামাস পরিচালিত সরকারের তথ্য দপ্তরের অধিকর্তা ইসমাইল আল-থাওয়াবেত। এই হামলায় ইজরায়েল যেসব হামাস যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে, তাদের পরিচয় প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র। এর প্রেক্ষিতে ইজরায়েল অবশ্য নিহত নয় হামাস যোদ্ধার নাম প্রকাশ করেছে।
মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ইজরায়েল তাদেরকে জানিয়েছে যে ২০ থেকে ৩০ জন জঙ্গিকে তারা টার্গেট করেছে এবং যাদের হত্যা করেছে বলে তারা বিশ্বাস করে, তাদেরই নাম প্রকাশ করা হবে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেন, বিমান হামলায় নিহত নয় হামাস ও ইসলামিক জিহাদির নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তথ্য যাচাই শেষে আরও নিহতদের চিহ্নিত করা হবে।

ওয়াশিংটনে মিলার বলেন, বৃহস্পতিবারের ওই হামলায় ১৪ শিশু নিহত হয়েছে. আর গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী ১৪ শিশু ও ৯ নারীসহ ৪০ জন নিহত এবং ৭৪ জন আহত হয়েছে। গাজার রাফাহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় ৪৫ জন নিহত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বশেষ এই হামলার ঘটনা ঘটল। স্থানীয় সাংবাদিক ও বাসিন্দারা বলছেন, গভীর রাতে নৃশংস এ হামলা চালানো হয়. শরণার্থী শিবিরের স্কুলটি পরিচালনা করে রাষ্ট্রংঘের প্যালেস্তাই শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)। হামলার সময় স্কুলটিতে ভিটেমাটি হারা বহু শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছিলেন।
সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে – বিধ্বস্ত ক্লাসরুম ও মর্গের সামনে পড়ে থাকা লাশের সারি। ইউ এন আর ডব্লিউ এ জানিয়েছে, হামলার সময় প্রায় ৬ হাজার গৃহহীন মানুষ ওই স্কুল কমপ্লেক্সে আশ্রয় নিয়েছিল। প্রায় আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের সময় বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ১৭ লাখ মানুষ বিভিন্ন স্কুল ও রাষ্ট্রসংঘের অন্যান্য ভবনকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। রাষ্ট্রসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন।

প্রসঙ্গত, গাজার স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, প্রায় আট মাসের লড়াইয়ে গাজায় অন্তত ৩৬ হাজার ৪৭০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইজরায়েলে হামলা চালিয়ে হামাস প্রায় ১২০০ মানুষকে হত্যা করেছে এবং ২৫১ জনকে যুদ্ধবন্দির নাম করে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই গাজায় চলছে ইজরায়েলের নির্বিচার হামলা.
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

