ইউক্রেইনকে পশ্চিমি দেশগুলির দেওয়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অনেক ভেতরে আঘাত হানার অনুমতি দেওয়া হলে, চুপ করে বসে থাকবে না রাশিয়া. তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার ইউরোপীয় সহযোগিদের ওপর আক্রমণ চালানোর মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তাদেরও আছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বুধবার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলির বার্তা সম্পাদকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি বলেন, মস্কো কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না, পশ্চিমি দেশগুলির এমন অনুমান একেবারে ভুল। উল্টে তাঁর দাবি, ক্রেমলিনের পারমাণবিক নীতিকে একেবারেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত না।
রুশ ভূখণ্ডে আঘাত হানার জন্য ইউক্রেইনকে পশ্চিমি দুনিয়ার অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিতে নেটো প্রধান ইয়েন্স স্তোলতেনবার্গ যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পুতিন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিইভকে আরও শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আঘাত হানার অনুমতি দেওয়া হলে, সেটা হবে গুরুতর বাড়াবাড়ি। এর ফলে আগামী দিনে হয়তো পশ্চিমি দেশগুলিকে রাশিয়ার সঙ্গে আরও একটি যুদ্ধের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।
এ প্রসঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট বিশেষভাবে মার্কিন, ব্রিটিশ এবং ফ্রান্সের ক্ষেপণাস্ত্র পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়ার জবাব হবে পশ্চিমি দুনিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে গুলি করে উড়িয়ে দেওয়া।
পুতিন আরও জানান, যেসব দেশ আড়াল থেকে কিংবা সরাসরি ইউক্রেইনকে দূরপাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রুশ ভূখণ্ডে আঘাত হানায় মদত দেবে, তাদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালানোর মতো একই ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার কথা ভাবছে মস্কো। তবে কোথায় এবং কীভাবে তিনি এসব ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করবেন, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি পুতিন।
বার্ষিক সেইন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরামকে সামনে রেখে নতুন নির্মিত ৮১-তলা গ্যাজপ্রম টাওয়ারে বসে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিন ঘণ্টা কথা বলেন পুতিন। সেই সময় তিনি গাজা যুদ্ধ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেইনকে যে সমস্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছেন, সেগুলি দিয়েই আবার রাশিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক ঘাঁটিগুলিতে আঘাত হানার অনুমতিও দিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন এখনও ATACMS ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কিইভকে রাশিয়ার মাটিতে আঘাত হানার অনুমতি দেয়নি। ATACMS হল কিইভকে দেওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা সর্বোচ্চ ৩০০ কিলোমিটার দূরের জিনিসকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।
৩ মে কিইভ সফরের সময় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সংবাদ সংস্থাকে বলেছিলেন, ব্রিটেনের দেওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দিয়ে রাশিয়ার ভেতরের লক্ষ্যস্থলগুলোতে আঘাত হানার অধিকার ইউক্রেইনের আছে, তবে এটি তারা করবে কি না, সেটা কিইভের উপরই নির্ভর করছে।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

