দেশে দামী গাড়ির চাহিদা বাড়ছে?

বিশাল জনসংখ্যা ও বেড়ে চলা মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এই কারণেই বিশ্বের কাছে ভারত আজ আকর্ষণীয় গাড়ি বাজার। তবে জার্মানির গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি কিন্তু এখনও ভারতের বাজারে তেমন সুবিধা করতে পারেনি। ভবিষ্যতেও সেই সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে, তেমন আশাও দেখছেন না আন্তর্জাতিক গাড়ি বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বের অন্যতম জনবহুল রাষ্ট্র হল ভারত। ফলে দেশের গাড়ির বাজারে বর্তমান বৃদ্ধির হার, অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। গাড়ি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ২০৩০-এর দশকে ভারত হয়ত ‘নতুন চিন’ হয়ে উঠতে পারে। জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা ফোকসওয়াগন প্রায় দুই দশক ধরে ভারতের বাজারে নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ দেশে বছরে এক লাখের বেশি VW মডেল বিক্রি হয় না৷ ফলে সেক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে ভারতের কোনো তুলনাই হয় না।

ভারত যে চীন নয়, সেটা অবশ্যই অজানা নয়. কারণ চিনে বিলাসবহুল গাড়ির বাজার সত্যি বিশাল। ভারতে বছরে বড়জোর ৪০ থেকে ৫০ হাজার এমন গাড়ি বিক্রি হয়। পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের গাড়ি বিক্রির সংখ্যা, বাজারের নিচের স্তরেই সীমাবদ্ধ। সেখানে অত্যন্ত কম মুনাফার কারণে, কোম্পানিগুলির তেমন আয় হয় না, মত বিশেষজ্ঞদের।

গত প্রায় ৪ দশক ধরে ভারতের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছ মারুতি সুজুকি। তাই তার মাঝে, বড় বড় জার্মান গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সাফল্যের সুযোগ কম। ১৯৮১ সালে জাপানের সুজুকি, ভারতের মারুতি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ শুরু করে গাড়ি ব্যবসা। বর্তমানে সেই কোম্পানিই দেশের সবচেয়ে বড় অটোমোবাইল নির্মাতা হয়ে উঠেছে।

মারুতি সুজুকি কোম্পানির কার্যকরি পরিচালক শশাঙ্ক শ্রীবাস্তব, ভারতে জার্মান গাড়ি সম্পর্কে উৎসাহের অভাবের কারণ হিসেবে বলেন, ভারতে ইউরোপীয় নির্মাতাদের কয়েকটি মডেল গ্রাহকদের প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খায় না। তারা অন্যান্য দেশের জন্য ডিজাইন করা মডেল এদেশে নিয়ে এসেছে। কিন্তু তাদের মৌলিক সাফল্য, অন্যদেশের সাফল্যের উপর নির্ভরশীল।

সে কারণে ফোকসওয়াগন প্রথম বার শুধু ভারতের বাজারের কথা ভেবে চারটি মডেল ডিজাইন করেছে, সেগুলি হলো স্কোডা কুশাক, স্কোডা স্লাভিয়া, VW টাইগান ও VW ভার্টাস। ভারতীয়দের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, এমন অনেক বিষয়ের কথা মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হয় ওই মডেলগুলি, যেমন পেছনের সিটে বেশি জায়গা, হাই গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি।

ভারতের অটোমোবাইল বাজারে বর্তমানে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে. সম্প্রতি SUV গাড়ির উৎপাদন অনেক বেড়েছে। সবার জন্য না হলেও, সার্বিকভাবে ভারতীয়দের জীবনযাত্রার মান অনেকটাই উন্নিত হয়েছে। গাড়ি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রতিফলন অবশ্যই পড়বে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে। জনতার মডেল থেকে শুরু করে মিডল ক্লাসের পছন্দ। ভারতে দামী গাড়ির চাহিদা আরও বাড়বে। বিদেশি নির্মাতাদের হাতে উচ্চ মানের গাড়ি থাকায়, তারা এর ফায়দা তুলবে।

কিন্তু বিদেশি গাড়ির উপর শুল্ক ও করের জটিল বোঝা থাকায়, ভারতে ইউরোপীয় গাড়ির দাম বেশ বেড়ে যায়. ভেহিকেল ক্লাস ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভারতীয় উপাদানের অনুপাতের উপর সেই বাড়তি আর্থিক বোঝা গিয়ে পড়ে ক্রেতাদের উপরেই।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন মরিয়া হয়ে ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু এখনও সেটা বাস্তবায়িত হয়নি. টাটা ও মহিন্দ্রের মতো ভারতীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি এখন ইলেকট্রো মোবিলিটির প্রতি পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বিশেষ করে ব্যাটারি উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারত এখনো বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল।

চিনের ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা BYD-ও ভারতে গাড়ি তৈরি করতে আগ্রহী। কিন্তু ভারতের সঙ্গে এই কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতির জেরে, সেই সম্ভাবনা প্রায় বিশ বাঁও জলে। তাহলে কী ইউরোপীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির কাছে ভারত এখন বড় সুযোগ ? সময়ই বলবে।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube