টানটান থ্রিলার ‘পথম ভালাভু’

পথম ভালাভু’ । ইংরেজি করলে যার মানে দাঁড়ায় – দ্য টেনথ টার্ন । ২০২২ সালে মুক্তি পেয়েছিল এই মালায়ালাম ক্রাইম থ্রিলার । ছবির পরিচালক এম পদ্মকুমার । হাতে গোনা কয়েকটি চরিত্র । নেই কোনও মেগাস্টার বা সুপার স্টারের তকমা দেওয়া অভিনেতা । তবু, দু’ ঘণ্টার এই টানটান ছবি ছেড়ে দর্শকদের ওঠার জো নেই । কারণ ছবির গল্প এবং চিত্রনাট্য ।

একেবারে অন্য ধরনের সিনেমা । গল্পটা এই রকম, খুন করার পর যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা ঘোষণা হয়েছিল সলোমনের বিরুদ্ধে । বছর পাঁচেক পরে প্যারোলে ছাড়া পেয়ে, বাড়িতে ফিরে আসে । তারপর আর জেলে ফেরত যায়নি সলোমন । তাকেই ধরতে পাঠানো হয় দুঁদে পুলিস অফিসার এম সেথুনাথকে । যেদিন তাকে এই দায়িত্ব দেন স্থানীয় সার্কেল ইন্সপেক্টর, ঠিক তার পরের দিন থেকেই ১৫ দিনের ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল সাব ইন্সপেক্টর সেথুনাথের । কারণ তাঁর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা । তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে । এর আগে দু’ দুবার তিনি বাবা হতে পারেননি । অবশেষে ৪৫ বছর বয়সে বাবা হতে চলেছেন সকলের প্রিয় পুলিস অফিসার সেথু । তাই তার আনন্দের সীমা নেই । এই অবস্থায় সলোমনকে ধরে এনে, জেলে পুরে দিলেই তার দায়িত্ব আপাতত শেষ । তাই দেরি না করে, নিজের টিম নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন আসামীকে ধরতে ।

এভাবেই শুরু হয় Pathaam Valavu । পাহাড়-জঙ্গলের বুক চিরে, ছুটে চলে সেথুনাথের জিপ । শুরুটা দেখলে মনে হতেই পারে, এ তো আর পাঁচটা সিনেমার মতই । কিন্তু মালায়ালাম সিনেমা মানেই পরতে পরতে সাসপেন্স । কোনও বাঁধা ধরা ছক মানে না । কোনও কিছু প্রেডিক্টও করা যায় না । পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চলছে । সবাই সেথু স্যারকে নিয়েই ব্যস্ত । পাহাড়ের কোলে রাস্তার ধারে একটা ছোট্ট চায়ের দোকান । সেখানেই সলোমনের বাড়ির ঠিকানা জানতে গিয়ে বেরিয়ে এল অন্য এক কাহিনী । 

সময় পেরিয়ে যাচ্ছে । বাড়ি থেকেও বার বার ফোন আসছে । কিন্তু সেথুর বাড়ি ফেরার কোনও উপায় নেই । কারণ আসামীকে ধরতেই হবে । অবশেষে ধরাও পড়ল । কিন্তু তাতেও রক্ষে নেই । ফেরার পথে ধসের কারণে রাস্তা বন্ধ । আবার সেই চায়ের দোকানে অপেক্ষা এবার সঙ্গে সলোমন । এরপরই শুরু আসল গল্প । কেন গোটা গ্রামের প্রিয় সলোমন আজ আসামী, আসতে আসতে জানতে পারলেন সাব ইন্সপেক্ট সেথুনাথ ।

নাম গোত্রহীন সেথুনাথ, ভালবেসে বিয়ে করেন এক হিন্দু মেয়েকে । কিন্তু সীতার পরিবার এই বিয়েকে স্বীকৃতি দেয়নি. কারণ সলোমান নাকি খ্রিশ্চান । তবু স্থানীয় ফাদারের হস্তক্ষেপে দু’জনের বিয়ে হয় । তারপর সলোমান ও সীতার সংসার বেশ ভালই চলছিল । হঠাৎ একদিন সব হিসেব ওলোটপালোট হয়ে যায় ।

স্থানীয় গীর্জায় যেদিন উৎসব চলছিল, সেই রাত থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় সলোমন আর সীতার ছোট্ট মেয়ে লাচো । রাতভর তল্লাসিতেও মেলে না হদিশ । পরের দিন তার মৃতদেহ পাওয়া যায় খাদের কিনারে । পোস্টমর্টমে জানা যায়, ধর্ষণ করে খুন করা হয় লাচুকে । কীভাবে তার ছোট্ট মেয়েটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়, শুরু হয় তদন্ত ।

এদিকে সীতার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল বর্ধন নামে এক পুলিস কর্মীর । কিন্তু সেই সময় সীতা ওই বিয়েতে সম্মতি দেয়নি । পরে যে এলাকায় সংসার পেতেছিল সলোমান এবং সীতা, সেই থানাতেই সাব ইন্সপেক্টর হয়ে আসে বর্ধন । তারপর থেকেই সলোমনের সঙ্গে বর্ধনের ঝামেলা লেগেই থাকত । যে রাত থেকে সলোমনের মেয়ে লাচু নিখোঁজ হয়ে যায়, সেই রাতেও প্রকাশ্যে দু’জনের ঝামেলা হয় । তাই স্বভাবতই সন্দেহের তির গিয়ে পড়ে বর্ধনের উপর । তখন থানার বড়বাবু অ্যান্থনি তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে । কিন্তু বর্ধন জানত যে সে নির্দোষ । তাই সে নিজেও নামে তদন্তে ।

তারপর ? বর্ধন জানতে পারে, গ্রামের প্রভাবশালি ব্যক্তি জেভিয়ারের নেশাগ্রস্ত ছেলে ও তার বন্ধু এই পাশবিক কাজটি করেছে । এরপরে আরও এমন কিছু ঘটেছিল, যেগুলো শুনে সেথুর চোখ জলে ভরে যায় । ক্রমে গ্রেফতার, আইন, আদালত, প্রতিশোধ । পথম ভালাভু ছবিতে টুইস্ট আরও আছে । তাই এই ছবিটি দেখা না থাকলে, অবশ্যই দেখতেই হবে । মালায়ালাম ভাষার ছবি হলেও, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কিন্তু হিন্দি ভার্সন চলে এসেছে ।

সলোমনের ভূমিকায় অভিনয় করেন মালায়ালাম সিনেমার অতি পরিচিত নাম সুরজ ভেনজারামুরু । ইন্সপেক্টর সেথুনাথের চরিত্রে – ইন্দ্রজিৎ সুকুমারন, যিনি পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের দাদা । ছবির সিনেম্যাটোগ্রাফি এক কথায় অসাধারণ । পরিচালনাও ফাটাফাটি । অধিকাংশই কাট টু কাট শট । সব মিলিয়ে এই ছবি সকলের দেখার মত । টান টান একট nail biting থ্রিলার । যেখানে চমক রয়েছে একেবারে লাস্ট সিনে । তাই একশো বাইশ মিনিটে দেখতে হবে একটানা ।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube