পুলিশের সহযোগিতায় ছেলের কাছে ফিরলেন মা

লকডাউনের আগেরদিন হারিয়ে গিয়েছিলেন মা । মাঝে পেরিয়ে গিয়েছে ৪টি বছর । মা অনিমা মণ্ডলকে আবার ফিরে পাওয়ার সব আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তাঁর ছেলে অর্ণব মণ্ডল । রবিবার আবারও বাড়ি ফিরে গেলেন সেই মা । পুলিশের সহযোগিতায় আবারও একযোগ হল গোটা পরিবার ।

৪৮ বছর বয়সী অনিমা মণ্ডল । তাঁর বাড়ি বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম থানার বরমালিহা গ্রাম । ২০২০সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি বর্ধমান জেলার কাটোয়ায় তাঁর বোনের বাড়ি বেড়াতে যান । দেশে তখন করোনার প্রভাব পড়তে শুরু করায় কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে দেশ জুড়ে লকডাউনের ঘোষণা করা হয় । লকডাউনের তারিখটা ছিল ২০২০ সালের ২০ মার্চ । তার আগের দিন অনিমা মন্ডল নিজের বাড়িতে ফেরার উদ্যেশ্যে কাটোয়া থেকে বাসে চাপেন । তারপরে আর বাড়ি ফেরা হয়নি তাঁর ।

লক ডাউন শুরু হলেও বাড়ি না ফেরায় স্থানীয় ও কাটোয়া থানায় ‘নিখোঁজ’ ডাইরি করেন তাঁর পারিবারের সদস্যরা । বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও মায়ের কোন খোঁজ পাননি ছেলে অর্ণব । মাকে খুঁজে পাওয়ার হাল প্রায় ছেড়েই দিয়ে ছিল অর্ণবের পরিবার ।

রবিবার অর্ণব হঠাৎ গ্রামের সম্পর্কে দাদা সুজয় মণ্ডলের কাছে জানতে পারেন তাঁর মায়ের খোজ পাওয়া গিয়েছে । সুজয় ফোন করে জানায় তাদেরই গ্রামের এক যুবক, যিনি বর্তমানে খড়গপুর জিআরপিতে পুলিশে কর্মরত রয়েছেন গত কয়েকদিন আগে পুরুলিয়ার ( জয়পুর থানার পুন্দাগ মেলায়) ডিউটিতে আসেন । পুরুলিয়া স্টেশনের ৩ নম্বর প্লাটফর্মে রয়েছে এই জিআরপি অফিস । প্লাটফর্ম দিয়ে আসার সময় দেখতে পান অনিমা মন্ডল প্লাটফর্মে বসে রয়েছেন । তাঁকে দেখে চিনতে পারেন ওই পুলিশ কর্মী ।

তারপরেই তিনি মহিলার পরিচয় জানান জিআরপি আধিকারিককে । সঙ্গে সঙ্গে অনিমা দেবীর ছবি তুলে গ্রামের যুবক সুজয়কে পাঠান তিনি । সুজয় অর্ণবকে সেই ছবি দেখানোর পর মাকে চিনতে পারেন ছেলে । সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি করে পুরুলিয়ায় আসেন তিনি । প্রথমে ছেলেকে চিনতে না পারলেও পরে ছেলেকে চিনতে পারেন অনিমা দেবী । পারিবারের লোকজনের সাথে ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমে কথাও বলেন অনিমা দেবী । তারপরেই মাকে নিয়ে বাড়ী ফেরেন ছেলে ।

অর্ণব বলেন মাকে ফিরে পাওয়ার আসা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম; নতুন করে ফিরে পেলাম।পুলিশের সহযোগিতা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন মায়ের একটু মানসিক সমস্যা রয়েছে। যদিও যখন তার মা, মাসির বাড়ী গিয়ে ছিলেন তখন কোনো সমস্যা ছিল না।
অনিমা দেবীও খুশী পরিবারকে ফিরে পাওয়ায়। বাড়ী যেতে চান।
পুরুলিয়া জিআরপি আধিকারিক বলেন খুব ভালো লাগছে মহিলা তার বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। আমাদের এক কর্মী মহিলাকে চিনতে পারে। তারপরেই তার বাড়িতে যোগাযোগ করা হয়।

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube