ভারতে চিকিৎসা করাতে এসে ‘নিখোঁজ’ বাংলাদেশী সাংসদ! চলছে খুনের জল্পনা!

চিকিৎসার জন্য গত ১৩ ই মে কলকাতায় আসেন সাংসদ আনোয়ারুল  আজিম । বুধবার সকালে নিউ টাউনের অভিজাত আবাসনের মধ্যে রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যায় । শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সাংসদের ব্যবহার করা গাড়ির খোঁজ মিলেছে । পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় বাংলাদেশের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও খবর, এই ঘটনায় বাংলাদেশের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে । সেই আটক ব্যক্তির স্বীকারোক্তিতে রহস্য আরও বেড়েছে ।

সূত্রের খবর, ২ মে সন্ধ্যায় বরাহনগরে তাঁর পুরনো বন্ধু গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে যান আনোয়ারুল আজিম । রাতেও সেখানেই ছিলেন তিনি । পরদিন ডাক্তার দেখানোর জন্য বের হন । তারপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি । ১৩ তারিখ দুপুরে ডাক্তার দেখাবেন বলে বাড়ি থেকে বেরনোর পর গোপাল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে একটু দূরে একটি স্কুলের সামনে গোপালের এক পরিচিত তাঁকে একটি গাড়িতে তুলে দেন । সেই গাড়িতে চালক ছাড়াও একজন ছিলেন । যে গাড়িতে তিনি উঠেছিলেন সেটিকে নিউটাউন এলাকায় ট্রেস করা যায় । তবে গাড়িতে থাকা সেই তৃতীয় ব্যক্তিটি কে, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে ।

১৩ মে ডাক্তার দেখানোর জন্য বের হওয়ার পর গোপাল বিশ্বাসের মোবাইলে আনোয়ারুলের একটি মেসেজ আসে । সেখানে জানানো হয়, দিল্লি চলে যাচ্ছেন আনোয়ারুল । সেখানে পৌঁছে তিনি যোগাযোগ করবেন । ফোন করার দরকার নেই । এরপর ১৫ মে আনোয়ারুলের ফোন থেকে আরও একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসে । সেখানে আনোয়ারুলের দিল্লি পৌঁছনোর কথা জানানো হয় । পাশাপাশি বলা হয়, তাঁর সঙ্গে ভিআইপিরা আছেন । ফোন করার দরকার নেই । এই একই মেসেজ আনোয়ারুল আজিমের নম্বর থেকে বাংলাদেশে তাঁর বাড়ির লোকজন এবং ব্যক্তিগত সহকারীর কাছেও যায় ।

এরপর ১৬ মে আনোয়ারুলের নম্বর থেকে তাঁর আপ্তসহায়ক আবদুর রউফের নম্বরে একটি ফোন আসে । কিন্তু সেই ফোন কলটি তিনি ধরতে পারেননি । পরে কলব্যাক করলে আর আনোয়ারুলের ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি । ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ।

বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তদন্ত শুরু করে । পরে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন তারা । বরাহনগরে মিসিং ডাইরিও করা হয় । অন্যদিকে, নিউ টাউনের সানজিবা গার্ডেন আবাসনে ফ্ল্যাট এর মধ্যে রক্তের দাগ পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যায় । সেই রক্তর নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশ । একই সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ । ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। পাশাপাশি তদন্ত চালিয়ে যাবে আইবি ও এসটিএফ । ব্যারাকপুর থানার পুলিশ এবং বিধান নগর পুলিশ কমিশনার, আইপিএস আধিকারিকরা পৌঁছন ঘটনাস্থলে ।

চিকিৎসার জন্য পশ্চিমবঙ্গে এসে নিখোঁজ হয়ে যান আনোয়ারুল আজিম । টানা ৯ দিন কোনও খোঁজ মেলেনি তাঁর । এরপরই সামনে আসে ঝিনাইদহ-৪ নম্বরের সাংসদ আনোয়ারুল আজিমের ব্যক্তিগত সহকারী এবং বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য । বাংলাদেশী সাংসদের কলকাতায় খুন হওয়ার বিষয়টি এক প্রকার নিশ্চিত করেন তাঁরা । উল্লেখ্য, আজিম বাংলাদেশের আওয়ামি লিগের তিনবারের সাংসদ । এখন ঘটনা কোন দিকে মোড় নেয় সেই দিকে নজর রয়েছে দুই দেশেরই । 

নিউজ টাইম চ্যানেলের খবরটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।
Inform others ?
Share On Youtube
Show Buttons
Share On Youtube
Hide Buttons
Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial
Facebook
YouTube