সন্দেশখালির বিজেপি নেত্রী পিয়ালি দাসকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁকে জামিন দিলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আদালতের নির্দেশে রাজ্যের বড় ধাক্কা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। আগামী মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়। সন্দেশখালির বিজেপি নেত্রী পিয়ালি দাসের আইনজীবী সওয়াল করেন, ‘গত ৭ তারিখ অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর রুজু করা হয়। ৯ মে পিয়ালি দাসের বাড়ির বাইরে নোটিস লাগিয়ে আসে পুলিশ। সেখানে জামিন অযোগ্য ধারা ছিল না। ওইদিনই ১৯৫ (এ) ধারা যুক্ত করার আবেদন জানানো হয় এবং নিম্ন আদালত এই ধারা যুক্ত করার অনুমতি দেয়। গত ১৪ মে পিয়ালি দাস আত্মসমর্পণ করতে গেলে তাঁকে জামিন অযোগ্য ধারার কথা বলে গ্রেফতার করা হয়।‘
বিচারপতি রাজ্যের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, ‘কার মাথা এর পিছনে কাজ করছে? পরিকল্পনাই বা কার?’ আদালতের কথায়, পিয়ালি দাসকে অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়া উচিৎ। আদালতে আত্মসমর্পণ করেই জামিনের আবেদন করেছিলেন সন্দেশখালির বিজেপি নেত্রী। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন পিয়ালি। এদিন হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত নতুন করে নিম্ন আদালতে কোনও মামলা করতে পারবে না পুলিশ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকেই সন্দেশখালি ইস্যুতে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। শেখ শাহজাহান ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, মারধরের মত বিস্ফোরক অভিযোগ। কয়েকদিন আগেই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয়েছে পিয়ালি দাস সাদা কাগজে সই করিয়ে মহিলাদের দিয়ে মিথ্যে ধর্ষণের অভিযোগ করিয়েছেন। এরপরই বিজেপি নেত্রীকে নোটিস পাঠায় পুলিশ। মঙ্গলবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন পিয়ালি। জামিন না মেলায় এই ঘটনার জল গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। পিয়ালির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরে জামিন অযোগ্য ধারায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল আদালত। বাকি ধারার ক্ষেত্রে পুলিশি নজরদারিতে তদন্ত চলবে। আগামী ১৯ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

