চাকরি বাতিল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় বিরোধীরা। তাঁদের ‘চাকরিখেকো বাঘ’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। মঙ্গলবার কল্যাণীতে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে গিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে কেন্দ্রের মোদী সরকারকেও তোপ দাগেন তিনি।
এদিনের নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষখেকো বাঘ শুনেছেন, চাকরিখেকো বাঘ শুনেছেন? আমরা যাকেই চাকরি দিচ্ছি, তখনই আদালতে একটা মামলা করে বাংলার সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি চাকরিখেকো বাঘ হয়ে চাকরিগুলো খেয়ে নিচ্ছে। এরইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, এক্ষেত্রে দিল্লির কংগ্রেস নয় বাংলার কংগ্রেসের কথা বলছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘কাজ দেওয়ার ক্ষমতা নেই, কিল মারার গোসাই।‘ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, আমরা প্রথম দিন থেকে জানিয়ে আসছি আমরা শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে আছি। রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে তাঁদের পাশে থাকবে।‘
চাকরি বাতিলের ইস্যুতে প্রাক্তন সাংসদ তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নাম না করে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বলেন, ‘তিনি যখন কলকাতার মেয়র ছিলেন হাজার হাজার জন্মের শংসাপত্র ইস্যু করেছিলেন যারা জন্মায়ইনি। কিন্তু বদলা নয় বদল চাই নীতি মেনে ক্ষমা করে দিয়েছিলাম।‘ সন্দেশখালিকাণ্ড নিয়েও সিপিএম-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গত এপ্রিল মাসের শুরুতেই প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের মামলার শুনানি হয় হাইকোর্টে। ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও চাকরিহারাদের একাংশ। শীর্ষ আদালত এই মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। যোগ্য-অযোগ্যদের বাছাই করা সম্ভব হলে সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করা অনুচিত হবে বলেও জানায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আগামী ১৬ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ততদিন পর্যন্ত যোগ্য ও অযোগ্য সকলের চাকরি বহাল থাকবে বলে জানায় শীর্ষ আদালত।
- সন্দেশখালি দুর্ঘটনায় মামলা দায়ের ন্যাজাট থানায়, অভিযুক্ত ৮ - December 11, 2025
- ইন্ডিগোর সমস্যা নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস - December 8, 2025
- সংসদে কংগ্রেসকে নিশানা নরেন্দ্র মোদীর - December 8, 2025

